মিথ্যে ধ’র্ষ’ণের নাটক থেকে স্বামী নির্যা’তন, ‘চিরসখা’-র বর্ষা চরিত্র সমাজের সেই শ্রেণীর নারীদের প্রতিচ্ছবি, যাদের জন্য সত্যিকারের নি’র্যাতি’তারা সুবিচার পায় না! বর্ষার মতো নারীদের জন্যই বহু পুরুষ আজও মিথ্যা অভিযোগের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেন না?

স্টার জলসার ‘চিরসখা’র (Chiroshokha) সাম্প্রতিক পর্ব যে এত বড় আলোড়ন তুলবে, তা হয়তো নির্মাতারাও ভাবেননি। দর্শকের ক্ষোভের কেন্দ্রে এখন শুধু একটিই চরিত্র ‘বর্ষা’। কারণ, তাঁর আচরণ শুধু গল্পের নাটকীয়তা নয়, বরং সমাজের এক অস্বস্তিকর বাস্তবকে সামনে টেনে এনেছে। এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য বা লোভের কারণে নিরপরাধ কাউকে এক নিমিষে অপরাধী বানিয়ে দিতে পারেন! এই ধারাবাহিকে বর্ষার চরিত্র সেই মানসিকতাকেই একেবারে ন’গ্নভাবে দেখিয়ে দিয়েছে।

নতুনকে ফাঁসানোর জন্য বর্ষার প্রথম চক্রান্তই ছিল যথেষ্ট ঘৃ’ণ্য, কিন্তু এরপর ঘটল আরও ভয়ংকর। মেডিকেল রিপোর্টে প্রমাণ হয়ে এল যে নতুন কোনও ধরনের অনৈতিক আচরণ করেনি। তারপরই বর্ষার আসল চেহারা পরিবারের সামনে স্পষ্ট হতে থাকে। বুবলাই সব শুনে, বুঝতে পারে তার স্ত্রীর মনের গভীর কালো দিকটা। সেই কারণেই বাড়ি ফিরে সে ডিভোর্সের কথা জানায়। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি বর্ষা। সে স্বামীকে ভয় দেখাতে এমন আচরণ করে যা স্পষ্টভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের দিকেই ইশারা করে!

মুখ চেপে ধরা, চুপ করিয়ে রাখা এবং পরে নিজের গল্পটাই বদলে ফেলা। এত কিছুর পরও বর্ষার দুঃসাহস কমেনি। বুবলাই প্রতিবাদ করতেই হঠাৎ নিজেকে ‘নির্যা’তিতা স্ত্রী’ সাজিয়ে পুলিশের কাছে ছুটে গেল। সেখানে সে নিজের অপরাধ গোপন করে উল্টে বুবলাই আর শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল নাকি তাকে খেতে দেওয়া হয় না, মার’ধর করা হয়, অত্যা’চার করা হয়। দর্শকদের জন্য সবচেয়ে হতবাক করার মতো ছিল এটা। কারণ সমাজে এমন অনেক নারী সত্যিই নির্যা’তনের শিকার হন।

কিন্তু বর্ষার মতো মিথ্যা নাটক সাজানোরা সেই সত্যিকারের শিকারদের ন্যায়বিচার পাওয়া আরও কঠিন করে তোলে। দর্শকদের ক্ষোভের আরও একটা বড় কারণ, পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়া। সত্য যাচাইয়ের বদলে অভিযোগ শুনেই কারও কারও নতুনের দিকে আঙুল তোলা কিংবা প্রথমে বর্ষার কথা বিশ্বাস করা, এগুলো বাস্তব সমাজেও দেখা যায়। বহু পুরুষ আজও মিথ্যা অভিযোগের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেন না, আবার বহু নারীও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর পরও সন্দেহের চোখে দেখা হন।

আরও পড়ুনঃ শরৎচন্দ্রের কলমে ‘পথের দাবী’র শতবর্ষে সেলুলয়েডে নতুন পাঠ! স্বাধীনতা সংগ্রামকে ফের জীবন্ত করতে চলেছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’! সব্যসাচীর ভূমিকায় কাকে দেখা যাবে? রয়েছে কী বিশেষ চমক, মুক্তি পাচ্ছে কবে?

বর্ষার চরিত্র তাই যেন সমানভাবে আঘাত করেছে দুই দিককেই, একদিকে বিশ্বাসযোগ্যতার ভাঙন আর অন্যদিকে বিচারবুদ্ধির অভাবকে। সব মিলিয়ে, ‘চিরসখা’র এই চরিত্র দেখিয়েছে সমাজের সেই স্তর, যেখানে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে কেউ নিজের অপরাধ চাপা দিয়ে দেয়। আর সত্যিকারের নির্যা’তিত’রা বারবার ন্যায়বিচার থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়। তাই অনেক দর্শক বলছেন, ‘বর্ষার মতো চরিত্র শুধু গল্পের জন্য তৈরি করা হয়েছে এমন নয়, বাস্তবেও এমন নারী বর্তমান। যাদের অসত্যতার মূল্য দিতে হয় নির্দোষ মানুষদের।’