‘আমারও ভালো লাগেনি নাচটা, কিন্তু দোষ কোরিওগ্রাফারের, ঋতুপর্ণার না!’ ‘ঋতু খুব বড় মনের মেয়ে, কী যে ভালো এরকম কেউ হয়ই না’ মহালয়ার অনুষ্ঠানে লাল শাড়িতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর নাচ নিয়ে বিত’র্কে মুখ খুললেন ইন্দ্রাণী হালদার, সহ অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে রাখলেন স্পষ্ট মত! ‘না না, আপনারা সব ধোঁয়া তুলসী পাতা’ হলেন ট্রো’ল!

মহালয়ার অনুষ্ঠানে ঢাকের তালে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের নাচ ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা এখনও থামার নাম নিচ্ছে না। সরকারি অনুষ্ঠানে লাল শাড়ি ও গয়নায় সেজে ধুনুচি নাচ পরিবেশন করেছিলেন অভিনেত্রী। সেই পারফরম্যান্সের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর নাচের ধরন, অভিব্যক্তি এবং শারীরিক ভঙ্গিমা নিয়ে নানা মন্তব্য করতে শুরু করেন নেটিজেনদের একাংশ। কেউ তাঁর নাচের সমালোচনা করেন, আবার কেউ অভিনেত্রীর পোশাক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এবার এই বিতর্কে মুখ খুললেন অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদার। দীর্ঘদিনের বন্ধু ঋতুপর্ণার নাচ নিয়ে নিজের মতামত জানাতে গিয়ে তিনি যেমন পারফরম্যান্সের সমালোচনা করেছেন, তেমনই অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রোলারদের মানসিকতা নিয়েও কথা বলেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রাণী স্পষ্ট জানান, ঋতুপর্ণা তাঁর খুব প্রিয় বন্ধু হলেও ওই দিনের নাচ তাঁর ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ পছন্দ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘ঋতু আমার খুব প্রিয়, খুব ভালো বন্ধু। নাচটা আমার ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা ভালো লাগেনি। ও ওরকম নাচ না করলেই পারত।’ তবে নাচ ভালো না লাগার অর্থ যে ঋতুপর্ণার নাচের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নয়, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। ইন্দ্রাণীর মতে, ঋতুপর্ণা একজন ভালো নৃত্যশিল্পী। কিন্তু মহালয়ার অনুষ্ঠানে তাঁর জন্য যে কোরিওগ্রাফি তৈরি করা হয়েছিল, সেটাই তাঁর পছন্দ হয়নি। অর্থাৎ অভিনেত্রীর নাচের সামগ্রিক দক্ষতার বদলে ওই নির্দিষ্ট পারফরম্যান্সের পরিকল্পনা ও উপস্থাপনাতেই আপত্তি জানিয়েছেন ইন্দ্রাণী।

ঋতুপর্ণার নাচের সমালোচনা করতে গিয়ে কোরিওগ্রাফারের দিকেই বেশি করে আঙুল তুলেছেন ইন্দ্রাণী। তাঁর মতে, এই পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে ঋতুপর্ণার নিজের যতটা না দায়, তার চেয়ে বেশি দায় কোরিওগ্রাফির। তবে একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, একজন অভিজ্ঞ শিল্পী হিসেবে ঋতুপর্ণারও কোরিওগ্রাফারের সঙ্গে নিজের মতামত ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ ছিল। নাচের ভঙ্গিমা যদি অতিরিক্ত উগ্র বলে মনে হয়ে থাকে, তাহলে অন্যভাবে পরিবেশনার কথা বলা যেত। ইন্দ্রাণীর কথায়, ‘এখানে ঋতুর খুব একটা দোষ নেই, দোষ কোরিওগ্রাফারের।’ তাঁর ধারণা, ঋতুপর্ণা স্বভাবগতভাবে অত্যন্ত ভালো মানুষ বলেই হয়তো নিজের আপত্তির কথা সেভাবে জানাতে পারেননি। তবে এই ঘটনার পর থেকে কাজের ক্ষেত্রে অন্যের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আগে আরও সচেতন হবেন অভিনেত্রী, এমনটাই মনে করছেন ইন্দ্রাণী।

