টলিপাড়ায় গত বছরের যেসব বিচ্ছেদের (Divorce) খবর অনেককে অবাক করেছিল, তার মধ্যেই ছিল অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী ‘শ্রীনন্দা শঙ্কর’ (Srinanda Shankar)-এর ব্যক্তিগত জীবনের বড় পরিবর্তন। প্রায় দুই দশকের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে পার্সি স্বামীর সঙ্গে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মুম্বইয়ে গড়ে তোলা সেই সংসার একসময় ভালবাসার গল্প হিসেবেই পরিচিত ছিল। বহুদিনের সম্পর্কের পর ২০০৯ সালে প্রেমিক গেভ সাতারাওয়ালাকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত আলাদা পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছন দু’জনেই।
বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আনার সময় শ্রীনন্দা নিজের সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি জানান, কিছুদিন ধরেই তাঁদের আলাদা থাকার বিষয়টি অনেকেই আন্দাজ করেছিলেন। তবু প্রকাশ্যে বলার আগে তাঁদের নিজেদের সময় দরকার ছিল। তিনি স্পষ্ট করে দেন, জীবনে অনিশ্চয়তা থাকবেই এবং সেই অনিশ্চয়তাকে মেনে নিয়েই এগিয়ে যেতে হয়। একই সঙ্গে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে অযথা আলোচনা না করতে এবং তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানাতে।
তবে, বিচ্ছেদের পর থেকেই অনেকেই জানতে চাইছেন, ভবিষ্যতে আবার বিয়ে নিয়ে ভাবছেন কি না। এই প্রশ্নের জবাবে শ্রীনন্দা জানান, এই মুহূর্তে তিনি নতুন সম্পর্কে বা বিয়ে নিয়ে ভাবার মতো মানসিক অবস্থায় নেই। তাঁর মতে, জীবনের বড় কোনও আঘাতের পর মানুষকে সময় দিতে হয় নিজেকে সামলে নেওয়ার জন্য। যেমন শরীরে কোথাও কেটে গেলে সেটা ধীরে ধীরে সেরে ওঠে, তেমনই সম্পর্ক ভাঙার পর মনকেও সময় দিতে হয়। সেই সময়টুকু না পেলে সামনে এগোনো কঠিন। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “সারা জীবন ধরে টাকা বাঁচাচ্ছি, জমিয়ে রাখছি মেয়ের বিয়ে দেবো বলে!
ওই টাকাটাকে কাজে লাগাও, মেয়েকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করো। বিয়ের টাকাও নিজেই জোগাড় করে নিতে পারবে। তাকে যদি কাজই না করাও, জীবনটাকে ঠিকমত বাঁচতেই না দাও, তাহলে তো মানসিক চাপ তৈরি হবেই। এই ভাবেই তো মেয়েরা তিলে তিলে আ’ত্মহ*ত্যার দিকে এগিয়ে যায়। স্বাবলম্বী না করে যদি বিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে বারবার আত্মসম্মানে আঘাত করা হলেও, মেয়েটি পারে না। পরিবার থেকে বলা হয় মানিয়ে নিতে। তাই আমাদের জেনারেশন থেকেই বাবা-মায়েদের চিন্তাধারা এই পরিবর্তনটা আনতে হবে।
আরও পড়ুনঃ ডিভোর্সের পর এক রাতের সম্পর্কই বদলে দিল জীবন! বয়সে ছোট প্রেমিকের সঙ্গে প্রথম দেখাতেই ঘনি’ষ্ঠতা, পরে তাকেই জীবনসঙ্গী বানালেন অভিনেত্রী! কেরিয়ার বাঁচাতে এত বছর লুকিয়েছিলেন সেই সম্পর্ক, অবশেষে সত্যিটা প্রকাশ্যে!
তাহলে পরবর্তী প্রজন্মে গিয়ে এমন পরিণতি আর কারোর হবে না। বিয়ে অনেক পরের কথা, ছোট থেকেই অন্যের সঙ্গে তুলনা করা বন্ধ করতে হবে। রোজ রোজ তুলনার ফলে যে কারোর মানসিক চাপ তৈরি হয়, সেটার প্রভাব সরাসরি শরীরে পড়ে। এমনকি ক্যা*ন্সার পর্যন্ত হয়ে যায়!” একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, বাইরে থেকে দেখা কয়েকটি মুহূর্ত বা ছোট ভিডিও কোনও দাম্পত্যের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পারে না। মানুষের সম্পর্কের ভিতরে অনেক স্তর থাকে, যা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। তাই ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায় নিয়ে বেশি ব্যাখ্যা না দিয়ে তিনি আপাতত নিজের কাজ, পরিবার এবং নিজের মতো করে জীবনকে নতুনভাবে সাজানোর দিকেই মন দিতে চান।






