বিগ বস বাংলার ঘরে ফের মুখোমুখি জিতু কমল ও রাজবীর দে। শনিবারই রাজবীরকে কেন্দ্র করে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিলেন জিতু। সপ্তাহান্তের পর সোমবারের পর্বের আগেই প্রকাশ্যে এসেছে নতুন একটি ঝলক। সেখানে জিতু ও রাজবীরকে একে অপরকে হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। ঘরে ঢোকার আগে থেকেই রাজবীরের স্বভাব ও মেজাজ নিয়ে জিতুর আপত্তি ছিল। এবার সেই পুরনো বিরোধই ফের প্রকাশ্যে আসায় বিগ বসের ঘরের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
রাজবীর ঘরে ঢোকার আগেই তাঁর ছবি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সামনে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলেন জিতু। অভিনেতার স্বভাব নিয়ে তখন থেকেই তাঁর বিরূপ মনোভাবের কথা প্রকাশ্যে এসেছিল। তবে বিগ বসের ঘরে রাজবীরের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর কিছুটা বদল এসেছিল পরিস্থিতিতে। এমনকি বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে গত সপ্তাহের মনোনয়ন থেকেও রাজবীরকে বাঁচিয়েছিলেন জিতু। তবে সেই বন্ধুত্ব বেশিদিন টেকেনি বলেই সোমবারের নতুন ঝলক থেকে বোঝা যাচ্ছে। দুজনের মধ্যে কথার লড়াই ধীরে ধীরে এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজবীর ও জিতুর এই নতুন দ্বন্দ্ব নিয়েই এখন দর্শকদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা।
সোমবারের পর্বের প্রকাশিত ঝলকে জিতুকে রাজবীরকে কড়া হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায়। তিনি কার্যত বলেন, দুজনেই যদি এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছন যে হাসপাতালে যেতে হয়, তাতেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না। এরপর আরও আক্রমণাত্মক সুরে রাজবীরকে হুমকি দেন জিতু। তাঁর বক্তব্যের অর্থ ছিল, রাজবীরকে তিনি নিজেই আগে আঘাত করবেন এবং কোনওভাবেই তাঁকে শেষ পর্যন্ত পৌঁছতে দেবেন না। জিতু স্পষ্ট করে জানান, রাজবীরকে প্রতিযোগিতার শেষ ধাপ পর্যন্ত যেতে দেওয়ার ইচ্ছা তাঁর নেই। অন্যদিকে রাজবীরও এই পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকেননি এবং দুজনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে দেখা যায়। ফলে প্রকাশিত ঝলক দেখে মনে হচ্ছে, কথার লড়াই এবার শারীরিক সংঘর্ষের দিকেও গড়াতে পারত।
এই ঝলক প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজবীরের অনুরাগীদের একাংশ জিতুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজনের বক্তব্য, জিতুও বুঝে গিয়েছেন রাজবীরকে ঘিরে থাকা আলোচনার বাইরে থাকলে তাঁর প্রচারের সুযোগ কমে যাবে। আরেকজন প্রশ্ন তুলেছেন, রাজবীরকে ফাইনালে যেতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার জিতুকে কে দিয়েছে। কেউ আবার বলেছেন, শেষ পর্যন্ত দর্শকরাই ঠিক করবেন কে ফাইনালে যাবেন। আরও এক দর্শকের মন্তব্য, জিতুর এই হুমকির পর যদি রাজবীর শেষ পর্যন্ত ফাইনালে না পৌঁছন, তাহলে অনুষ্ঠানটি সাজানো কি না, সেই প্রশ্ন উঠবে। অন্য এক দর্শক জিতুর পুরনো বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর আচরণ নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। অর্থাৎ প্রকাশিত ঝলক ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে রাজবীরের পক্ষের দর্শকদের প্রতিক্রিয়াই এখন বেশি চোখে পড়ছে।
আরও পড়ুনঃ “মা চেয়েছিলেন মেয়ে নয় ছেলে হোক…সেদিন জলের জায়গায় গায়ে অ্যা*সিড ঢেলে স্নান করেছিলাম” পু*ড়ে গিয়েছিল সারা শরীর, তারপর কীভাবে বাবা তাঁকে বাঁচিয়ে এনেছিলেন মৃ’ত্যুর মুখ থেকে? শৈশবের সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়? এককালের দস্যি মেয়েই কীভাবে হয়ে উঠেছিলেন সত্যজিতের শান্ত ‘চারুলতা’?
এদিকে চলতি মরশুমে জিতু কমলই বিগ বস বাংলার সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া প্রতিযোগী বলে খবর রয়েছে। অভিনেতার জনপ্রিয়তার কারণে দর্শকদের মধ্যে তাঁর পরিচিতিও যথেষ্ট, তাঁকে অনেকে দর্শকের প্রিয় তারকা হিসেবে দেখেন। ঘরের অন্য প্রতিযোগীদের মধ্যেও জিতুর সঙ্গে অনেকের ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে রাজবীরের পাশে বসেই ভরত কলকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন তিনি। জিতু জানিয়েছিলেন, একসময় ভরত কল তাঁর অভিনয়জীবনের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে বর্তমানে ভরত কলের সঙ্গেই তাঁর ঘনিষ্ঠতা দেখা যাচ্ছে, পাশাপাশি মনামী, দীপেন্দু, সৃজলা, দুর্নিবার, তনুশ্রী, নিরঞ্জন ও ঝিলমের সঙ্গেও তাঁর সদ্ভাব রয়েছে। তবে এখনও তিনি কোনও নির্দিষ্ট দলে সরাসরি যোগ দেননি এবং নিজের পরবর্তী চালও প্রকাশ্যে জানাননি। এরই মধ্যে আলেক্সজান্দ্রা টেলর ও সায়ক চক্রবর্তী সপ্তাহান্তে ঘর ছেড়েছেন, তার আগে বিদায় নিয়েছিলেন জয়িতা চট্টোপাধ্যায় এবং প্রথম সপ্তাহেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন অনিন্দ্য সেনগুপ্ত।






