বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তম কুমার এমন এক নাম, যাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক অনন্য আবেগ। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, হাসি এবং পর্দায় তাঁর উপস্থিতি সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার ‘মহানায়ক’। তাঁর অভিনীত অসংখ্য সিনেমা আজও দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয়। শুধু একজন সফল অভিনেতা হিসেবেই নয়, বাংলা বিনোদন জগতের সংস্কৃতি ও দর্শকের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর নাম। তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবন বাংলা চলচ্চিত্রকে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল, যার প্রভাব আজও স্পষ্ট। উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা যে কতটা তীব্র ছিল, তা নিয়ে নতুন করে বলার প্রয়োজন হয় না।
তাঁর এক ঝলক দেখার জন্য স্টুডিও থেকে শুটিংয়ের জায়গা সর্বত্র ভিড় জমে যেত। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা অনুরাগীদের মধ্যেও তাঁকে ঘিরে ছিল প্রবল উন্মাদনা। এবার সেই সময়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে এমন কিছু ঘটনা, যা উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তার তীব্রতা সম্পর্কে নতুন করে ধারণা দেয়। অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি সময়ের নানা অজানা বা কম আলোচিত স্মৃতি তুলে ধরতেও দেখা যায় তাঁকে। সম্প্রতি এমনই এক সাক্ষাৎকারে উত্তম কুমারকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পুরনো দিনের একাধিক ঘটনা স্মরণ করেন রত্না।
তাঁর কথায়, উত্তম কুমার যেখানে যেতেন, সেখানেই অনুরাগীদের ভিড় জমে যেত। এমনকি স্টেজে তাঁকে দেখতে আসা দর্শকদের উন্মাদনার কারণেই অনেক সময় তিনি স্বাভাবিকভাবে বসে অনুষ্ঠান দেখতে পারতেন না। রত্না ঘোষালের কথায়, উত্তম কুমার স্টুডিওতে এলেই খবর ছড়িয়ে পড়ত এবং বড় বড় পরিবারের মহিলা সদস্যরাও তাঁকে ঘিরে ফেলতেন। তাঁরা ‘উত্তমদা’ বলে তাঁর পেছন পেছন ঘুরতেন, কেউ কেউ তাঁকে জড়িয়ে ধরতেন। রত্নার দাবি, উত্তম কুমার নিজে এসব বিষয়কে প্রশ্রয় দিতেন না এবং অনেককেই সরাসরি কিছু বলতে না পারলেও পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করতেন। অভিনেত্রীর কথায়, উত্তম কুমারের হাসি এবং ব্যক্তিত্ব এমনই আকর্ষণীয় ছিল যে শুধু মহিলারাই নন, পুরুষ অনুরাগীরাও তাঁর প্রতি মুগ্ধ ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ এনসিপিআই ছেড়ে কি ফের ‘কালীঘাট তৃণমূল’? দিল্লির বৈঠকের পর বিদ্রো’হী শিবিরের নেতা ও সাংসদদের ‘ঘর ওয়াপসি’ নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখনই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মুখ খুললেন দেব! আবার মমতার হাত ধরবেন, কী বললেন অভিনেতা-সাংসদ?
সবচেয়ে চমকপ্রদ স্মৃতি হিসেবে রত্না জানান, একবার উত্তম কুমার পান খেয়ে কিছুটা ফেলে দিয়েছিলেন এবং একজন মহিলা অনুরাগী সেই পান কুড়িয়ে খেয়েছিলেন এমন ঘটনাও তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, একজন মানুষকে যদি সারাক্ষণ ভক্তরা ঘিরে রাখেন, এমনকি ব্যক্তিগত পরিসরেও ঢুকে পড়েন, তাহলে সেই পরিস্থিতি সামলানো তাঁর পক্ষেও কঠিন। রত্না বলেন, উত্তম কুমারও শেষ পর্যন্ত একজন মানুষ ছিলেন; তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তার সঙ্গে যে অতিরিক্ত আবেগ ও উন্মাদনা জড়িয়ে ছিল, সেটিও তাঁকে একজন মানুষ হিসেবে সামলাতে হত। তাঁর এই স্মৃতিচারণ তাই শুধু উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তার ছবি তুলে ধরে না, বরং মহানায়কের ব্যক্তিজীবনে সেই তারকাখ্যাতির কী ধরনের প্রভাব পড়ত, তারও এক অন্যরকম আভাস দেয়।






