‘আমার প্রেম টেকার কোনও চান্স নেই!’ ‘নিজেকে নিয়েই খুশি’ বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের অকপট স্বীকারোক্তিতে চর্চা তুঙ্গে! কেন নিজের জীবন নিয়ে এমন মন্তব্য অভিনেতার? প্রেম কি সত্যিই তাঁর কাছে সমস্যা, প্রকাশ্যে আনলেন কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা?

বিনোদন জগতে পর্দার আড়ালে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবনেও লুকিয়ে থাকে নানা অজানা গল্প। পর্দায় তাঁদের প্রেম, রহস্যভেদ কিংবা নানা জটিল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে তাঁদের ভাবনাচিন্তা অনেকটাই আলাদা হতে পারে। কখনও ব্যক্তিগত জীবন, কখনও কাজের অভিজ্ঞতা, আবার কখনও প্রেম নিয়ে অকপট মন্তব্যে অনুরাগীদের চমকে দেন তারকারা। এবার নিজের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম এবং নতুন ছবির অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। প্রেম করলে কাজের ক্ষতি হয় না, বরং মন ভালো থাকে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। কিন্তু নিজের প্রেমের প্রসঙ্গ উঠতেই এমন এক মন্তব্য করলেন অভিনেতা, যা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে অনুরাগীদের মধ্যে।

বর্তমানে পরিচালক অরিন্দম শীলের আগামী ছবি ‘কলকাতা শারলক’-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত বিক্রম। এই ছবিতে তাঁকে জ্যোতিষ্ক নামে একটি চরিত্রে দেখা যাবে। তবে তিনি সরাসরি কোনও গোয়েন্দার ভূমিকায় অভিনয় করছেন না। বরং শারলক হোমসের প্রতি অত্যন্ত আকৃষ্ট এক ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। শারলককে নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে নিজের জীবন এবং শারলকের জীবনকে গুলিয়ে ফেলে জ্যোতিষ্ক। চরিত্রটির মনস্তত্ত্ব বুঝতে চিত্রনাট্য বারবার পড়েছেন বিক্রম। পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করার পাশাপাশি চরিত্রটির ব্যবহার, চিন্তাভাবনা এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়েও প্রস্তুতি নিয়েছেন অভিনেতা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১২ সালে প্রথম অরিন্দম শীলের কাছে অভিনয়ের সুযোগ চেয়েছিলেন বিক্রম। অবশেষে ২০২৬ সালে, দীর্ঘ ১৪ বছর অপেক্ষার পর পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলেন তিনি।

ছবির চরিত্রের পাশাপাশি নিজের প্রেমের ভাবনা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন বিক্রম। তাঁর মতে, প্রেমের সঙ্গে কাজের কোনও বিরোধ নেই। বরং প্রেমে পড়লে মানুষের মন ভালো থাকে এবং কাজে মনোযোগও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, প্রেম করলে কাজের ক্ষতি হবে, এমনটা বিশ্বাস করেন না অভিনেতা। কিন্তু তাঁর নিজের জীবনে প্রেমের প্রসঙ্গ উঠতেই মজার ছলে অন্য কথা শোনালেন বিক্রম। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি নিজেকে নিয়ে বড্ড বেশি মগ্ন। আমি খুব সেলফ অবসেসড। আমার কোনও প্রেম টেকার কোনও চান্স নেই। সেজন্য আমি নিজেকে নিয়ে খুব খুশি।” অভিনেতার এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, নিজের জীবন নিয়ে তিনি আপাতত বেশ সন্তুষ্ট। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনা, নাকি নিছক মজার ছলে বলা কথা, তা নিয়ে অনুরাগীদের মনে কৌতূহল থাকতেই পারে।

বাস্তব জীবনে নিজেকে খামখেয়ালি বলেও উল্লেখ করেছেন বিক্রম। তাঁর কথায়, তিনি নিজের জগতে থাকতে ভালোবাসেন এবং আশপাশের প্রতিটি ঘটনা খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দাগিরি করার অভ্যাস তাঁর নেই। যদিও জ্যোতিষ্কের চরিত্রটি ঠিক এর বিপরীত। অন্যদিকে, কলকাতা শহরের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব পেলে তিনি কী করবেন, সেই প্রশ্নেও নিজের ভাবনা ভাগ করে নেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য, পৃথিবীজুড়ে যুদ্ধ, অশান্তি এবং নানা সমস্যার কথা ভাবতে গেলে সেই চিন্তার শেষ নেই। তাই নিজের আশপাশের মানুষকে ভালো রাখা এবং তাঁদের মুখে হাসি ফোটানোই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এমনকী প্রেমের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক এবং মানসিকভাবে ভালো থাকার বিষয়টিও তাঁর কাছে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ রাত ১১টা বাজলেই ‘মোহর’-এ বাজত ঝুমুর, আসতেন নর্তকী ও অপ্সরারা! ইন্দ্রনীল সেনের বিলাসবহুল বাগানবাড়ি ও সুইমিং পুলে রাতের অন্ধকারে কী কী হতো? গায়ক গ্রেপ্তার হতেই মুখ খুললেন, কী বলছেন সিঙ্গুরের বাসিন্দারা? প্রাক্তন মন্ত্রীর কীর্তিতে ছিছিক্কার নেটপাড়ায়!

ছবির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বিক্রম জানান, ‘কলকাতা শারলক’-এ বর্তমান সময়ের কলকাতার পাশাপাশি ১৯০৫ সালের কলকাতাকেও তুলে ধরা হচ্ছে। ছবিতে একাধিক পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রী রয়েছেন। সহ-অভিনেতা বনি সেনগুপ্তের নতুন লুকও তাঁর বেশ পছন্দ হয়েছে বলে জানান বিক্রম। অন্যদিকে, নিজের প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্রের প্রসঙ্গে অভিনেতা ফেলুদার কথা বলেন এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ের প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা জানান। সব মিলিয়ে, নতুন ছবির রহস্যময় চরিত্র থেকে নিজের প্রেম নিয়ে অকপট স্বীকারোক্তি বিক্রমের এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা দিক। এখন দেখার, পর্দায় জ্যোতিষ্কের রহস্যভেদ দর্শকদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে।

You cannot copy content of this page