“পদবি দিয়ে সুপারস্টার বানানো যায় না, আমি শুধু সুযোগ দিতে পারি!” “আমি যদি পারতাম, তাহলে তো আমার ছেলেকেই সুপারস্টার বানিয়ে দিতাম!” ছেলেদের কেরিয়ারের উদাহরণ টেনে নেপোটিজম বিত’র্কে বড় মন্তব্য মিঠুন চক্রবর্তীর! স্টারকিডদের সাফল্যের নেপথ্যে কোনটা বেশি জরুরী, কী বললেন মহাগুরু?

বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের মনে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। শুধু অভিনয় নয়, নিজের পরিশ্রম, প্রতিভা এবং লড়াইয়ের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে মিঠুনের সাফল্যের গল্প আজও অনুপ্রেরণা দেয় বহু মানুষকে। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করা মিঠুন চক্রবর্তী পরবর্তীকালে ‘মহাগুরু’ হিসেবেও পরিচিতি পান। তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের সাফল্যের পাশে তাই তাঁর সন্তানদের ফিল্মি কেরিয়ার নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে মানুষের আগ্রহ।

তবে মিঠুন চক্রবর্তী শুধুমাত্র পর্দার অভিনেতা নন, বাস্তব জীবন ও সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তাঁকে বহুবার খোলামেলা মতামত দিতে দেখা গিয়েছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র জগতের নানা প্রচলিত ধারণা একাধিক বিষয়ে নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর এমনই একটি মন্তব্য ফের আলোচনায় এনেছে বলিউডের বহু পুরনো বিতর্ক ‘নেপোটিজম’। বিশেষ করে তারকা পরিবারের সন্তানরা কি শুধুমাত্র পরিবারের পরিচয়ের জোরে সফল হয়ে যেতে পারেন? নাকি শেষ পর্যন্ত সাফল্যের জন্য প্রয়োজন নিজস্ব প্রতিভা ও ভাগ্য? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজের পরিবারের উদাহরণই যেন সামনে এনেছেন মিঠুন।

মিঠুন চক্রবর্তীর তিন ছেলে মহাক্ষয় চক্রবর্তী, উষ্মে চক্রবর্তী এবং নমশী চক্রবর্তী। বড় ছেলে মহাক্ষয়, যিনি মিমোহ নামেও পরিচিত, বাবার পথ অনুসরণ করে অভিনয় জগতে পা রাখেন। ২০০৮ সালে ‘জিমি’ ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিনয়ে অভিষেক হয়। এরপর ২০১১ সালে ‘হন্টেড থ্রিডি’-সহ একাধিক সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। মেজো ছেলে উষ্মে চক্রবর্তী অবশ্য অভিনয়ের সামনে থাকার চেয়ে মিডিয়া এবং পর্দার আড়ালের কাজেই বেশি আগ্রহী। অন্যদিকে ছোট ছেলে নমশী চক্রবর্তীও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ মিঠুনের সন্তানদের মধ্যেও চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

এই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে মিঠুন চক্রবর্তীর বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিনেতার কথায়, “আমি তাহলে আমার ছেলেকে সুপারস্টার বানিয়ে দিতাম। আমি কি সেটা পেরেছি?” এরপরই নেপোটিজম প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “নেপোটিজম কোনও কাজ করে না। প্রতিভা থাকলে এমনিতেই সমস্ত কিছু হবে।” মিঠুনের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, শুধুমাত্র তারকা পরিবারের সন্তান হওয়া মানেই যে সাফল্য নিশ্চিত, তা নয়। পরিবার হয়তো ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা এবং নিজের জায়গা তৈরি করতে প্রয়োজন প্রতিভা, পরিশ্রম ও ভাগ্যেরও।

আরও পড়ুনঃ “ওনার পেছন পেছন ঘুরতেন, প্রশ্রয় দিতেন না তবুও জড়িয়ে ধরতেন…এমনকি ফেলে দেওয়া পানও কুড়িয়ে খেয়ে ফেলেছিলেন!” যে উত্তম কুমারকে ঘিরে এমনই ছিল বাঙালির উন্মাদনা, এক ঝলক দেখতে স্টুডিও ও স্টেজে উপচে পড়ত ভিড়! এবার সেই মহানায়কের কোন অনুরাগীর এমন চমকে দেওয়া কাণ্ড ফাঁস করলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল?

মহাক্ষয় চক্রবর্তী অভিনয় জগতে পা রাখলেও এখনও পর্যন্ত বাবার মতো সর্বভারতীয় জনপ্রিয়তা বা সাফল্য অর্জন করতে পারেননি এমনটাই মনে করেন বহু দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমী। সেই বাস্তবতার দিকেই কি ইঙ্গিত করেছেন মিঠুন? তাঁর বক্তব্যে যেন স্পষ্ট, তিনি চাইলে নিজের প্রভাব ব্যবহার করে ছেলেকে হয়তো আরও বেশি সুযোগ পাইয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু ‘সুপারস্টার’ বানানো তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ, মিঠুনের মতে, তারকা হওয়ার জন্য শুধু পদবি যথেষ্ট নয় প্রতিভা ও ভাগ্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াটাই শেষ কথা। তাঁর এই মন্তব্য তাই ফের প্রশ্ন তুলেছে, স্টারকিডদের জন্য দরজা খুলে যেতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের সাফল্যের চাবিকাঠি কি শেষ পর্যন্ত প্রতিভাই?

You cannot copy content of this page