“সেদিনের আ’তঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছি না” রাহুলের মৃ’ত্যুতে শারীরিক এবং মানসিক বিপ’র্যয়ে সিদ্ধার্থ সেন! শ্বেতার অবস্থাও স্থিতিশীল নয়! তালসারি শুটিংয়ে যা ঘটেছিল, অবশেষে জানালেন অভিনেতা? এতদিন কেন চুপ ছিলেন তিনি?

তালসারির সমুদ্র সৈকতে শুটিংয়ের সময় ঘটে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সেখানে রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি সহ অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র এবং অভিনেতা সিদ্ধার্থ সেনের উপস্থিতি ছিল। সেদিন শুটিং চলছিল এবং ঘটনাক্রমে রাহুল জলে তলিয়ে যান। শ্বেতা মিশ্র এবং সিদ্ধার্থ সেন দু’জনই সেটে ছিলেন, কিন্তু কিভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল তা এখনও অনেকের মনে রয়েছে। সাতদিন কেটে গেলেও তাদের মধ্যে কেউই বিশেষভাবে জনসমক্ষে আসেননি। বিশেষত সিদ্ধার্থ, যিনি এখনও ঘটনাটির শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি, এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে আছেন।

সিদ্ধার্থ সেন এই প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “রাহুলের মৃত্যু যে এতটা দুঃখজনক এবং অপ্রত্যাশিত ছিল, তা এখনও মনের মধ্যে ঘুরছে। আমি নিজে তার মৃত্যুর ঘটনা চোখের সামনে দেখেছি। তার সাথে শুটিং করতে করতে রাহুলকে জলে তলিয়ে যেতে দেখি। এরপরও আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে সে আর আমাদের মাঝে নেই। আমরা সবাই জানি শ্বেতাকে আগে উদ্ধার করা হয়েছিল, কিন্তু রাহুলকে এক ঘণ্টা, দেড় ঘণ্টা পরে উদ্ধার করা হয়।” সিদ্ধার্থের মতে, রাহুলের মৃত্যু ঘটনা আজও তার মানসিক অবস্থার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে, সিদ্ধার্থ বলেন, “এই দুর্ঘটনা সম্পর্কে বেশি কথা বলতে পারছি না। যখন শুনি রাহুল আর নেই, তখন শরীরের মধ্যে অস্বস্তি এবং এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়। ঘুমাতে পারছি না, এতো কিছু মাথায় ঘুরছে। আমি এখন জনসমক্ষে আসতে চাই না। মানুষ হয়তো মনে করতে পারে, আমি কেন না আসছি, কিন্তু এই ঘটনায় মন ভালো নেই।” তিনি আরও জানান, শ্বেতাও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত। শ্বেতার সাথে এখনও তার যোগাযোগ হয়নি, তবে তিনি জানেন যে শ্বেতা চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে আছেন।

আরও পড়ুনঃ “গতকাল রাতে পরপর দুটি অ্যা’টাক, আবারও হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে…ছেলে বারবার বাবার কথা জিজ্ঞেস করছে” আইসিইউতে আছেন অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়! শারীরিক অবস্থা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ! কী জানালেন, স্ত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়? কী পরামর্শ চিকিৎসকদের?

এছাড়া, সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন যে নতুন সিজন ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ নিয়ে তার কাছে আগের মতো কোনো নোটিশ বা নির্দেশিকা আসেনি। তিনি বলেন, “আগের সিজনে গল্পের সাথে কিছু কানেকশন রেখেই নতুন সিজন শুরু হয়েছিল। এবারও এমন কিছু হবে কিনা, তা জানি না।” সিদ্ধার্থ সোজাসাপ্টা জানান যে এমন পরিস্থিতিতে তার শুটিংয়ের নতুন সিজনের সম্পর্কে কোনো আগাম খবর ছিল না। তবে তিনি এই ব্যাপারে আগ্রহী, এবং আশাবাদী যে গল্পটি ভাল হবে।

অবশেষে, সিদ্ধার্থ তার অবস্থান নিয়ে বলেন, “আমি জানি শ্বেতার খুব কষ্ট হচ্ছে। সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং এই অবস্থায় তার সঙ্গে কথা বলার কোনো পরিস্থিতি নেই। তবে আমি আশা করি, চিকিৎসকের পরামর্শে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। তার মা-ও তার পাশে আছেন, এবং সে সুস্থ হওয়ার জন্য বিশ্রাম নিচ্ছে।” সিদ্ধার্থ আরও জানান যে তিনি নিজেও এই ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আছেন, তবে সত্যি ঘটনা সামনে আসা দরকার যাতে সবাই মনে শান্তি পায়।

You cannot copy content of this page