বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে শিল্পীদের মধ্যে নানা মতভেদ দেখা যায়। কেউ এটিকে শিল্পের প্রসারের নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এর ফলে শিল্পের গভীরতা ও মনোযোগ কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মতো ধৈর্য ও সময়নির্ভর শিল্পে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। ছোট ছোট ভিডিও বা রিলসের দুনিয়ায় যেখানে দ্রুত বিনোদনই মূল লক্ষ্য, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে মন দিয়ে গান শোনার অভ্যাস ক্রমশ কমে আসছে এমনটাই মনে করছেন অনেক শিল্পী।
এবার সেটা নিয়েই মুখ খুললেন কৌশিকী চক্রবর্তী (Kaushiki Chakraborty)। ১৯৮০ সালে কলকাতায় জন্ম নেওয়া এই বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী এক সঙ্গীতময় পরিবারে বড় হয়েছেন। তাঁর বাবা পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী (Pandit Ajoy Chakrabarty) এবং মা চন্দনা চক্রবর্তী (Chandana Chakrabarty)—দুজনেই সংগীত জগতের পরিচিত নাম। ছোটবেলা থেকেই গানের পরিবেশে বেড়ে ওঠা কৌশিকী আজ পাতিয়ালা ঘরানার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন, দেশ-বিদেশের বহু বড় মঞ্চে সাফল্যের সঙ্গে গান গেয়ে।
কৌশিকী মনে করেন, আজকের ১৫-৩০ সেকেন্ডের রিলস বা শর্ট ভিডিও মানুষের মনোযোগের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। তাঁর মতে, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এমন একটি শিল্প যা সময় নিয়ে, ধীরে ধীরে অনুভব করতে হয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুতগতির কনটেন্ট সেই ধৈর্যের জায়গাটিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এতে একধরনের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, যা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসল রস উপভোগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে তিনি সোশ্যাল মিডিয়াকে সম্পূর্ণ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন না। বরং এটিকে একটি নতুন সুযোগ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর কথায়, ছোট ভিডিওর মাধ্যমে নতুন শ্রোতারা সহজেই কোনো রাগ বা শিল্পীর সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, যা তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে পারে। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই সংক্ষিপ্ত অভিজ্ঞতা কখনোই পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আস্বাদ দিতে পারে না। একজন প্রকৃত শ্রোতার জন্য লাইভ কনসার্ট বা সম্পূর্ণ রেকর্ডিং শোনার বিকল্প নেই।
আরও পড়ুনঃ আবারও ফাঁস, নায়কের ঘনি’ষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও! এবার বিতর্কে সপ্তর্ষি রায়! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চর্চা তুঙ্গে! সত্যি না কি এআই ফাঁদে টেলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেতা? কী বললেন তিনি?
নতুন প্রজন্মকে নিয়ে কৌশিকীর আস্থা প্রবল। তিনি মনে করেন, জনপ্রিয়তার জন্য সঙ্গীতের বিশুদ্ধতা বিসর্জন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি নিষ্ঠা, সাধনা এবং আন্তরিকতা দিয়ে গান পরিবেশন করা যায়, তবে আজকের তরুণ প্রজন্মও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি আকৃষ্ট হবে। একইসঙ্গে কৌশিকি চক্রবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিও সামনে এনেছেন—তিনি নিজেকে আর “ক্লাসিক্যাল সিঙ্গার” বলতে চান না। তাঁর মতে, একজন প্রকৃত সঙ্গীতশিল্পী হতে গেলে আগে গান জানা জরুরি, আর সেই গান যেকোনো ধারারই হতে পারে। তিনি স্বীকার করেছেন, একসময় তিনি নিজেকে ক্লাসিক্যাল সিঙ্গার বলতেন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও বৃহত্তর সঙ্গীতজগতকে কাছ থেকে দেখার পর সেই নির্দিষ্ট সংজ্ঞা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এখন তাঁর কাছে সঙ্গীত অনেক বড় একটি পরিসর, আর সেই কারণেই নিজেকে কেবল একটি ঘরানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে তিনি রাজি নন।






