‘একটাই নাম লম্পট!’ ৮০ হাজার টাকার সিঙাড়ার বাজেট, প্রতিনিয়ত মহিলাদের যৌ’ন হেন’স্থা! অরিন্দম শীলকে ঘিরে বি’স্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় টলিপাড়া!

টলিউডের অন্দরে বহুদিন ধরে চাপা থাকা অসন্তোষ ও নানা অভিযোগ যেন একে একে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ইন্ডাস্ট্রিতে ক্ষমতার রাজনীতি ও নানা অনিয়ম নিয়ে যখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করেন পরিচালক রাতুল মুখোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় ছিলেন পরিচালক ও অভিনেতা অরিন্দম শীল। ফেসবুকে রাতুল সরাসরি লেখেন, “এরকম লম্পট লোক আমি আমার জীবনে খুব কম দেখেছি…” এই মন্তব্য সামনে আসতেই স্টুডিওপাড়া জুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পোস্টে তিনি শুধু ব্যক্তিগত আচরণ নয়, ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন দিক নিয়েও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই টলিপাড়ায় নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাতুলের পোস্টের প্রথম বড় অভিযোগ যৌ’ন হেন’স্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তাঁর দাবি, বহু নারীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর ডিরেক্টর্স গিল্ড অভিযুক্ত ব্যক্তির সদস্যপদ স্থগিত করেছিল। এরপর নিজের অবস্থান শক্ত রাখতে এক রাজনৈতিক নেতার সহায়তায় নতুন একটি সমান্তরাল গিল্ড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাতুলের বক্তব্য, বর্তমানে নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরেও দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখন যদি বলা হয় “যদি কেউ কিছু করে থাকে”

তাহলে এতদিনের ঘটনাগুলি কি অজানা ছিল? তাঁর মতে, বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান সংকটের পিছনে এই ধরনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের অর্থ খরচের প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর মন্তব্য, “৮০ হাজার টাকার সিঙাড়ার বাজেট!” পূরণ করতেই কি মানুষের করের টাকা ব্যবহার হবে? শুধু ব্যক্তিগত আচরণ নয়, ইন্ডাস্ট্রিতে ক্ষমতার ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাতুল। তাঁর অভিযোগ, নতুন ও স্বাধীন পরিচালকদের কাজের পথে বাধা তৈরি করার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। বিশেষ করে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ নন্দনে ছবি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অযথা প্রভাব খাটানোর অভিযোগও করেন তিনি।

রাতুলের দাবি, অনেক নতুন পরিচালকের ছবি যাতে সুযোগ না পায়, তার জন্য নানা স্তরে চাপ তৈরি করা হত। এই কাজে টলিপাড়ার আরও কিছু ব্যক্তির ভূমিকা ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। যদিও সেই সব নাম তিনি এখনও প্রকাশ করেননি। তবে খুব শীঘ্রই তাঁদের পরিচয় সামনে আনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ফলে বিতর্ক আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পোস্টে ইন্ডাস্ট্রির মহিলাদের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন রাতুল। তিনি লেখেন, “ওঁর স্বভাব-চরিত্রের কথা তো বাদই দিলাম। ইন্ডাস্ট্রির একাধিক মহিলা কেন ওঁর নামের পাশে এত ‘বিশেষণ’ ব্যবহার করেন, তা এখন টলিপাড়ার মানুষের কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।”

তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের ফলে বহু বিষয় এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তিনি মনে করেন, নারীদের সম্মানহানির অভিযোগ আর চাপা থাকবে না। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে যে সংস্কৃতি চলছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। আর সেই কারণেই অনেক শিল্পী নিজেদের অভিজ্ঞতা সামনে আনতে শুরু করেছেন। পোস্টের শেষ অংশে রাতুল কড়া পদক্ষেপের দাবি তোলেন। তাঁর প্রস্তাব, টলিউডে এখন ‘ভিটামিন D3’ ফর্মুলা চালু হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ গ্রেফতারের পর আদালতে স্বরূপ বিশ্বাস! তো’লাবাজি, শ্লী’লতাহা’নি, খুনের চেষ্টার মতো একের পর এক গুরুতর অভিযোগ! জেল যাত্রা নিশ্চিত স্বরূপের? কী জানাল আদালত

তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন, Detect (চিহ্নিত করা), Delete (মুছে ফেলা), Deport (বহিষ্কার করা) এই তিন ধাপেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এরপর আরও কড়া ভাষায় তিনি লেখেন, “ওঁর কোনও লজ্জা নেই। প্রচণ্ড নির্লজ্জ থাকার কোনো ওষুধ খান হয়তো উনি। একটাই নাম মাথায় আসে লম্পট! এই পোস্ট শেয়ার করে এরকম লম্পটদের বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে অবিলম্বে বিদায় করুন।” রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই পোস্ট নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে টলিপাড়ায়। উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে অরিন্দম শীলের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর তরফে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

You cannot copy content of this page