“ধীরে ধীরে আমার দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে, যেটা সাড়ানো একেবারেই অসম্ভব” চোখে দেখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছিলেন কাঞ্চন মল্লিক! নেমেছিল অন্ধকার, কীভাবে আবার ফিরে পেলেন আলো? ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ভাগ করে ‘নতুন সূর্যোদয়’-এর গল্প শোনালেন অভিনেতা?

আরজি কর আন্দোলনের সময় চিকিৎসকদের নিয়ে মন্তব্য করে একসময় প্রবল বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অভিনেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “যারা কর্মবিরতি করছেন বা শাসক দলের বিরুদ্ধে বলছেন তারা সরকারি বেতনটা নিচ্ছেন তো? নাকি নিচ্ছেন না? পুজোর বোনাসটা নেবেন তো?” এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ, অনেকেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমানে শাসক দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। বিধায়ক পদও আর নেই তাঁর ঝুলিতে। আর সেই কাঞ্চনই এবার এক চিকিৎসককে নিজের জীবনের “একজন নতুন আলো, এক নতুন সূর্য” বলে উল্লেখ করে নতুন পোস্ট করলেন সমাজমাধ্যমে। তাঁর সেই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের শারীরিক সমস্যার কথা খোলাখুলি জানান কাঞ্চন। তিনি লেখেন, বহুদিন ধরেই তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমছিল। ছোটবেলা থেকেই চোখে চশমা ছিল তাঁর। অভিনেতার কথায়, “আমার ক্লাস ওয়ানেরও আগে থেকে চোখে চশমা। ডান চোখে সাংঘাতিক মাইনাস পাওয়ার, ডান চোখে মাইনাস ৮, বাম চোখে মাইনাস ৩।” বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যাও বাড়তে থাকে। এরপর একাধিক চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হতাশার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। কাঞ্চনের দাবি, একসময় তাঁকে জানানো হয়েছিল যে তাঁর ডান চোখের পাওয়ার “মাইনাস ১৮” পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে এবং সেটি আর ঠিক করা সম্ভব নয়। সেই পরিস্থিতিতে তিনি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন।

এরপর স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টোরাজের পরামর্শেই শহরের একটি নামী বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে যান অভিনেতা। সেখানেই চিকিৎসক ডঃ সমর কুমার বসাক তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। কাঞ্চনের কথায়, অন্যরা যেখানে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেছিলেন, সেখানে এই চিকিৎসকই তাঁকে নতুন আশার কথা শোনান। ডঃ বসাক জানান, লেজার অপারেশনের মাধ্যমে তাঁর চোখের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। সেইমতো চিকিৎসা শুরু হয়। পরে সফলভাবে অপারেশনও সম্পন্ন হয়। কাঞ্চন জানান, অপারেশনের পর তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো হয়েছে। শুধু তাই নয়, এখন আর নিয়ম করে চশমা পরারও প্রয়োজন হচ্ছে না। দীর্ঘদিনের সমস্যা কাটিয়ে ওঠায় স্বস্তিতে অভিনেতা।

চিকিৎসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কাঞ্চন। তিনি লেখেন, “ডঃ সমর কুমার বসাক আমার জীবনে শুধুমাত্র একজন ডাক্তার নন, তিনি আমার জীবনের একজন নতুন আলো, এক নতুন সূর্য, যিনি আমাকে এই পৃথিবীটাকে নতুন করে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন।” অপারেশনের ফল নিয়েও বিস্তারিত জানান তিনি। তাঁর কথায়, “লেজার অপারেশনের পরে এখন আমার ডান চোখে কোনো পাওয়ারই নেই, বাম চোখে মাইনাস ১ মাত্র।” এত বছর ধরে চশমা পরে থাকার পর এমন পরিবর্তন তিনি নিজেও ভাবতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে চশমা শুধু প্রয়োজন পড়লে ব্যবহার করেন বলেও লেখেন অভিনেতা। চিকিৎসার পরে তাঁর জীবনে যে বড় পরিবর্তন এসেছে, সেটাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “৪৬ সালের ইতিহাসও কি রাজনীতি?” “সব জায়গায় হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ?” এত বছরের কেরিয়ারে এমন অপমান পাইনি! রাজ্যে পালাবদলের পরই মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্যা বেঙ্গল ফাইলস’, ক্ষুব্ধ মিঠুন চক্রবর্তী! ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগও তুললেন অভিনেতা?

নিজের পোস্টের শেষদিকে আরও আবেগঘন কথা লিখেছেন কাঞ্চন মল্লিক। তিনি জানান, “আমি ভাবতেও পারিনি চল্লিশ বছরের উপর যেটিকে নাকের উপর বহন করেছি সেটা একটিমাত্র অপারেশনে পালটে যাবে।” নতুন করে পৃথিবীকে দেখতে পাওয়ার অনুভূতিও ভাগ করে নেন তিনি। অপারেশনের পর প্রথমবার চারপাশ দেখে তাঁর মনে পড়ে যায় একটি গানের লাইন। কাঞ্চনের ভাষায়, “অপারেশনের পরে যখন প্রথম আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখেছি, তখন ওই গানটাই মনে পড়েছে, ‘এই এত আলো, এত আকাশ আগে দেখিনি। ওই চোখে পড়েনি…’।” তাঁর এই পোস্টে অনুরাগী থেকে সহকর্মী, বহু মানুষ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অনেকেই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য চিকিৎসককেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন সমাজমাধ্যমে।

You cannot copy content of this page