“আমি জানি, ঐন্দ্রিলা আমাদের চারপাশে আজও আছে!” “অনেক কষ্টের দিনের পর এই দিনটা এসেছে” প্রয়াত বোনের স্মৃতি বুকে নিয়েই, প্রেমের মরশুমেই আইনি বিয়ে সারলেন ঐশ্বর্য শর্মা! বড় মেয়ের বিশেষ দিনে আবেগ সামলাতে পারলেন না মা শিখা শর্মাও!

শুরু হয়েছে ভালোবাসার মাস আর গতকাল, অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি শর্মা পরিবারে ফিরে এল এক মিশ্র অনুভূতির দিন। দীর্ঘ শোক আর নীরবতার পর বড় মেয়ে ‘ঐশ্বর্য শর্মা’র (Aishwarya Sharma) জীবনে এল নতুন অধ্যায়ের শুরু। আনন্দ ছিল, কিন্তু সেই আনন্দের ফাঁকে ফাঁকেই যেন বারবার ধরা দিচ্ছিল ঐন্দ্রিলার (Aindrila Sharma) শূন্যতা। পরিবারিক পরিসরের মধ্যেই আইনি বিয়ে এবং আংটিবদলের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করেছেন সকলে, যে নেই, সেও যেন কোথাও গিয়ে আনন্দের অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত, এদিন অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল একেবারেই ঘরোয়া। চারপাশে সাজানো ছিল ঐন্দ্রিলার হাসিমুখের ছবি, যেন নীরবে সবকিছুর সাক্ষী হয়ে তিনি উপস্থিত। সেই ছবির সামনেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন দিদি ঐশ্বর্য। শর্মা পরিবারের কাছে এটি শুধু একটি বিয়ে নয়, বরং কঠিন সময় পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এক সাহসী চেষ্টা। বহু ঝড়ঝাপটা সামলে এই মুহূর্তে পৌঁছনোর গল্পটা তাই আলাদা করে না বললেও অনুভব করা যাচ্ছিল সবার চোখেমুখে।

এই দিনের আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরীর উপস্থিতি। প্রেমিক হিসেবে ঐন্দ্রিলার প্র’য়াণের পর তিনি নিজেকে অনেকটাই আড়ালে রেখেছিলেন। কিন্তু ঐশ্বর্যর বিশেষ দিনে তাঁকে দেখা গেল চেনা, সাদামাটা রূপেই। পরনে সাদা শার্ট-জিন্স, কোনও বাড়তি আড়ম্বর ছাড়াই। ঐন্দ্রিলার আত্মীয়দের কাছে তিনি ছিলেন পরিবারের ছেলের মতোই। এমনকি ঐন্দ্রিলার পোষ্য বোজো-তোজোও তাঁকে দেখেই ছুটে আসে, যা মুহূর্তটাকে নিঃসন্দেহে আরও ব্যক্তিগত করে তোলে।

উল্লেখ্য, ঘরোয়া ভাবে অনুষ্ঠান হলেও, সকাল থেকেই বাড়িতে সাংবাদিকদের আনাগোনা লেগেছিল। তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই ঐশ্বর্য স্বাভাবিকভাবেই নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, “বোন থাকলে হয়তো আজকের দিনটা অন্যরকম হতো। ঐন্দ্রিলার নিজের বিয়ের জন্য যে সব পরিকল্পনা ছিল, সেগুলো আজ বারবার মনে পড়ছে।” ঐশ্বর্যর জীবনসঙ্গী দিব্যজিৎ দত্তও চিকিৎসক। বহুদিনের পরিচয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত একটি ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটের মাধ্যমেই তাঁদের সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়।

আরও পড়ুনঃ “পরীক্ষা শেষ, এটাই আমার প্রতিশোধ…” মাধ্যমিকের শেষ দিনে অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সাক্ষী! মজার স্মৃতি থেকে পরীক্ষার ভয়, কিশোর জীবনের গল্প শোনালেন অভিনেতা অর্পণ ঘোষাল! পরীক্ষার্থীদের জন্য কী বার্তা দিলেন তিনি?

একই পেশার মানুষ হিসেবে একে অন্যকে পাশে পাওয়া নিয়ে খুশি দুই পক্ষই। দিনটিতে ঐশ্বর্যকে দেখা যায় স্নিগ্ধ লালচে গোলাপী রঙের শাড়িতে, আর দিব্যজিতের পরনে ছিল মেরুন পাঞ্জাবি। ঐন্দ্রিলার মা শিখা শর্মা বেগুনি রঙের শাড়িতে ছিলেন শান্ত অথচ ভারী আবেগে ভরা। মেয়ের আইনি বিয়ের দিনে তিনি বললেন, “ঐন্দ্রিলা থাকলে সবচেয়ে বেশি আনন্দ করত সে-ই।” তিনি বিশ্বাস করেন, ছোট্ট মেয়েটি আজও তাঁদের চারপাশেই আছে। সামাজিক বিয়ের অনুষ্ঠান পরে হবে, কিন্তু এই ছোট্ট আয়োজনেই শর্মা পরিবারের জন্য তৈরি হলো নতুন স্মৃতি। সমাজ মাধ্যমে ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দেন সকলে।

You cannot copy content of this page