“বিয়ে করা স্ত্রীকেই ভুলে গেলেন, প্রমোশনের অজুহাত আর কত?” “অর্কও একই নায়িকার সঙ্গে কাজ করেও নিজের প্রেমিকাকে অবহেলা করেনি!” অভি-ছুটির থেকে রানী-দূর্জয় তিনগুন বেশি জনপ্রিয় ছিল, অর্ক পারলে রণজয় কেন পারলেন না? অভিকার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুই নায়কের তুমুল তুলনা টানলেন দর্শক! শ্যামৌপ্তির সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে রণজয়ের ‘প্রেম করেছি, মানুষ তো খু’ন করিনি’ মন্তব্যে ক্ষি’প্ত নেটপাড়া, ধেয়ে এল কটা’ক্ষের বন্যা!

রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলির দাম্পত্য নিয়ে সাম্প্রতিক জল্পনা এখন টলিপাড়ার অন্যতম আলোচিত বিষয়। বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁদের সম্পর্ক ভাঙনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। এরই মধ্যে ধারাবাহিক ‘প্রতিজ্ঞা’-র এক সহ অভিনেত্রীর সঙ্গে রণজয়ের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও নানা জল্পনা সামনে আসে। যদিও এই সমস্ত দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে নেটমাধ্যমে একের পর এক মতামত প্রকাশ করছেন দর্শকরা। সম্প্রতি সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এক দর্শকের দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া, যেখানে রণজয়ের সঙ্গে অভিনেতা অর্কপ্রভ রায়ের তুলনা টেনে সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে।

দর্শকের ওই প্রতিক্রিয়ায় লেখা হয়েছে, “একটা জিনিস আরও একবার ক্লিয়ার হল যে সম্পর্ক টিকে থাকার জন্য ছেলেদের ইফোর্ট, ছেলেদের লয়ালিটিটাই বেশি দরকার। কোনও ছেলে যদি পার্টনারের প্রতি লয়াল থাকে, তাকে ভালোবাসে, তাহলে পৃথিবীর কারোর সাধ্য নেই তাদের আলাদা করার। কেউ কাউকে কেড়ে নিতে পারে না, যদি না সে নিজে যেতে চায়।” এরপরই তিনি রণজয়ের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ‘তোমাদের রানী’ ধারাবাহিকের অর্কপ্রভ রায়ের উদাহরণ টেনে বলেন, অভিকা মালাকারের সঙ্গে জুটি জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও অর্ক কখনও নিজের বাস্তব সম্পর্ক থেকে সরে আসেননি। তাঁর দাবি, প্রকৃত ভালোবাসা থাকলে জনপ্রিয়তা কোনও সম্পর্ক ভাঙতে পারে না।

প্রতিক্রিয়ায় আরও বলা হয়েছে, “রণজয়ের সঙ্গে অভিকার জুটি যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, ‘তোমাদের রানী’ ধারাবাহিকে রানী-দূর্জয় জুটি তার থেকেও অনেক বেশি জনপ্রিয় ছিল। সেই সময় অর্ক ও তাঁর বান্ধবীকে নিয়েও প্রচুর কটূক্তি করা হয়েছে। এমনও দেখা গিয়েছে, অনেক ভক্ত চাইতেন অর্ক যেন নিজের প্রেমিকাকে ছেড়ে অভিকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। কিন্তু এত জনপ্রিয়তা, এত ফ্যানবেস থাকা সত্ত্বেও অর্ক নিজের ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে যাননি। এখনও তাঁরা একসঙ্গেই রয়েছেন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে দর্শকের একাংশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের মতে বাস্তব সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে রণজয় বিষ্ণু সমস্ত জল্পনার মাঝেই মুখ খুলেছিলেন। তিনি বলেন, “দয়া করে আমাকে বাঁচতে দিন। আমাদের যদি কোনও সমস্যা হয়, সেটা আমরা নিজেরাই মিটিয়ে নেব। যদি কোনও সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে আমরা দুজনেই জানাব। আমার যদি একাধিক প্রেম থাকে, তাতে কী অন্যায় আছে? আমি তো মানুষ খুন করিনি।” পাশাপাশি তিনি এও জানান, ধারাবাহিকের প্রচারের জন্য সহ অভিনেত্রীদের সঙ্গে ছবি বা ভিডিও পোস্ট করলেও তার পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই। তাঁর কথায়, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযথা চর্চা তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে।

তবে রণজয়ের এই ব্যাখ্যার পরও সমাজমাধ্যমে বিতর্ক থামেনি। দর্শকের ওই ভাইরাল প্রতিক্রিয়ায় আরও লেখা হয়েছে, “অন্যদিকে রণজয় জাস্ট এই কদিনেই জুটি একটু পপুলার হতেই বিয়ে করা বউকেই ভুলে গেল! সারাক্ষণ অভি-ছুটি, অভি-ছুটি করে এটা নাকি প্রমোশনের জন্য? অর্কও তো প্রমোশন করত, কিন্তু নিজের বাস্তব সম্পর্ক ঠিক রেখেই। সেই ফেম, সেই ফ্যানবেস, সেই একই নায়িকা অভিকা, সব একই। শুধু দু’জন ছেলের দু’রকম মানসিকতার জন্য তাঁদের পার্টনারদের দু’রকম পরিণতি।” যদিও এই বক্তব্য সম্পূর্ণই ওই দর্শকের ব্যক্তিগত মতামত। এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয় এবং রণজয়ের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।

আরও পড়ুনঃ “পদবি দিয়ে সুপারস্টার বানানো যায় না, আমি শুধু সুযোগ দিতে পারি!” “আমি যদি পারতাম, তাহলে তো আমার ছেলেকেই সুপারস্টার বানিয়ে দিতাম!” ছেলেদের কেরিয়ারের উদাহরণ টেনে নেপোটিজম বিত’র্কে বড় মন্তব্য মিঠুন চক্রবর্তীর! স্টারকিডদের সাফল্যের নেপথ্যে কোনটা বেশি জরুরী, কী বললেন মহাগুরু?

রণজয় ও শ্যামৌপ্তির সম্পর্ক নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিনেতা নিজেও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে দুজনেই একসঙ্গে তা প্রকাশ করবেন। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত এই সম্পর্ক ঘিরে জল্পনা, সমালোচনা এবং দর্শকদের নানান মতামত সমাজমাধ্যমে চলতেই থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে অর্কপ্রভ রায়ের ব্যক্তিগত সম্পর্কের উদাহরণ টেনে রণজয়কে নিয়ে যে তুলনা শুরু হয়েছে, তা এখন নেটদুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page