বিগ বসের ঘরে এমনিতেই নানা ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা লেগেই রয়েছে। তার মধ্যেই গ্যাসের বার্নার লুকিয়ে রাখার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সকালে রান্নার জন্য রাখা চারটি বার্নারের মধ্যে তিনটিই হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। কোনও টাস্কের কারণে সেগুলি সরানো হয়নি, ফলে ঘরের সদস্যদের মধ্যেই সন্দেহ তৈরি হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খাবারের সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে সকলের। ভরত কল থেকে সৃজলা, অনেকেই খিদেয় সমস্যায় পড়েন, এমনকী ওষুধ খাওয়াও কঠিন হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে রাজবীর রেগে গিয়ে নিজের মাইক খুলে টেবিলের উপর আছড়ে ফেলেন এবং খাবার গরম করে খেতে না পারলে আর মাইক পরবেন না বলেও জানান।
শুধু রাজবীরই নন, সাধারণত শান্ত থাকা জিতু কমলও এই ঘটনায় বিরক্ত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে তনুশ্রীর জোরে চিৎকারে তখন গোটা বাড়ির পরিবেশ আরও অশান্ত হয়ে ওঠে। কেউ বুঝতে পারছিলেন না, রান্নার বার্নারগুলি শেষ পর্যন্ত গেল কোথায়। এর মধ্যেই যে বার্নারটি বাকি ছিল, সেটিও আচমকা উধাও হয়ে যায়। ফলে সদস্যদের মধ্যে কে এই কাজ করছেন, তা নিয়ে খোঁজ শুরু হয়। একসময় একটি বার্নার বাড়িরই এক কোণে এনে রাখা অবস্থায় খুঁজে পান সায়ক। তখন স্বাভাবিকভাবেই সায়ক এবং দুর্নিবারের দিকে সন্দেহের নজর ঘুরে যায়, যদিও সায়ক স্পষ্ট করে জানান, তিনি কোনও ছিঁচকে চুরির মতো কাজ করেন না।
তবে ঘটনার আসল কারণ তখনও কারও জানা ছিল না।
গোপনে ঝিলামের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন নিরঞ্জন। তিনি জানান, এই ঘটনা কোনও টাস্কের অংশ নয়, বরং ঘরের সদস্যদের একটা শিক্ষা দেওয়ার জন্যই তিনি বার্নারগুলি সরিয়ে রেখেছেন। নিরঞ্জনের কথা শুনে ঝিলামও তাঁর সিদ্ধান্তের পক্ষে নানা যুক্তি দিতে শুরু করেন। অন্যদিকে সায়কের কাছে সত্যিটা তখনও পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। গভীর রাত পর্যন্ত বার্নার নিয়ে রহস্য চলতে থাকে এবং রান্নাঘরে খাবারের খোঁজে ফের আসেন ভরত কল ও জিতু কমল। ঠিক সেই সময় নিরঞ্জন চুপিসারে তাঁদের কাছে গিয়ে লুকিয়ে রাখা সব কটি বার্নার তুলে দেন এবং জানান, ভরত স্যারের জন্যই তিনি সেগুলি ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
নিরঞ্জনই যে এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন, তা প্রকাশ্যে আসতেই বাড়ির সদস্যদের মধ্যে চমক তৈরি হয়। সায়কও এই সত্যি জানতে পেরে কার্যত কিছুক্ষণের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে যান। কেন তিনি এমন কাজ করলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে জিতু কমলের সামনেই নিজের বক্তব্য জানান নিরঞ্জন। তিনি বোঝান, বিগ বসের ঘরে প্রথম দিন থেকেই এমন অনেক ঘটনা ঘটছে, যেগুলিকে তাঁর কাছে অমানবিক বলে মনে হয়েছে। তাঁর দাবি, যাঁরা নিজেদের পিছিয়ে পড়া অবস্থানে থেকেও নিজেদের আচরণ নিয়ে দ্বিচারিতা করছেন, তাঁদের সেই আচরণের জবাব দিতেই তিনি একাই এই কাজ করেছেন। তিনি আরও জানান, কাজটি করতে গিয়ে তাঁর নিজেরও কষ্ট হয়েছে, কিন্তু তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন যে প্রয়োজন হলে তিনিও এমন কাজ করতে পারেন। নিরঞ্জনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল তিনি চাইলে অন্যদের মতোই এমন আচরণ করতে পারেন, সেটাই প্রমাণ করা।
আরও পড়ুনঃ “সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার বন্ধু নয়!” একই ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ, বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে শুটিংয়ে যাওয়া তবুও কেন বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়নি? এত বছরের সহকর্মীর সঙ্গে কেন ব্যক্তিগত জীবনে আজও থেকে গেছে দূরত্ব? নেপথ্যের কারণ নিয়ে মুখ খুললেন মিতা চট্টোপাধ্যায়! রয়েছে কি কোনও তিক্ত অভিজ্ঞতা?
এই প্রসঙ্গে নিরঞ্জনের বক্তব্য ছিল, ‘‘প্রথম দিন থেকেই এখানে অনেক অমানবিক কাজ হচ্ছে। যাঁরা নিজেদের অবস্থান নিয়ে নানা কথা বলেন, তাঁদের সেই দ্বিচারিতার জবাব দিতেই আমি একাই বার্নারগুলি সরিয়েছিলাম। এই কাজটা করতে গিয়ে আমার নিজেরও খারাপ লেগেছে এবং কষ্ট হয়েছে। কিন্তু আমি শুধু বোঝাতে চেয়েছিলাম, চাইলে আমিও এমন নোংরা কাজ করতে পারি।’’ ঘটনার পর ঝিলামও নিরঞ্জনের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে তাঁর কাজের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। তবে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই নিরঞ্জন আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে তিনি আর এমন ঘটনা ঘটাবেন না। বার্নার কাণ্ডের পর তাই বিগ বসের ঘরে নতুন করে শুরু হয়েছে সদস্যদের মধ্যে আলোচনা এবং ক্ষোভের পালা।






