টলিপাড়ায় এমন কিছু জুটি আছে, যাঁদের ব্যক্তিগত জীবনও দর্শকের কাছে ঠিক ততটাই আগ্রহের, যতটা তাঁদের পর্দার রসায়ন। অভিনেতা ‘গৌরব চক্রবর্তী’ (Gaurav Chakrabarty) এবং ‘ঋদ্ধিমা ঘোষ’ (Ridhima Ghosh) ঠিক তেমনই এক ‘পাওয়ার কাপল’ দম্পতি। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ে, তারপর একসঙ্গে পর্দায় কাজ আবার সন্তানের আগমনে জীবনের গতি খানিক বদলে নেওয়া মিলিয়ে তাঁদের যাত্রাপথটা খুবই স্বাভাবিক, অথচ আলাদা করে চোখে পড়ার মতো।
অভিনয় জগতে গৌরবের পরিচয় শুধু তাঁর নিজের কাজের জন্যই নয়, পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রেও। বাবা সব্যসাচী চক্রবর্তী ও মা মিঠুন চক্রবর্তীর কাছ থেকে যে শৃঙ্খলা, রুচি আর সংযত ব্যক্তিত্ব তিনি পেয়েছেন, তা তাঁর কথাবার্তা ও আচরণে স্পষ্ট। ঋদ্ধিমার ক্ষেত্রেও বিষয়টা আলাদা নয়, নিজের অভিনয় দক্ষতা ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে তিনি বরাবরই আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। বিয়ের আগে সাত বছরের প্রেম আর পরে সাত বছরের সংসার, এই দীর্ঘ সময় একে অপরকে বোঝার ভিতটা আরও মজবুত করেছে তাঁদের সম্পর্ককে।
ছেলের জন্মের পর দুজনেই কিছুদিন কাজ থেকে দূরে ছিলেন। সেই বিরতিটা যে শুধু বিশ্রামের জন্য নয় বরং নতুন ভূমিকার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য, তা তাঁদের কথায় বোঝা যায়। তবে কাজের প্রতি টান থেকেই আবার তাঁরা ফিরেছেন পর্দায়। জি বাংলার ‘রন্ধনে বন্ধন’-এর সঞ্চালনায় দম্পতিকে দেখা গিয়েছিল গত বছর। তারপরে জুটিতে না হলেও, গৌরব একাধিক ছবি এবং সিভিজে কাজ করে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। তবু দর্শকের মনে গৌরব-ঋদ্ধিমা মানেই আজও ‘ব্যোমকেশ আর সত্যবতী’র পরিচয়টা আলাদা জায়গা ধরে রেখেছে।
ঠিক সেই কারণেই, মাঝে মাঝে তাঁদের একসঙ্গে পর্দায় দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন অনুরাগীরা। এখন যদিও তাঁদের জীবনের কেন্দ্রে ছোট্ট ধীর। স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে সে, ধীরে ধীরে চারপাশের সবকিছু বুঝতে শিখছে। বাবা-মায়ের চোখে এই সময়টা খুব মূল্যবান। বিশেষ করে গৌরবের কাছে, সন্তানের বেড়ে ওঠা মানে নিজের দায়িত্বকে নতুন করে ভাবা। সেই ভাবনাগুলোই এদিন ছেলেকে ঘিরে কথা বলতে গিয়ে তিনি অকপটে প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, “আরও একটু সতর্ক জীবন যাপন করতে হবে।
যাতে আমার কাছে যেমন আমার বাবা রোল মডেল হয়ে থেকে এসেছেন এত বছর, আমিও যাতে আমার ছেলে ধীরের কাছে তেমনটা হতে পারি। আর এটাই আমার কাছে এবং আমার স্ত্রী ঋদ্ধিমার কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। এখন তো বাড়ি থেকে বেরোতে ইচ্ছা করে না। সব সময় মনে হয় ছেলের সঙ্গেই থাকি, একসঙ্গে সময় কাটাই। অনেকদিন কাজের সূত্রে বাইরে থাকলে, কত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরব সেই চিন্তাই মাথায় থাকে। তারপর বাড়ি ফিরে আসলে, ছেলের মুখের আনন্দটা দেখলে তৃপ্তিটা বলে বোঝানো যাবে না। ছোটবেলা খুব তাড়াতাড়ি কেটে যায়।
আরও পড়ুনঃ “আমি বিশ্বের একমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যে অভিনেতা, রিসার্চার ও কর্পোরেট মানুষ!” এক শরীরে এত পরিচয় বিরল মনে করেন হার্ভার্ডের প্রফেসর, জানালেন হিরন চট্টোপাধ্যায়! ‘নিজের ঢাক কি নিজেই পেটাচ্ছেন অভিনেতা?’ প্রশ্ন সমাজ মাধ্যমের!
এই সময়টা তো আর ফিরে আসবে না, তাই যতটা পারছি স্বাদ নিয়ে নিচ্ছি।” এই মুহূর্তে গৌরব-ঋদ্ধিমার জীবনে কাজ আর পরিবারের মধ্যে এক সুন্দর ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে ঝলমলে তারকাজীবন মনে হলেও, ভেতরে তাঁদের ভাবনাগুলো খুবই সাধারণ। সময়কে ধরে রাখা, সন্তানের পাশে থাকা আর যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবন উপভোগ করা। হয়তো এই সহজতাই তাঁদের আরও আপন করে তোলে দর্শকের কাছে। আমাদের জানান, আপনাদের কেমন লাগে এই দম্পতিকে?






