রাত ১১টা বাজলেই ‘মোহর’-এ বাজত ঝুমুর, আসতেন নর্তকী ও অপ্সরারা! ইন্দ্রনীল সেনের বিলাসবহুল বাগানবাড়ি ও সুইমিং পুলে রাতের অন্ধকারে কী কী হতো? গায়ক গ্রেপ্তার হতেই মুখ খুললেন, কী বলছেন সিঙ্গুরের বাসিন্দারা? প্রাক্তন মন্ত্রীর কীর্তিতে ছিছিক্কার নেটপাড়ায়!

পুজোর পাস বিক্রির নামে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর গ্রেফতারির পরেই তাঁকে ঘিরে আরও নানা অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যেই সিঙ্গুরে তাঁর বিলাসবহুল বাগানবাড়ি ‘মোহর’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ওই বাগানবাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপিকর্মীরা। বিক্ষোভের সময় এক ব্যক্তিকে ইন্দ্রনীল সেন সাজিয়ে তাঁর কোমরে দড়ি বাঁধা হয়। প্রাক্তন মন্ত্রীর ছবিতে ‘চোর ধরা পড়েছে’ লেখা জুতোও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, দুর্নীতির মাধ্যমে পাওয়া কোটি কোটি টাকার অর্থেই এই বাগানবাড়ি তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, শুধু ইন্দ্রনীল নন, এই ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

সিঙ্গুরের বাগডাঙা ছিনামোর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে ইন্দ্রনীলের এই বাগানবাড়ি। স্থানীয়দের দাবি, বেশ বড় এলাকা জুড়ে তৈরি এই বাড়ির ভিতরে রয়েছে সুইমিং পুল। এছাড়াও সেখানে রয়েছে একটি নাচমহল, যেখানে নিয়মিত আমোদ প্রমোদের আয়োজন হত বলে অভিযোগ তাঁদের। এক স্থানীয় বাসিন্দা সেই রাতের পরিবেশের কথা বলতে গিয়ে বেশ কিছু দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, রাত ১১টা বাজলেই ওই বাড়ির ভিতর থেকে ঝুমুর গানের আওয়াজ ভেসে আসত। তিনি দাবি করেন, সেই সময় নর্তকী এবং ‘অপ্সরারা’ সেখানে আসতেন। বাসিন্দাটির বক্তব্য, গ্রামের মানুষ সাধারণত রাত ৯টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন। তারপরেই লালবাতি জ্বালিয়ে নেতা-মন্ত্রীরা ওই বাগানবাড়িতে আসতেন বলে তাঁর দাবি। এরপর সেখানে আমোদ প্রমোদ চলত বলেও অভিযোগ করেছেন ওই বাসিন্দা।

ইন্দ্রনীলের এই বাগানবাড়ি ঘিরে শুধু রাতের আসর নিয়ে নয়, আরও কিছু অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বাগানবাড়ি তৈরি করার সময় এলাকার নিকাশি ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগ, নিকাশি বন্ধ করে পঞ্চায়েতে টাকা দিয়ে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে স্থানীয় এলাকার স্বাভাবিক ব্যবস্থায় প্রভাব পড়েছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে। বাগানবাড়ি তৈরির জন্য জমি নেওয়ার বিষয়েও স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, সিঙ্গুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রী বেচারাম মান্নার ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেতা জমি নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করেছিলেন। এই বিষয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এগুলি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং দাবির ভিত্তিতে প্রকাশিত তথ্য। এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর সিঙ্গুরের বাগানবাড়িকে ঘিরে এই অভিযোগগুলি সামনে আসায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগে থেকেই ‘মোহর’ নামে পরিচিত এই বাগানবাড়ির ভিতরের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা কথা চালু ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এবার প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেফতারির পর সেই পুরনো অভিযোগগুলিই প্রকাশ্যে আনছেন বাসিন্দাদের একাংশ। বিশেষ করে রাতের বেলায় বাগানবাড়িতে গানবাজনা এবং অতিথিদের আসা যাওয়া নিয়ে তাঁদের বক্তব্য সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বাগানবাড়ি তৈরির পদ্ধতি এবং জমি নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজেপিকর্মীদের বিক্ষোভের মধ্যেই এই অভিযোগগুলি আরও প্রকাশ্যে আসে। তাঁদের দাবি, গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। শুধু একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না, আরও যাঁরা জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা দরকার বলে দাবি তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে ‘মোহর’ বাগানবাড়িকে ঘিরে স্থানীয়দের অভিযোগ এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে।

আরও পড়ুনঃ “পাপের ফল এই জন্মেই ভোগ করতে হবে, অতিরিক্ত লোভেই আজ এই পরিণতি…আমি খুব খুশি” মমতা সরকারের আমলে চাকরি বিক্রির মতো মঞ্চ বিক্রি করতেন, প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও যোগ্যদের সরকারি অনুষ্ঠান থেকেও দূরে রাখা হতো? ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারিতে ফের বি*স্ফোরক ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়! এবার অভিযোগ গায়িকা?

ইন্দ্রনীল সেনকে পুজোর পাস বিক্রির ক্ষেত্রে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কোটি কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠতা কতটা ছিল, সেই প্রশ্নও উঠছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির পরেই সিঙ্গুরের বাগানবাড়ির সামনে বিক্ষোভের ঘটনাও সেই আলোচনাকে আরও বাড়িয়েছে। বাগানবাড়ির ভিতরে কী ধরনের আয়োজন হত, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যও প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁদের দাবি, রাত গভীর হলে সেখানে ঝুমুরের আওয়াজ শোনা যেত এবং বাইরে থেকে লোকজন আসতেন। পাশাপাশি বাগানবাড়ি তৈরির সময় নিকাশি ও রাস্তা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। জমি নেওয়ার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের একাংশ। এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে।

You cannot copy content of this page