মায়ের কাছে ধনী-দরিদ্র বা ভিআইপি-সাধারণের কোনও ফারাক নেই, সব সন্তানই সমান, আবারও প্রমাণ করলেন অরিজিৎ সিং! বিশেষ সুবিধা ছেড়ে সাধারণ ভক্তদের মতোই কিনলেন পুজোর সামগ্রী, ভক্তদের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়েই করলেন মা কামাখ্যার আরাধনা! ফের মন জিতলেন গায়ক!

অরিজিৎ সিং মানেই অনুরাগীদের কাছে এক আলাদা আবেগ। তাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ আট থেকে আশি, দেশ থেকে বিদেশ সর্বত্রই রয়েছে তাঁর অসংখ্য ভক্ত। তবে শুধু গান নয়, তাঁর সাধারণ জীবনযাপনও বারবার মানুষের নজর কাড়ে। তারকা হয়েও বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন এই গায়ক। নাম, যশ এবং জনপ্রিয়তা কোনও কিছুই যেন তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাপনে প্রভাব ফেলতে পারেনি। কখনও স্কুটিতে চেপে পাড়ার বাজারে ঘুরতে দেখা যায় তাঁকে, আবার কখনও রাস্তার ধারের ছোট চায়ের দোকানে বসে চা খেতে দেখা যায়। এবার পরিবারের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারত সফরে গিয়ে অসমের গুয়াহাটিতে মা কামাখ্যার মন্দিরে হাজির হলেন অরিজিৎ। সেখানেও তাঁর পরিচিত সাদামাটা স্বভাবের অন্যথা হল না।

গুয়াহাটির বিখ্যাত কামাখ্যা মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে কোনও রকম ভিআইপি সুযোগ-সুবিধা নেননি অরিজিৎ। সাধারণ পুণ্যার্থীদের মতোই মন্দিরের কাছের একটি ছোট দোকানে গিয়ে পুজোর সামগ্রী কেনেন তিনি। নিজের হাতে ফুল এবং ধূপকাঠি নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন গায়ক। এরপর নিয়ম মেনে মা কামাখ্যার কাছে পুজো দেন এবং আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। সাধারণত কোনও জনপ্রিয় তারকা মন্দিরে গেলে তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অরিজিৎ সেই পথে হাঁটেননি। অন্য পুণ্যার্থীদের মতোই সাধারণভাবে মায়ের দর্শন করেন তিনি। প্রিয় গায়ককে এ ভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে পুজো দিতে দেখে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে অরিজিৎকে মন্দির চত্বরে দেখতে পেয়েই তাঁকে ঘিরে ভিড় জমাতে শুরু করেন অনুরাগীরা। অনেকেই প্রিয় গায়ককে একবার কাছ থেকে দেখার জন্য এগিয়ে আসেন। কেউ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান, আবার কেউ ছবি তোলার আবদার জানান। তবে কাউকেই নিরাশ করেননি অরিজিৎ। হাসিমুখে অনুরাগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সঙ্গে ছবি তোলেন। তাঁর এই সহজ ব্যবহার উপস্থিত মানুষের মন জয় করে নেয়। পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে আসেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা। তবে ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যেও নিজের স্বাভাবিক আচরণ বজায় রেখেছিলেন গায়ক। তারকা পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এ ভাবে মিশে যাওয়ার অভ্যাসই বরাবর তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারত সফরে রয়েছেন অরিজিৎ। গত কয়েক দিন ধরেই অসমের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গিয়েছে তাঁকে। গত বৃহস্পতিবার কার্বি আংলং জেলার বোকোলিয়াঘাটে কিছুক্ষণের জন্য থেমেছিলেন গায়ক। ডিমাপুরের দিকে যাওয়ার পথেই সেখানে বিরতি নেন তিনি। সেই সময় কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন অরিজিৎ। তাঁদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবিও তোলেন। পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত অনুরাগীদের আবদারও মেটান তিনি। গায়কের এমন সহজ ব্যবহার দেখে খুশি হন স্থানীয় মানুষজন। কোনও বিশেষ আয়োজন ছাড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো যেন তাঁর স্বভাবেরই অংশ। এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় তাঁর এমন সাধারণ জীবনযাপনের ছবি সামনে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ “মেয়েটা ছোট থেকে এগুলো দেখেই হয়তো বড় হয়েছে, এটা স্বভাব, বিকৃত মানসিকতা ছাড়া এরকম হয় না!” “রাজবীরের মতো ছেলেরা লজ্জায়, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ভয়ে প্রেমিকা বা স্ত্রীর হাতে নি*র্যাতিত হন দিনের পর দিন!” রাজবীরকে মা’রধরের ঘটনায় নন্দিনী ও তার মা-বাবাকে চাঁচাছোলা ভাষায় আয়না দেখালেন পুরুষ অধিকার কর্মী নন্দিনী ভট্টাচার্য!

প্রসঙ্গত, অরিজিৎ সিংয়ের সাধারণ জীবনযাপনের নানা মুহূর্ত আগেও অনুরাগীদের নজর কেড়েছে। কখনও নিজের শহর জিয়াগঞ্জে স্কুটি চালিয়ে ঘুরতে দেখা যায় তাঁকে, কখনও আবার রাস্তার ধারের ছোট দোকানে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দেখা যায়। জনপ্রিয়তার শিখরে থেকেও সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটানোর এই অভ্যাস তাঁর অনুরাগীদের কাছে বরাবরই বিশেষ আকর্ষণের বিষয়। এবার কামাখ্যা মন্দিরে কোনও ভিআইপি সুবিধা না নিয়ে সাধারণ পুণ্যার্থীদের মতো পুজো দেওয়ার ঘটনাও সেই পরিচয়কে আরও একবার সামনে আনল। পরিবারের সঙ্গে অসম সফরের মাঝেই মায়ের দর্শন করতে গিয়ে ভক্তদের সঙ্গেও সময় কাটালেন তিনি। অরিজিতের এই সফরের ছবি ও মুহূর্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

You cannot copy content of this page