“আমি আর ছোটপর্দায় কাজ করতে চাই না” রাহুলের মৃ’ত্যুর শোক ও নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে, আগেই লীনার ধারাবাহিক ছেড়েছেন অম্বরীশ ভট্টাচার্য! এবার টেলিভিশন থেকেই পাকাপাকি বিদায় নিচ্ছেন অভিনেতা, জানিয়ে দিলেন সিদ্ধান্ত?

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল তাঁর সহ-অভিনেতা ও প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে। ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের সহ-অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য, যিনি রাহুলের বাবার চরিত্রে অভিনয় করছিলেন, তাঁর আচরণ নিয়েও নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। শুটিংয়ের সময়, রাহুলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁকে কেন দেখা যায়নি, কেন একবারও তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, এমন প্রশ্ন বার বার উঠে এসেছে। তবে ঘটনার আট দিন পর, প্রথমবার মুখ খুললেন অম্বরীশ। তিনি জানান, রাহুলের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার বা রাহুলের বাড়িতে যাওয়ার শক্তি ছিল না। তিনি বলেন, “এতটা ভেঙে পড়েছিলাম যে, কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না।”

অম্বরীশ আরও বলেন, গত দু’মাস ধরে রাহুলের সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। একসঙ্গে কাজ করতে করতে তাঁরা পর্দার বাবা-ছেলের সম্পর্কের মতো ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। শুটিংয়ের জন্য তাঁরা দুজনেই তালসারি গিয়েছিলেন এবং সেদিনের শুটিং শেষ হওয়ার পর তিনি গাড়িতে উঠে ছিলেন। তবে রাহুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর মনে হচ্ছিল, হয়তো গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে গেলে সব কিছু অন্যরকম হতো। কিন্তু তখন হঠাৎ করেই রাহুলের মৃত্যুর খবর পেয়ে সব কিছু যেন অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি।

রাহুলের মৃত্যুর পর অম্বরীশ তাঁর সহকর্মী ও প্রযোজনা সংস্থার কাছে কোনও সান্ত্বনা খুঁজতে যাননি। তিনি জানান, রাহুলের মৃত্যুর শোক বইতে না পেরে, তিনি সেই সময় প্রিয়াঙ্কা ও রাহুলের পরিবারের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করবেন, তা নিয়ে ভাবছিলেন। তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ক্ষমতা আমার ছিল না।” তবে রাহুলের মৃত্যু এবং শুটিংয়ের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে কিছু বলার প্রয়োজনীয়তা তিনি অনুভব করেছিলেন। তিনি জানান, “এমন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য আরও সতর্ক থাকতে হবে। এই ধরনের সমস্যার কোনও স্বচ্ছ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।”

অম্বরীশ জানান, রাহুলের মৃত্যু ঘটনার পর তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আর তিনি এই ধারাবাহিকগুলোতে কাজ করবেন না। তাঁর ভাষায়, “আমি এখন আর ছোটপর্দায় কাজ করতে চাই না।” তিনি প্রযোজনা সংস্থাকে ফোন করে জানিয়েছেন যে, তিনি আর এই দুই ধারাবাহিকে অভিনয় করবেন না। সেই সঙ্গে, তিনি আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, “এতদিন ধরে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, কিন্তু রাহুলকে হারানোর পর আমি জানিয়েছি, আর কাজ করতে পারব না।” অম্বরীশ আরও যোগ করেন যে, এখন আর ছোটপর্দায় কাজ করার ইচ্ছা তার নেই, এবং তিনি পুরোপুরি নিজের সিদ্ধান্তে স্থির।

আরও পড়ুনঃ “সেদিন কনীনিকার প্রাণ যেত…” আউটডোর শুটিংয়ে বরাবরই নিরাপত্তার অভাব! রাহুলের ম’র্মান্তিক মৃ’ত্যুর পর টলিউডে উদ্বেগ, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় ভাগ করলেন সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে হওয়া ভ’য়াবহ শুটিং অভিজ্ঞতা!

রাহুলের মৃত্যুর পর শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, আর এই ব্যাপারে অম্বরীশও সহমত প্রকাশ করেন। তিনি জানান, “আমরা কখনও ভাবি না, শুটিংয়ে কোথাও যাওয়ার আগে প্রশাসনিক অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা। তালসারির ঘটনায় তা প্রমাণিত হয়েছে।” এ বিষয়ে আর্টিস্টস ফোরামও কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অম্বরীশ বলেন, “আমরা শিল্পীরা নিরাপত্তাহীনতায় কাজ করি, আর এটাই বড় সমস্যা।” তিনি আরও বলেন, “আমি এই সিদ্ধান্তে সহমত, যত দিন না এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হবে, তত দিন শুটিং বন্ধ রাখা উচিত।” তিনি আশা করেন, এই ঘটনাগুলির পর শিল্পীদের নিরাপত্তার দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন দুর্ঘটনার শিকার না হন।

You cannot copy content of this page