“কেউ নাম বাঁচিয়ে রাখল না…এঁদের নিয়ে কোনও সংগ্রহশালা বা নামাঙ্কিত পুরস্কারও নেই!” এঁরা না থাকলে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হতো? ভারতী দেবীকে স্মরণ করে, স্বর্ণযুগের শিল্পীদের বিস্মৃতির আক্ষেপ ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের!

অভিনয়ের জগতে প্রায় তিন দশকের পথচলা ‘ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়’-এর (Bhaswar Chatterjee)। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা, বিভিন্ন সময়ে নানান চরিত্রে তাঁকে দেখেছেন দর্শক। এই দীর্ঘ যাত্রায় বহু বরেণ্য শিল্পীর সান্নিধ্য পেয়েছেন তিনি। সেই তালিকায় রয়েছেন বাংলা ছবির স্বর্ণযুগের অন্যতম মুখ ‘ভারতী দেবী’ও (Bharati Devi)। বহু বছর আগের একটি কাজের সূত্রে তাঁদের আলাপ, যা সময়ের সঙ্গে গাঢ় সম্পর্কের রূপ নেয়।

প্রসঙ্গত, ‘আলো’ ছবির শুটিং চলাকালীন বোলপুরের আউটডোরেই প্রথম কাছ থেকে দেখেন ভারতী দেবীকে। বয়সের ছাপ থাকলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব আর সৌন্দর্য তখনও আলাদা করে নজর কাড়ত। শুটিং শেষে প্রায় রোজই ভাস্বর যেতেন তাঁর ঘরে। সেখানে চলত পুরোনো দিনের গল্প, সিনেমার স্মৃতি আর ইন্ডাস্ট্রির অনেক অজানা কাহিনি। কলকাতায় ফিরে ডাবিংয়ের সময় আবারও একসঙ্গে কাজের সুযোগ হয়।

পরিচালক তরুণ মজুমদারের যত্নে ডাবিং প্রক্রিয়া চলত, কখনও দৃশ্য ঠিক না হলে হালকা বকুনিও দিতেন তিনি। কিন্তু ভারতী দেবী নীরবে সবটা মেনে নিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতেন, এই শৃঙ্খলাবোধ ভাস্বরকে মুগ্ধ করেছিল। পরিচয়ের পর সম্পর্ক আরও আন্তরিক হয়ে ওঠে। একদিন নিজের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন ভারতী দেবী। সেখানে শুধু আপ্যায়নই নয়, নিজের কাজের সংগ্রহ খুলে দেখিয়েছিলেন তিনি।

জীবনের নানান ছবির স্টিল, শুটিংয়ের মুহূর্ত, স্মারক সব যত্নে সাজিয়ে রাখা ছিল। ‘সাগর সঙ্গমে’ ছবির জন্য পাওয়া জাতীয় পুরস্কারের স্মৃতিও তিনি ভাগ করে নেন। একজন শিল্পী নিজের কাজকে কীভাবে সযত্নে ধারণ করে রাখেন, তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন ভাস্বর। তবে, এই স্মৃতিচারণের মধ্যেই রয়েছে আক্ষেপ। ভাস্বরের মনে হয়েছে, এই প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না তাঁদের অবদানের কথা। এত বড় শিল্পীদের নিয়ে তেমন কোনও নথিভুক্ত উদ্যোগ হয়নি, নেই কোনও স্থায়ী সংগ্রহশালা বা তাঁদের নামে পুরস্কারের প্রচলন!

আরও পড়ুনঃ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর আচমকা হানা! সহ অভিনেত্রীর সঙ্গে ‘গোপন’ সময় কাটাতে গিয়ে, হোটেলেই ধরা পড়লেন ছোটপর্দার নায়ক! পর্দায় আদর্শ স্বামী, বাস্তবে ভিন্ন রূপ! কেলেঙ্কারি ফাঁস হতেই, ফের সরগরম টলিপাড়া!

ইন্ডাস্ট্রির ভিত গড়ে দেওয়া মানুষদের স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যে ঘাটতি রয়ে গেছে, তা ভাবলে খারাপ লাগে তাঁর। এই প্রসঙ্গে তাঁর মনে পড়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য, বাঙালির নাকি ভুলে যাওয়ার প্রবণতা আছে! ভাস্বরের অভিজ্ঞতায় সেই কথার সত্যতা মিলেছে। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, যাঁরা পথ তৈরি করে দিয়েছেন তাঁদের স্মরণ না করলে বর্তমানের সাফল্যও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ভারতী দেবীর মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাটানো সময় তাই তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়, এক মূল্যবান শিক্ষা।

You cannot copy content of this page