গ্ল্যামার জগতের অনেক সম্পর্কের মতোই এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনও উত্থান-পতনে ভরা। দীর্ঘ প্রেমের পর বিয়ে, তারপর কয়েক বছরের মধ্যেই সেই সম্পর্কে দূরত্ব, শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ। তবে জীবন সেখানে থেমে থাকেনি। বিচ্ছেদের দীর্ঘ সময় পরে আবার নতুন করে ভালোবাসার খোঁজ পান তিনি। পেশাগত পরিচয় থেকেই শুরু হয় নতুন সম্পর্কের গল্প। পরে সেই বন্ধুত্বই প্রেমে পরিণত হয়। জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজের পথ খুঁজে নিয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একাধিক অজানা তথ্য সামনে আসতেই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে সংগ্রামের সময়েই তাঁর প্রথম প্রেমের সূচনা হয়েছিল। একই পেশায় কাজ করতে গিয়ে কাছাকাছি আসেন দু’জনে। একসঙ্গে বিভিন্ন অডিশন, শুটিং এবং দীর্ঘ সময় কাটাতে কাটাতেই সম্পর্ক গভীর হয়। কয়েক বছর প্রেম করার পর তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের পর দু’জনের কেরিয়ারই ধীরে ধীরে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করে। কিন্তু পেশাগত সাফল্য ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যাকে দূরে রাখতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে সম্পর্কে দূরত্ব বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত আলাদা পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
বিচ্ছেদের পর কিছু সময় তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজের কাজের উপর মন দেন। ব্যক্তিগত আঘাত ভুলে কেরিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময়েই জীবনে আসে নতুন অধ্যায়। কাজের সূত্রে এক সহকর্মীর সঙ্গে পরিচয় হয়, যা ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে এবং পরে সম্পর্কে পরিণত হয়। তাঁদের স্বভাব ছিল সম্পূর্ণ আলাদা, কিন্তু জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে ছিল আশ্চর্য মিল। সেই মিলই তাঁদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। কয়েক বছর একে অপরকে জানার পর ভবিষ্যৎ একসঙ্গে কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
এই অভিনেত্রী হলেন অশ্বিনী কালসেকর। তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন নীতেশ পাণ্ডে। নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন জগতে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করার সময় তাঁদের আলাপ হয়েছিল। একাধিক ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করতে করতেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ প্রেমের পর ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই সেই সম্পর্কে সমস্যা দেখা দেয়। এক সাক্ষাৎকারে অশ্বিনী জানিয়েছিলেন, “তিনি সম্পর্কের জন্য ১০০ শতাংশই দিয়েছিলেন, কিন্তু সব সময় সব কিছু ভাগ্যের হাতে থাকে না।” শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালে আইনি বিচ্ছেদ হয় তাঁদের। পরে ২০০৩ সালে নীতেশ অভিনেত্রী অর্পিতা পাণ্ডেকে বিয়ে করেন। ২০২৩ সালের মে মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় নীতেশের।
বিবাহবিচ্ছেদের পর পেশাগত কারণে -র সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে অশ্বিনীর। ২০০০ সালের গোড়ার দিকে একাধিক ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা। সেই সূত্রেই বন্ধুত্ব এবং পরে প্রেমের শুরু। অশ্বিনী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাঁদের পছন্দ-অপছন্দ ও জীবন নিয়ে ভাবনার মধ্যে অনেক মিল ছিল। যদিও স্বভাবে তাঁরা ছিলেন একেবারে আলাদা। মুরলী ছিলেন শান্ত ও সংযত, আর অশ্বিনী ছিলেন প্রাণবন্ত ও চঞ্চল। এই ভিন্নতাই তাঁদের সম্পর্কে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছিল। কয়েক বছর সম্পর্কের পর ২০০৯ সালে পরিবারের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সাধারণভাবে আইনি বিয়ে করেন তাঁরা।
বিয়ের পরও দু’জনেই অভিনয় জগতে নিজেদের কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তাঁদের বড় একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অশ্বিনী জানান, বহু বছর ধরে তিনি কিডনির গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন। সেই কারণেই গর্ভধারণ তাঁর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। অভিনেত্রীর কথায়, সন্তান জন্ম দিতে গেলে তাঁর নিজের জীবনও বিপদের মুখে পড়তে পারত, আবার সন্তানেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই সময় সারোগেসি নিয়েও এত আলোচনা বা সুযোগ ছিল না। পাশাপাশি কেরিয়ারে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লড়াইয়ের কারণে বিকল্প উপায়ে সন্তান নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্যও তাঁদের ছিল না।
আরও পড়ুনঃ সবুজ শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব, বিদ্রোহী সাংসদদের দলে নাম! তারই মাঝে বড় জল্পনা, ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ থেকে সরে যাচ্ছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? তাঁর জায়গায় আসছেন কে?
এই পরিস্থিতিতে নিঃসন্তান দম্পতি হিসেবেই জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন অশ্বিনী ও মুরলী। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, এই কঠিন সিদ্ধান্তে দুই পরিবারের পূর্ণ সমর্থন তাঁরা পেয়েছিলেন। জীবনের কঠিন সময়ে স্বামী সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে তাঁদের পরিবারে সদস্যের অভাব নেই। দু’জনেই পশুপ্রেমী হওয়ায় দুটি কুকুর পোষেন তাঁরা। সেই পোষ্যদেরই সন্তানস্নেহে বড় করে তুলছেন এই তারকা দম্পতি। এমনকি তাদের দেখাশোনার জন্য একজন ন্যানিও রাখা রয়েছে বলে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন অশ্বিনী।






