“আপনি তাড়াতাড়ি স্পটে চলে আসুন….সবটা ক্লিয়ার করে দেবো” ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ থেকেই অংশ নিয়েছেন ৫০০-রও বেশি মাচা শোয়ে, এবার আরামবাগে শো করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা অহনা দত্তের! কোনমতে বেঁচেছেন, কী ঘটেছিল অষ্টমীর রাতে? সবটা খুলে বললেন অভিনেত্রী?

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ অহনা দত্ত। ছোটপর্দায় অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাচা শো করতেও দেখা যায় তাঁকে। ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের সময় থেকেই স্টেজ শো করতে শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী। গত চার বছরে ৫০০-রও বেশি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি। এতগুলি শো করার পরেও এমন পরিস্থিতির মুখে আগে কখনও পড়তে হয়নি বলে জানিয়েছেন অহনা। এ বার দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন আরামবাগে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, এই ঘটনার জেরে সমস্যায় পড়েছেন তাঁর অনুষ্ঠানের আয়োজকও। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে নানা খারাপ কথাও লেখা হচ্ছে। তাই ঠিক কী ঘটেছিল, তা সকলকে জানাতেই ভিডিয়ো করার সিদ্ধান্ত নেন অহনা।

ঘটনার কথা বলতে গিয়ে অহনা জানিয়েছেন, আরামবাগের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে আয়োজকদের সঙ্গে কিছু শর্ত নিয়ে কথা হয়েছিল। তাঁর দাবি, রাত ১০টার মধ্যে মঞ্চে ওঠার কথা ছিল তাঁর। যদিও মাচা শোয়ে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু না হওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন। তাই প্রয়োজনে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও রাজি ছিলেন। ক্লাব কমিটির তরফেও এই বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে তিনি সরাসরি কোনও ক্লাব কমিটির সঙ্গে অনুষ্ঠানের চুক্তি করেন না। তাঁর ম্যানেজার তথা আয়োজক চিরঞ্জিত বর্মনই এই ধরনের বিষয়গুলি দেখেন। অহনা আরও জানিয়েছেন, অন্য অনুষ্ঠানের তুলনায় এই শোয়ের জন্য পাঁচ হাজার টাকা বেশি পারিশ্রমিক ধার্য করা হয়েছিল। সব কিছু ঠিক থাকার পরেও অনুষ্ঠানের দিন কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী।

অহনা জানিয়েছেন, সে দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বাড়ি থেকে আরামবাগের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। রাত ১০টা বাজতে তখনও কিছুটা সময় বাকি, এমন সময় তাঁর আয়োজকের কাছে ফোন আসে। তাঁকে জানানো হয়, অনুষ্ঠানের বাকি টাকা এখনও মেটানো হয়নি। তাই গাড়ি কিছুক্ষণ থামিয়ে রাখতে বলা হয়। অন্য দিকে, ক্লাব কমিটির তরফে বারবার তাঁদের অনুষ্ঠানের জায়গায় পৌঁছে যেতে বলা হচ্ছিল। তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সেখানে পৌঁছলে বাকি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। অহনা ও তাঁর সঙ্গীরা সেই আশ্বাসে ভরসা করে এগোলেও রাত ১০টা ২৫ মিনিট নাগাদ অনুষ্ঠানের জায়গা থেকে প্রায় তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। বারবার ফোন করে বাকি টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও তাঁদের শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছিল। অহনার কথায়, ‘দিচ্ছি, দিচ্ছি, দিচ্ছি, হ্যাঁ দেবো।’ কিন্তু অপেক্ষা করেও টাকা না মেলায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে।

এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন অহনার স্বামী দীপঙ্কর রায়ও। তাঁর কথায়, যে জায়গায় তাঁরা গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন, সেখানে চারপাশ ছিল অন্ধকার। পুজোর সময়েও আশপাশে পর্যাপ্ত আলো ছিল না। একজন মহিলা শিল্পীর পক্ষে এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ গাড়ির মধ্যে বসে থাকা যে কতটা সমস্যার, সে কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। দীপঙ্করের বক্তব্য, শুধু কখন টাকা দেওয়া হবে, তার অপেক্ষায় থেকে তারপর শিল্পী মঞ্চে উঠবেন, এমনটা হতে পারে না। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কথায়, ‘আমি ফ্যামিলি ছেড়ে সারারাতের জন্য আসিনি।’ তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, আয়োজকেরা যদি রাত তিনটের সময় বাকি টাকা দেন, তা হলে কি শিল্পীকে সেই সময় মঞ্চে উঠতে হবে? তাঁর মতে, কোনও শিল্পীকেই এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠান করতে বাধ্য করা যায় না। দীপঙ্কর জানিয়েছেন, তাঁরা গাড়ি ঘুরিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই ক্লাব কমিটির তরফে বাকি টাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে ততক্ষণে দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে বসে থাকার কারণে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন অহনা।

আরও পড়ুনঃ “আর্থিক স্বাধীনতা কারও অনুমতির বিষয় নয়, চাকরি করতে সুযোগ দেওয়ার ওঁরা কে?” “একজন নারীর কতটা সম্মান প্রাপ্য, সেটাই এখনও সমাজ বুঝতে শেখেনি!” নিজের কেরিয়ারে সফল হলেও সংসারের দায়িত্ব থেকে কেন পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেন না মেয়েরা? লক্ষ্মীপুজোর আবহে পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে প্রশ্ন ছুড়লেন লোপামুদ্রা মিত্র! গায়িকার মতে ‘লক্ষ্মী মেয়ে’র সংজ্ঞা কী?

অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ওই জায়গায় অপেক্ষা করার সময় তাঁর শরীর এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। অহনার কথায়, ‘তখন আমার শরীর এতটাই খারাপ লাগতে থাকে যে ওয়াশরুমে যেতেই হতো। ওখানে এমন ভাবে গাড়িতে অতক্ষণ ধরে বসে ছিলাম, পেটে প্রচণ্ড প্রচণ্ড ব্যথা হতে শুরু করে।’ তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট সময়ে বাকি টাকা দেওয়ার কথা জানানো হলেও তা মেটানো হয়নি। এমনকী লাইভ লোকেশন পাঠানোর কথা বলা হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। অন্য দিকে, এই ঘটনার পর তাঁর আয়োজক চিরঞ্জিত বর্মনের উপর চাপ তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সেই কারণেই গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে এই ঘটনায় কে ঠিক এবং কে ভুল, সেই সিদ্ধান্ত দর্শকদের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন অহনা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাজ করার পর এমন অভিজ্ঞতার মুখে পড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page