নাচের কোরিওগ্রাফি নিয়ে আপত্তি থাকলেও ঋতুপর্ণার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এবং ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেছেন ইন্দ্রাণী। তাঁর মতে, বিনোদন জগতে এত বছর ধরে নিজের জায়গা ধরে রাখা মোটেই সহজ কাজ নয়। এর জন্য প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, মানসিক শক্তি এবং ধৈর্য। ইন্দ্রাণী মনে করিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘদিনের কেরিয়ারে ঋতুপর্ণা নিজের জায়গা তৈরি করেছেন এবং এখনও কাজ করে চলেছেন। সমাজ মাধ্যমে অভিনেত্রীকে নিয়ে নানা ধরনের কটাক্ষ করা হলেও সেগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন না তিনি। ইন্দ্রাণীর কথায়, ঋতুপর্ণা যেভাবে ট্রোলিং উপেক্ষা করেন, তা তাঁর কাছেও শেখার মতো বিষয়। অর্থাৎ বন্ধুর নাচের সমালোচনা করলেও ব্যক্তিগতভাবে ঋতুপর্ণার কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং নেতিবাচক মন্তব্য সামলে নেওয়ার ক্ষমতাকে যথেষ্ট সম্মান করেন তিনি।

এদিকে মহালয়ার অনুষ্ঠানের নাচ নিয়ে ঋতুপর্ণা নিজেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সমাজমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে নানা কটাক্ষের জবাবে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, কে কী বললেন, তা নিয়ে তাঁর বিশেষ মাথাব্যথা নেই। ‘কে কী বলল তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না, কুছ তো লোগ কহেঙ্গে’, এমনই মনোভাব প্রকাশ করেছেন তিনি। অর্থাৎ নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা হলেও তা নিয়ে অনুতাপ বা আক্ষেপ প্রকাশ করতে রাজি নন অভিনেত্রী। বরং নিজের কাজের প্রতি আস্থা রেখেই এগিয়ে যেতে চান তিনি। এর আগে তাঁর পোশাক, মঞ্চে পারফরম্যান্স এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এবারও নেতিবাচক মন্তব্যকে গুরুত্ব না দেওয়ার অবস্থানেই অনড় রয়েছেন ঋতুপর্ণা।

আরও পড়ুনঃ ‘অসুর ছাড়াও পেয়ে গেল?’ মা দুর্গার বোধন হতেই জামিন পেলেন ‘অমানুষ’ সন্দীপ ঘোষ! আরজি কর কাণ্ডে অভয়ার নৃ’শংস পরিণতির বিচার চেয়ে ‘রাত জাগো’ পরিণত হলো নিদারুণ পরিহাসে? ক্ষো’ভ উগরে কী লিখলেন শ্রীলেখা মিত্র?

সব মিলিয়ে, ঋতুপর্ণার মহালয়ার নাচ নিয়ে ইন্দ্রাণী হালদারের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বন্ধুর পারফরম্যান্স তাঁর ভালো লাগেনি, কোরিওগ্রাফি নিয়েও আপত্তি রয়েছে, অথচ সেই কারণে ঋতুপর্ণাকে একতরফাভাবে দোষারোপ করার পক্ষেও নন তিনি। বরং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ অভিনেত্রী হিসেবে ঋতুপর্ণার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কাজের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই বলেছেন ইন্দ্রাণী। অন্যদিকে ঋতুপর্ণা জানিয়েছেন, মানুষের মন্তব্যে তাঁর কিছু যায় আসে না। ফলে এই বিতর্কে একদিকে যেমন নাচের উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তেমনই শিল্পীর স্বাধীনতা, কাজের ধরন এবং সমাজমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে সমালোচনার প্রবণতাও উঠে আসছে আলোচনার কেন্দ্রে।

You cannot copy content of this page