মারলেন পাল্টি! “আমি তৃণমূলপন্থী নই, আমার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই” মমতার পরাজয়ের পর, সুর বদল কবীর সুমনের? ১৫ বছরের সম্পর্ক উড়িয়ে বি’স্ফোরক দাবি!

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে শিল্পী কবীর সুমনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত মার্চ মাসে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি এসআইআর ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর অনেকেই মনে করেছিলেন, তিনি তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ অবস্থানেই রয়েছেন। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে রাজ্যে বিজেপির জয় আসার পর তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সেখানে কবীর সুমন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই।” এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল ও কবীর সুমনের নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হলেও এখন সেই সমীকরণে বদলের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে। সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। এবারের নির্বাচনে পনেরো বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পদ্ম শিবির রাজ্যের মসনদ দখল করেছে। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে পরিবর্তনের ভোটে শাসক দল বদলের প্রবণতা আগেও দেখা গিয়েছে, ২০১১ সালেও তার নজির ছিল। এবারও সেই ধারাই বজায় থাকল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

এই ফল প্রকাশের পরই কবীর সুমনের সাক্ষাৎকার সামনে আসে এবং তা নিয়ে চর্চা আরও বাড়ে। কারণ, দীর্ঘদিন রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর নাম তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিল। সেই জায়গা থেকেই তাঁর মন্তব্যকে অনেকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাঁর কথাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সাক্ষাৎকারে কবীর সুমন বলেন, “আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না। আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি।” অর্থাৎ তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের স্থায়ী সদস্য হিসেবে নিজেকে কখনও দেখেননি।

একই সঙ্গে তিনি ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “যেভাবে ভোটটা হল, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল। ভাবতে পারিনি যে, ট্যাঙ্ক ঢুকবে।” যদিও তিনি এও বলেন, কেন জনাদেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গেল, তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন না। তবে তাঁর মতে, একাধিক ভুলের প্রভাব ভোটে পড়েছে। তৃণমূলের ফল খারাপ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কবীর সুমন বলেন, চাকরির প্রশ্নে মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তাঁর কথায়, “চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ংকরভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেননি।”

পাশাপাশি তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর না। তিনি পারেননি।” তবে সমালোচনার পাশাপাশি তিনি সরকারের কিছু প্রকল্পের প্রশংসাও করেন। বিশেষ করে “সবুজসাথী” প্রকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, “বাচ্চারা সাইকেল পেয়েছে। এটা কতবড় কাজ।” আরও বলেন, এসব কাজের জন্য “একদিন মমতার একটা মন্দির হবে।” ফলে তাঁর মন্তব্যে যেমন সমালোচনা রয়েছে, তেমনই প্রশংসাও রয়েছে। নতুন সরকারকে নিয়েও আশাবাদী সুর শোনা যায় কবীর সুমনের কথায়। তিনি বলেন, “সিপিএম বা তৃণমূল আমলে মেয়েদের নিরাপত্তা কিন্তু সুনিশ্চিত ছিল।

আরও পড়ুনঃ “আমার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল ও আছে”, “অন্যায়ের প্রতিবাদে তৃণমূলকেই দেখেছি, ওদের ভালোকে ঢেকে দেওয়া হয়েছে” পালাবদলের পর মুখ খুললেন পরমব্রত!

তিনি আরও বলেন, “আমি আশা করব, নতুন সরকার যেন সেই ধারা বজায় রাখেন।” একই সঙ্গে তিনি জানান, “এখনও ভোট হলে আমি তৃণমূলকেই দেব।” তবে তাঁর আরেক মন্তব্য নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, “সেরকম কোনও কমিউনিস্ট পার্টি এলে আমি এই বুড়ো বয়সেও তাঁদের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করব। আমি তাঁদের জন্য গান বাঁধব। তাঁদের পাশে থাকব।” এই বক্তব্য সামনে আসার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কবীর সুমন কি আবার নিজেকে প্রকাশ্যে বামপন্থী ভাবধারার কাছাকাছি বলে জানালেন?

You cannot copy content of this page