“মেয়েটা ছোট থেকে এগুলো দেখেই হয়তো বড় হয়েছে, এটা স্বভাব, বিকৃত মানসিকতা ছাড়া এরকম হয় না!” “রাজবীরের মতো ছেলেরা লজ্জায়, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ভয়ে প্রেমিকা বা স্ত্রীর হাতে নি*র্যাতিত হন দিনের পর দিন!” রাজবীরকে মা’রধরের ঘটনায় নন্দিনী ও তার মা-বাবাকে চাঁচাছোলা ভাষায় আয়না দেখালেন পুরুষ অধিকার কর্মী নন্দিনী ভট্টাচার্য!

আমাদের দেশে নারীর জন্য আইন আছে, কিন্তু পুরুষের জন্য নেই কেন? রাজবীর দিয়ে ও নন্দিনী দত্তের ঘটনায় আবারও জাগছে এই প্রশ্ন! বিগ বস বাংলার ঘরে রাজবীর দে-র সঙ্গে নন্দিনী দত্তের সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক আচরণ নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। রাজবীরের গায়ে বারবার হাত তোলার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত শো থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে নন্দিনীকে। এই ঘটনা সামনে আসার পরেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। প্রেমের সম্পর্কে একজন নারী বা পুরুষের গায়ে হাত তোলাকে কি সত্যিই স্বাভাবিক ঘটনা বলে মেনে নেওয়া যায়? বিশেষ করে সম্পর্কের মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত, উঠছে সেই প্রশ্নও। এবার এই বিতর্কে মুখ খুললেন পুরুষ অধিকার কর্মী নন্দিনী ভট্টাচার্য। আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, পুরুষদের উপর নারীদের নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। তবে বিগ বসের মতো জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোয়ে এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

নন্দিনী ভট্টাচার্যের কথায়, এত দিন ধরে পুরুষদের হাতে নারীদের নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা নিয়ে সমাজে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু নারীদের হাতে পুরুষদের নির্যাতিত হওয়ার বিষয়টি অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। পুরুষেরা নিজেদের সম্মান এবং আত্মসম্মানের কথা ভেবে অনেক ক্ষেত্রেই মুখ খুলতে পারেন না। অন্যদিকে, সমাজে মেয়েদের সাধারণত দেবীর আসনে বসিয়ে দেখা হয়। তাই কোনও নারী যে একজন পুরুষের গায়েও হাত তুলতে পারেন, সেই বাস্তবতা অনেকেই সহজে মেনে নিতে চান না। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে একটি পুরনো ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। একজন সিনিয়র সাংবাদিকের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে নন্দিনী বলেন, তাঁর নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ওই সাংবাদিক একবার তাঁকে জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় পাশের বাড়ির এক কাকিমা সামান্য লঙ্কা আনতে দেরি হওয়ার কারণে তাঁর স্বামীকে বেধড়ক মারধর করতেন। অর্থাৎ, পুরুষদের উপর নারীদের শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা বহু বছর ধরেই সমাজে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

নন্দিনী ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, নারী বা পুরুষ, যে-ই অন্যের গায়ে হাত তুলুন না কেন, কোনও অবস্থাতেই এমন আচরণকে সমর্থন করা যায় না। তাঁর মতে, দু’ধরনের নির্যাতনকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিন্তু এ দেশের আইনি ব্যবস্থায় পুরুষদের উপর নারীদের শারীরিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে আলাদা আইন না থাকায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের নির্যাতন রুখতে প্রয়োজনীয় আইন তৈরি হলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নির্যাতিত পুরুষেরাও নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে জানানোর সাহস পাবেন। আগামী ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। এই প্রসঙ্গে নন্দিনী জানিয়েছেন, পুরুষদের মাসে এমন একটি ঘটনা সামনে আসা তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একজন পুরুষের গায়ে হাত তোলার জন্য একজন নারীকে রিয়্যালিটি শো থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর এটুকু পরিবর্তনও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

রাজবীরের সঙ্গে নন্দিনীর সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে পুরুষ অধিকার কর্মী আরও জানিয়েছেন, অনেক পুরুষই প্রেমিকা বা স্ত্রীর হাতে দিনের পর দিন নির্যাতিত হন। কিন্তু লজ্জা, সামাজিক সম্মান এবং সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ভয় তাঁদের মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করে। ফলে অনেক সময় তাঁরা নিজেদের উপর হওয়া অন্যায়ের কথা কাউকে জানাতে পারেন না। রাজবীরের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। যদিও এই বিষয়ে তিনি নিজের অনুমানের কথাই জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিগ বসের ঘরে নন্দিনীর আচরণ নিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের বক্তব্যও ভালোভাবে নেননি নন্দিনী ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, মেয়ের আচরণকে সমর্থন করতে গিয়ে নন্দিনীর বাবা-মা এমন কিছু কথা বলছেন, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা নাকি এই ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক বলে ব্যাখ্যা করছেন। সেই বক্তব্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন পুরুষ অধিকার কর্মী।

আরও পড়ুনঃ “বাজি আমরা ফাটাব, বাজি ফাটালে দেখবেন অনেক অসুখ-বিসুখ চলে যায়”, “আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কালীপুজোয় বাজি তো হবেই!” বাজি ফাটালে রোগ সারে, পাপিয়া অধিকারীর মন্তব্যে তোলপাড়! “শব্দবাজি পোড়ালে ঠিক কোন কোন অসুখ কমে তালিকাটা যদি দাও” বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেত্রীকে একহাত নিলেন শ্রীলেখা মিত্র!

নন্দিনী ভট্টাচার্যের কথায়, মেয়ের গায়ে হাত তোলার ঘটনাকে স্বাভাবিক বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে আরও বড় প্রশ্ন সামনে আসে। তিনি জানতে চেয়েছেন, ছোটবেলা থেকে নন্দিনী কী ধরনের পারিবারিক পরিবেশ দেখে বড় হয়েছেন? তাঁর মতে, এ ধরনের আচরণকে সাধারণ ভুল বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি মনে করেন, এর পিছনে মানসিকতার বিষয়টি রয়েছে এবং এমন আচরণকে প্রশ্রয় দিলে ভবিষ্যতেও তা আবার ঘটতে পারে। সেই কারণেই নন্দিনীর বাবা-মায়ের বক্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। পুরুষের উপর নারীর শারীরিক নির্যাতনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং নির্যাতিত পুরুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই অধিকার কর্মী। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসার জায়গায় কখনও শারীরিক আঘাতের কোনও স্থান থাকতে পারে না। রাজবীরের সঙ্গে নন্দিনীর সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাই শুধু একটি রিয়্যালিটি শোয়ের বিতর্ক নয়, বরং সম্পর্কের মধ্যে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার এবং নির্যাতনের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

You cannot copy content of this page