“ভুলেও চেষ্টা করবেন না, বেশি মাতব্বরি করলে কপালে দুঃখ আছে…” বাংলায় পালাবদলের পর সরকার গড়ছে বিজেপি! নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে, কার উদ্দেশ্যে এই কড়া হুঁশিয়ারি অভিনেতা সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের?

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিপাড়ার কাজের পরিবেশ নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিজেপি সরকার এলে বিনোদন জগতে নতুনভাবে কাজ হবে, এমন আশ্বাস ইতিমধ্যেই দলের বিভিন্ন প্রতিনিধিদের মুখে শোনা যাচ্ছে। এই আবহেই টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে জিতে নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। তিনি পরাজিত করেছেন তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাসকে। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই টালিগঞ্জ ও টলিউডে প্রশাসনিক বদল, সংগঠনের ভবিষ্যৎ এবং শিল্পীদের কাজের সুযোগ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। এর মধ্যেই অভিনেতা সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Suman Banerjee) একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকায় পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সুমন নিজের পোস্টে লিখেছেন, “খুব দায়িত্ব নিয়ে হাতজোড় করে বলছি, আপনার যত বড় নামই হোক না কেন, আপনি যত বড় ব্যক্তিত্বই হন না কেন, আপনার সংস্থা বা সংস্থার লোকজনরা যতই ওয়েল কানেক্টেড হন না কেন, ইন্ডাস্ট্রিতে আসুন, কাজ করুন, বাড়ি চলে যান।” এরপর আরও কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “যারা এত দিন মাতব্বরি করেছেন এবং ইন্ডাস্ট্রির এই হাল করেছেন, দয়া করে স্বপ্নেও আর মাতব্বরি করার কথা ভাববেন না বা ভুলেও চেষ্টা করবেন না!” এখানেই থেমে না থেকে তিনি যোগ করেন, “তা হলে কিন্তু কপালে দুঃখ আছে, আগেই জানিয়ে রাখলাম।”

পোস্টের শেষাংশে সুমনের বক্তব্য, “বাংলা ইন্ডাস্ট্রি চালাবে ইন্ডাস্ট্রির লোকজনেরাই।” এই মন্তব্য ঘিরে টলিপাড়ায় নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, টলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কাজের পরিবেশ অনেক সময় জটিল হয়ে উঠেছে। তাই শিল্পী মহলের একাংশ মনে করছেন, ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে রাজনীতি না ঢোকাই ভালো। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “টলিপাড়ায় রাজনীতি কেন ঢুকবে?” এই মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। অনেকের মতে, শিল্প, সিনেমা ও কাজের জায়গায় দলীয় বিভাজনের বদলে দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ভোটের ফলের পর সেই দাবিই আরও জোরালো হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি ঘনিষ্ঠ অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা দাবি করেছেন, নতুন পরিস্থিতিতে সব রাজনৈতিক মতের শিল্পীরাই সমানভাবে কাজের সুযোগ পাবেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও ধরনের ‘ব্যান’ সংস্কৃতি থাকবে না। কেউ কোন দলকে সমর্থন করেন, তা দেখে কাজ আটকে দেওয়া হবে না বলেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকেও অনেকে সেই একই বার্তার অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি বহুদিন ধরেই গেরুয়া শিবিরের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তাই তাঁর পোস্টকে শুধু ব্যক্তিগত মত নয়, শিল্পীমহলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের অবস্থান বলেও মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ গেয়ে কাঁপিয়েছিলেন তৃণমূলের মঞ্চ, রাজ্যে পালা বদল হতেই এবার সেই ইমন চক্রবর্তী গান গাইবেন গেরুয়া শপথে? মমতা ঘনিষ্ঠ গায়িকা এবার বিজেপি সরকারকে করলেন আপন?

এদিকে টলিউডের আর এক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন ইমপা নিয়েও উত্তেজনা বেড়েছে। কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবি এবং সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগের দাবিতে আজও বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর আগেই বিজেপি সমর্থকরা ইমপা কার্যালয়ে গিয়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণের কর্মসূচি করেছিলেন, যা নিয়েও যথেষ্ট আলোচনা হয়েছিল। সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর টলিপাড়াতেও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। আগামী দিনে সংগঠন, কাজের পরিবেশ এবং নেতৃত্বে কী পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই নজর সবার।

You cannot copy content of this page