বিগ বস বাংলার ঘরে নন্দিনী দত্তকে ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। একের পর এক ঝামেলা, সহপ্রতিযোগীদের সঙ্গে অশান্তি এবং বিশেষ করে রাজবীর দে-র সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন দর্শকদের একাংশ। এর আগেও একাধিকবার সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁকে সতর্ক করেছিলেন। কোনও প্রতিযোগীর সঙ্গে ঝগড়া হলেও তাঁর মা-বাবা বা পরিবারের সদস্যদের সেই বিবাদের মধ্যে টেনে আনা যাবে না, স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন সঞ্চালক। শুধু তাই নয়, কোনও পরিস্থিতিতেই অন্য প্রতিযোগীর গায়ে হাত তোলা বা শারীরিকভাবে আঘাত করা মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছিল। কারণ বিগ বস একটি গেম শো, সেখানে প্রতিযোগীদের মধ্যে মতবিরোধ, ঝগড়া কিংবা তর্কবিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু সেই বিবাদ কখনও শারীরিক আক্রমণ বা মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ে পৌঁছনো উচিত নয়। রাগ, মাথা গরম কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতা, কোনও কারণেই অন্য প্রতিযোগীকে বারবার আক্রমণ করার অধিকার কারও নেই।
অথচ বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও নন্দিনীর আচরণে বিশেষ পরিবর্তন চোখে পড়ছে না। বিশেষ করে রাজবীরের সঙ্গে বিবাদের সময় তাঁকে একাধিকবার রাজবীরের গায়ে হাত তুলতে দেখা গিয়েছে। কখনও উত্তেজিত হয়ে ধাক্কা দেওয়া, কখনও হাত দিয়ে আঘাত করার মতো ঘটনায় নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছেন দর্শকরা। শুধু রাজবীরই নন, সাম্প্রতিক ঝামেলায় সৃজলা গুহর মা-বাবাকেও টেনে এনেছেন নন্দিনী। তাঁদের পারিবারিক বিষয় এবং মা-বাবার শিক্ষা নিয়েও মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। ফলে ব্যক্তিগত বিবাদকে কেন্দ্র করে অন্যের পরিবারকে অপমান করার অভিযোগও উঠছে। এর আগে একই ধরনের আচরণের জন্য সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন নন্দিনী। কিন্তু বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় এবার তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, বিগ বসের মতো একটি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোয়ে যদি এই ধরনের আচরণ চলতেই থাকে, তা হলে প্রতিযোগীদের জন্য নির্ধারিত নিয়মের গুরুত্ব কোথায়?
উল্লেখ্য, এর আগের সপ্তাহেই বিগ বসের ঘর থেকে নন্দিনীর বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁকে আরও একটি সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিগ বস কর্তৃপক্ষ। সরাসরি বাড়ি থেকে বের করে না দিয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল সিক্রেট রুমে। সেখানে টানা ৪৮ ঘণ্টা রাখা হয়েছিল নন্দিনীকে। এই সময়ের মধ্যে বাড়ির বাকি প্রতিযোগীরা তাঁর অনুপস্থিতিতে কী আলোচনা করছেন, তাঁর সম্পর্কে কী বলছেন এবং কী ভাবে নিজেদের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন, সবটাই দেখার সুযোগ পান তিনি। অর্থাৎ, বাড়ির বাইরে না গিয়েও অন্য প্রতিযোগীদের আসল মনোভাব বোঝার সুযোগ পেয়েছিলেন নন্দিনী। ৪৮ ঘণ্টা পর তাঁকে ফের বিগ বসের মূল বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। শুধু তাই নয়, ফেরার সময় তাঁকে কিছু বিশেষ ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছিল। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিগ বসের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, খেলায় নিজেকে শুধরে নেওয়ার জন্য এটাই তাঁর শেষ সুযোগ।
সিক্রেট রুম থেকে ফিরে নন্দিনীও জানিয়েছিলেন, এবার তিনি নিজের হাতে পাওয়া সুযোগের সঠিক ব্যবহার করবেন। তাঁর কথায়, এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অনেক কিছু বুঝতে পেরেছেন এবং নতুন করে খেলায় মন দিতে চান। ফলে দর্শকদের একাংশও ভেবেছিলেন, এবার হয়তো নন্দিনীর খেলায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাবে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা হয়নি বলেই অভিযোগ। বাড়িতে ফেরার পরের দিন থেকেই আবার পুরনো আচরণে ফিরে গিয়েছেন তিনি। রাজবীরের সঙ্গে সামান্য বিষয় নিয়েও উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন এবং একাধিকবার তাঁর গায়ে হাত তুলছেন। পাশাপাশি সৃজলার মা-বাবাকে নিয়ে মন্তব্যের ঘটনাও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। অর্থাৎ, বিগ বসের দেওয়া শেষ সুযোগ এবং ৪৮ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা থেকেও যে নন্দিনী বিশেষ শিক্ষা নেননি, এমনটাই মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। তাই এবার তাঁকে আর কোনও সুযোগ না দিয়ে সরাসরি বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে বিগ বস কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
আরও পড়ুনঃ মাঝরাতে দরজা, জানলায় অদ্ভুত শব্দ! ভূতে বিশ্বাস করেন না, কিন্তু মুর্শিদাবাদের সেই বাড়িতে কি সত্যিই অশরীরীর উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন লিলি চক্রবর্তী? শুটিং করতে গিয়ে কোন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী, যা আজও ভোলেননি?
এদিকে নন্দিনীর সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে টিভি নাইন বাংলার সাংবাদিক ভাস্বতী ঘোষের একটি সাম্প্রতিক সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট। উল্লেখ্য, বিগ বস বাংলা থেকে প্রতি সপ্তাহে কোন প্রতিযোগী বিদায় নিতে পারেন, সেই বিষয়ে ভাস্বতী নিজের সমাজমাধ্যমে আগাম ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন। তাঁর দেওয়া এই ইঙ্গিতের সঙ্গে পরবর্তী সময়ের ঘটনাও অনেক ক্ষেত্রে মিলে গিয়েছে বলে দাবি দর্শকদের একাংশের। এবারও তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টের বক্তব্যে এমন কিছু ইঙ্গিত রয়েছে, যা দেখে অনেকেই মনে করছেন, নন্দিনী দত্তকেই উদ্দেশ্য করে এই পোস্ট করা হয়েছে। যদিও পোস্টে সরাসরি নন্দিনীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে কি না, কিংবা তাঁর বিদায়ের বিষয়ে কোনও নিশ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবু ভাস্বতীর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তাহলে কি শেষ সুযোগ পেয়েও নিজের আচরণ বদলাতে না পারার মাশুল গুনতে হবে নন্দিনীকে? এই সপ্তাহেই কি পাকাপাকিভাবে বিগ বস বাংলার বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে তাঁকে? এখন সেই দিকেই নজর দর্শকদের।






