এনসিপিআই ছেড়ে কি ফের ‘কালীঘাট তৃণমূল’? দিল্লির বৈঠকের পর বিদ্রো’হী শিবিরের নেতা ও সাংসদদের ‘ঘর ওয়াপসি’ নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখনই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মুখ খুললেন দেব! আবার মমতার হাত ধরবেন, কী বললেন অভিনেতা-সাংসদ?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একাধিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। টলিউডের বহু পরিচিত মুখও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের বিদ্রোহী নেতা ও সাংসদরা নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ এনসিপিআই বা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন তারকাকে ঘিরে জল্পনা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিনেতা ও সাংসদ দেবকে নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তিনি ঠিক কোন রাজনৈতিক শিবিরে রয়েছেন, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও উত্তর সামনে আসেনি।

বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরে দেবকে দেখতে পান সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। সেই সময় তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, তিনি এনসিপিআইয়ের সঙ্গে রয়েছেন, নাকি তথাকথিত ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সঙ্গেই আছেন। তবে এই প্রশ্নের উত্তরে কোনও মন্তব্য করেননি অভিনেতা। তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া না দিয়েই সেখান থেকে চলে যান। তাঁর এই নীরবতা ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, দেবের এই অবস্থান ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও কৌতূহল তৈরি করেছে। যদিও তাঁর তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ পুরনো দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে খবর। সেই কারণেই অভিনেতা-সাংসদ দেবের নামও বারবার আলোচনায় উঠে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের একটি বৈঠকে দেব উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে বিস্তর জল্পনা তৈরি হয়। যদিও এই ঘটনাগুলির পরও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি তিনি।

এর আগেও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানকে কেন্দ্র করে দেবের মন্তব্য যথেষ্ট আলোচনায় এসেছিল। জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেই বৈঠক শেষে দেব বলেছিলেন, “মমতা ব্যানার্জির হাত দিয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান শুরু হয়েছিল। কিন্তু আমার মনে হয়, শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে এটা শেষ হবে। আমি বহু বছর ধরে এই নিয়ে লড়াই করছি। এবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন। আমি সাংসদ হিসেবে কথা বলেছি, উনি আশ্বাস দিয়েছেন এবার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান হবে।” তাঁর এই মন্তব্য সেই সময় রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল।

সেই একই বক্তব্যে দেব আরও বলেন, “আমি সব সময় সৌজন্যের রাজনীতি করে এসেছি। আমি আজ পর্যন্ত আমার মঞ্চ থেকে কাউকে অপমান করিনি। ২০১৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত আমি এমন কোনও কাজ করিনি, যাতে আমায় আক্রমণ করা হবে। মমতা ব্যানার্জির পাশে আছি, উনি যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন আমি আছি ওঁর সঙ্গে। নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না। শুধুমাত্র শুভেন্দুদা কথা দিয়েছেন এবার কাজ হবে, আস্থা রাখছি।” তাঁর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থনের কথা উঠে এসেছিল, অন্যদিকে উন্নয়নের স্বার্থে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছার কথাও স্পষ্ট করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “আমার এক মুস’লিম স্ত্রীকে নিয়ে আমেরিকা গিয়েছিলাম…হাতা যেন থালায় না লাগে, ওঁকে ৫ ফুট ওপর থেকে খাবার পরিবেশন করেছিল!” বাঙালি পরিবারে নিমন্ত্রণের অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন কবীর সুমন! ‘একটা মুস’লিম স্ত্রী মানে, কতজন আছে এরকম?’ ‘আপনি ভুল বলছেন, ওটা মহাকাশ থেকে দিয়েছিল, নিজের চোখে দেখেছিলাম!’ ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নেটপাড়ায় শুরু তুমুল আলোচনা!

এছাড়াও দেব জানিয়েছিলেন, “ঘাটালের মানুষের স্বপ্নপূরণ হবে এবার। ২০২৯-এর আগেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান শেষ হবে বলে কথা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।” তবে সেই বক্তব্যের পর বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে করা প্রশ্নে তাঁর নীরবতা নতুন করে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। তিনি আদৌ নতুন কোনও রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেবেন কি না, নাকি আগের অবস্থানেই অনড় থাকবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে অভিনেতা-সাংসদ দেবকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আপাতত থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

You cannot copy content of this page