রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলির দাম্পত্য ভাঙনের জল্পনা গত কয়েকদিন ধরে টলিপাড়ার অন্যতম চর্চিত বিষয়। প্রথমে এই বিচ্ছেদের জন্য নানা মহলে রণজয়কেই দায়ী করা হচ্ছিল। বিশেষ করে সহ-অভিনেত্রী অভিকা মালাকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে একাধিক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। যদিও অভিনেতা সেই সমস্ত দাবি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করে জানান, সহ-অভিনেত্রীকে নিয়ে যে গল্প রটানো হচ্ছে, তার কোনও সত্যতা নেই। তাঁর কথায়, তিনি যদি কোনও সম্পর্কে থাকতেন, তা কখনও প্রচারের জন্য প্রকাশ্যে আনতেন না। এই বক্তব্যের মধ্যেই নতুন মোড় নেয় গোটা বিতর্ক।
পরবর্তীতে একটি সাক্ষাৎকারে রণজয় জানান, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে দাম্পত্য অশান্তির কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, অতীতেও সম্পর্ক ভাঙার ক্ষেত্রে তাঁকেই বারবার দোষী করা হয়েছে, কিন্তু এবার সেই অভিযোগ তিনি মানতে নারাজ। একই সময়ে অভিনেতার কাছের মানুষের তরফে দাবি করা হয়, বিয়ের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই শ্যামৌপ্তির এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল এবং সেই সম্পর্ক এখনও বজায় রয়েছে। তাঁদের দাবি, এই বিষয়টিই দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরির অন্যতম কারণ। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে শ্যামৌপ্তির পক্ষ থেকে তখন কোনও বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই দাবি সামনে আসতেই সমাজ মাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এতদিন যারা রণজয় ও অভিকা মালাকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছিলেন, তাঁদের একাংশের বিরুদ্ধেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন বহু নেটিজেন। কেউ লিখেছেন, “বিয়ের আগে থেকেই যদি অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন, তাহলে বিয়েটা কেন করেছিলেন?” আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন, “যখন বিয়ে করেছেন, তখন সংসারটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেন না কেন?” একই সঙ্গে নেটদুনিয়ায় কৌতূহল বাড়তে থাকে, সেই কথিত তৃতীয় ব্যক্তি আসলে কে?
আরও পড়ুন: শুটিং চলাকালীন আচমকাই গুরুতর অসু’স্থ হয়ে পড়লেন রণজয় বিষ্ণু! শ্যামৌপ্তির সঙ্গে দাম্পত্য ভাঙনের গুঞ্জন থামছেই না! ব্যক্তিগত জীবনে চাপ বাড়তেই হঠাৎ কী হলো অভিনেতার? এখন কেমন আছেন তিনি?
এরই মধ্যে একাধিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যাঁর সঙ্গে শ্যামৌপ্তির সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তিনি দক্ষিণ কলকাতার এক পরিচিত ক্যাফে ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিষেক দত্ত। তবে বিষয়টি নিয়ে শ্যামৌপ্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আমি এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করব না।” অন্যদিকে অভিষেক দত্তের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তাঁর সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, “No Comments.”
এই ঘটনার পর সমাজ মাধ্যমে নানান ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই দাবি করছেন, এতদিন একতরফাভাবে রণজয়কে দোষারোপ করা হলেও নতুন তথ্য সামনে আসার পর পুরো বিষয়টি অন্য দৃষ্টিতে দেখা উচিত। আবার অন্য একটি অংশের মত, শুধুমাত্র দাবি বা গুঞ্জনের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তাঁদের মতে, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত মন্তব্য করা উচিত নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে মতভেদ এখনও স্পষ্ট।
অন্যদিকে, রণজয় বিষ্ণু আগেই জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ছড়ানো একাধিক গুঞ্জনের কোনও ভিত্তি নেই। একই সময়ে শ্যামৌপ্তি মুদলি এবং অভিষেক দত্তও এই বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। ফলে দাম্পত্য ভাঙনের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও নানা জল্পনা চলছে। একদিকে বিভিন্ন দাবি, অন্যদিকে সংশ্লিষ্টদের নীরবতা, সব মিলিয়ে এই বিতর্ক এখন টলিপাড়ার অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে দুই পক্ষের তরফে আরও কোনও স্পষ্ট বক্তব্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সকলের।






