ইম্পাকে ঘিরে টলিপাড়ার অন্দরে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অস্থায়ী সভাপতি পদে রতন সাহাকে সামনে আনার পর থেকেই বিতর্ক যেন আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পিয়া সেনগুপ্ত। তিনি জানিয়ে দেন, কোনও নির্বাচন ছাড়া কাউকে সভাপতি হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। পাশাপাশি এতদিন ধরে তাঁকে এবং তাঁর ছেলে বনি সেনগুপ্তকে নিয়ে যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে, সেই নিয়েও সরাসরি মুখ খুলেছেন তিনি। বিশেষ করে ইন্ডাস্ট্রিতে স্বজনপোষণের প্রসঙ্গে এদিন পিয়ার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, বহু অভিযোগ উঠলেও বাস্তবে অনেক বিষয়ই বিকৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
২২ মে ডাকা হয়েছিল ইম্পার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। কিন্তু সেই বৈঠক শেষ পর্যন্ত আর সম্পূর্ণ হয়নি। ওই দিন আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন পিয়া সেনগুপ্ত। পরে ২৫ মে ইম্পার অফিসে রতন সাহাকে অস্থায়ী সভাপতি পদে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। তাঁকে মালা পরিয়ে সংবর্ধনাও জানানো হয় সেখানে। সেই অনুষ্ঠানে পরিচালক গৌতম ঘোষকেও রতন সাহার পাশে দেখা যায়। তবে গোটা বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন পিয়া। তাঁর বক্তব্য, ভোট বা নির্বাচনের কোনও প্রক্রিয়া ছাড়াই কীভাবে একজনকে এইভাবে দায়িত্ব দেওয়া হল, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি কোনওভাবেই নিজের পদ ছেড়ে সরে দাঁড়াননি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পিয়া সেনগুপ্ত আরও বলেন, আদালতের নির্দেশ মেনেই তাঁরা কাজ করছেন। তাঁর কথায়, হাইকোর্টের বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, চলতি বছরের নির্বাচনে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন না। ২০২৭ সালের ভোটের জন্য তিনজন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভোটার তালিকা তৈরির। সেই প্রসঙ্গ টেনেই পিয়া বলেন, “এর মানে ২০২৭ অব্দি আমরা আছি। আমরা আইন মেনেই এখানে রয়েছি। আগামী দিনে আইন মেনেই চলবো। এখানে আইন বহির্ভূত কোনও কাজ হচ্ছে না।” পাশাপাশি তিনি এও জানান, কোনও ভোটই হয়নি, তাই হার স্বীকার করার প্রশ্নও ওঠে না। অসুস্থতার দিনটি নিয়েও যাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁদের মানসিকতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
তবে এদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বনি সেনগুপ্তকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নিয়ে পিয়ার প্রতিক্রিয়া। বহু বছর ধরেই টলিপাড়ার অন্দরে অভিযোগ শোনা যায়, ছেলে বনিকে সুযোগ করে দিতে নাকি বিভিন্ন পরিচালকের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বা অন্য অভিনেতাদের ছবি হাতছাড়া করানো হয়। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই পিয়া সরাসরি জবাব দেন। তাঁর কথায়, “বনি আমার ছেলে হতে পারে, কিন্তু কী ছবি ও করবে সেটা ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার।” তিনি আরও বলেন, “এমন দুটো ভালো ভালো ছবির অফার এসেছিল, পরিচালকরাও আমার খুব করে বলেছিল যে বনি যাতে করে কিন্তু ও আর করেনি। পরে সেই ছবিগুলো জিতু কমল করছে। আমি কথা দিয়ে দেব কাউকে যে বনি করবে, তারপর যদি ও না করে তখন?” এই মন্তব্যের পর অনেকেই নতুন করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ছোটপর্দা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন তিতিক্ষা দাস? ‘দুই শালিক’-এর পর আর মুখ্য চরিত্রে দেখা মিলছে না অভিনেত্রীর! দর্শকদের প্রিয় অভিনেত্রীদের তালিকা থেকে কেন মুছে যাচ্ছে তাঁর নাম? ফের কী অভিনেত্রীকে ধারাবাহিকে দেখতে চান আপনারা?
বর্তমানে ইম্পার ভেতরের পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একদিকে রতন সাহাকে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে সামনে আনা হয়েছে, অন্যদিকে পিয়া সেনগুপ্ত জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আইনি পথেই লড়াই চালিয়ে যাবেন। ফলে সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। টলিপাড়ার অন্দরে এই ঘটনা এখন অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্বজনপোষণ, ক্ষমতার লড়াই এবং সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে, তা আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। এখন নজর, পরবর্তী আইনি এবং সাংগঠনিক পদক্ষেপের দিকে।






