দুর্গাপুজো মানেই একসঙ্গে আনন্দ, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো আর প্রিয়জনদের নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠা। কিন্তু এবারের পুজোয় দুই বোনকে দেখা গেল দুই আলাদা শহরে। একজন কলকাতায়, অন্যজন বারাণসীতে। কথা হচ্ছে অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর দিদি দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে। একসময় বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে পারিবারিক উদ্যাপন, প্রায় সর্বত্রই একসঙ্গে দেখা যেত দুই বোনকে। কিন্তু এবারের পুজোয় তাঁদের আলাদা থাকা দেখে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তবে কি সত্যিই সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে? অবশেষে সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন দেবশ্রী নিজেই।
এবার দুর্গাপুজোয় কলকাতা ছেড়ে বারাণসীতে ছিলেন দেবশ্রী। তাঁর ছেলে অনীশ গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্যোগে সেখানে প্রথমবার বড় করে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। অনীশের সংস্থা ‘মায়া ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগেই এই পুজোর পরিকল্পনা করা হয়। সেই কারণেই গোটা পুজো বারাণসীতে কাটিয়েছেন দেবশ্রী। অন্যদিকে, নিজের ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন শুভশ্রী। ফলে এবারে দুই বোনকে একই জায়গায় দেখা যায়নি। আর সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।
তবে দেবশ্রীর কথায়, দুই বোনের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়ার যে জল্পনা চলছে, তা ঠিক নয়। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় তিন মাস আগেই বারাণসীতে পুজো করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সব আয়োজনও সেভাবেই করা হয়। অন্যদিকে, শুভশ্রীও নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তাই এবারে তাঁর বারাণসীতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ, দুই বোনের আলাদা শহরে পুজো কাটানোর পিছনে কোনও মনোমালিন্য নয়, বরং পরিস্থিতি ও ব্যস্ততাই কারণ বলে জানিয়েছেন দেবশ্রী।
এমনকি আগামী বছরের পুজো নিয়েও আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি। দেবশ্রীর কথায়, পরের বছর নবমীর দিন আসার কথা জানিয়েছেন শুভশ্রী। বর্ধমানের বাড়িতেও শুভশ্রীকে দিয়েই বরণ শুরু হত। সেই পুরনো রীতি আবারও ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর রাজ চক্রবর্তী এবং দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে শুভশ্রী আসবেন বলেও জানিয়েছেন দিদি। ফলে দুই বোনের সম্পর্ক নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, দেবশ্রীর বক্তব্যে তার উত্তর মিলেছে বলেই মনে করছেন অনেকে। পরিবারের সঙ্গে উৎসবের পুরনো মুহূর্তগুলি ফিরে পাওয়ার অপেক্ষাতেই রয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ মহানায়ক ভবানীপুরের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো মানেই ছিল এলাহি ভোজ! অতিথি আপ্যায়নে মহানায়কের পছন্দের মেনুতে থাকত কী কী পদ জানেন?
বারাণসীর পুজো নিয়েও উচ্ছ্বসিত দেবশ্রী। ছেলে অনীশের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোয় প্রতিদিন দেবীকে নানা পদে ভোগ নিবেদন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় লুচি, সুজি, আলুর তরকারি-সহ বিভিন্ন খাবারের আয়োজন ছিল। অষ্টমী ও নবমীর বিশেষ রীতিও পালন করা হয়েছে। মা হিসেবে ছেলের এমন উদ্যোগে গর্বিত দেবশ্রী। সব মিলিয়ে এবারের পুজোয় দুই বোনকে একসঙ্গে দেখা না গেলেও, তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো জল্পনায় দেবশ্রীর বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, আগামী বছরের পুজোয় সত্যিই কি আবার একসঙ্গে দেখা যায় শুভশ্রী ও দেবশ্রীকে।






