“এমন একটা দু’র্ঘটনা, এখানে বলার কোন ভাষা নেই!” চোরবাগানের পদপি*ষ্টের ঘটনায় ম*র্মাহত মাধবী মুখোপাধ্যায়! তাঁর জীবনের কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা কেড়ে নিয়েছিল অভিনেত্রীর প্যান্ডেলে গিয়ে পুজো উপভোগের স্বাধীনতা?

“এটা একটা দুর্ঘটনা, এখানে বলার কিছু নেই” চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন মাধবী মুখোপাধ্যায়! জনপ্রিয়তার শিখরে থেকেও কেন প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখতে যেতে পারেন না অভিনেত্রী? জীবনের কোন অভিজ্ঞতা কেড়ে নিয়েছে তাঁর পুজো উপভোগের সেই স্বাধীনতা?

২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্টের ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। উৎসবের আনন্দের মাঝে এমন দুর্ঘটনা পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এই ঘটনার পাশাপাশি পুজোর প্যান্ডেলে উপচে পড়া ভিড়ের কারণে সাধারণ মানুষের ঠাকুর দেখার অসুবিধা নিয়েও আলোচনা চলছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই দুই বিষয়েই অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তাঁর উত্তরে উঠে এসেছে দুর্ঘটনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি জনপ্রিয়তার আড়ালে থাকা এক ব্যক্তিগত আক্ষেপও।

বাংলা চলচ্চিত্রের অত্যন্ত পরিচিত মুখ মাধবী মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু জনপ্রিয়তার এই পরিচিতির কারণে সাধারণ মানুষের মতো দুর্গাপুজো উপভোগ করার সুযোগ যে তাঁর নেই, তা স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে। একই সঙ্গে তাঁর নতুন ছবি ‘দূরত্ব’ নিয়েও কথা বলেছেন অভিনেত্রী। ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন, একাধিক বিষয় উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।

চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্ঘটনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মাধবী মুখোপাধ্যায় জানান, এটি একটি দুর্ঘটনা, এই বিষয়ে তাঁর আর কিছু বলার নেই। তবে পুজোর প্যান্ডেলে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মানুষ ঠিকমতো প্রতিমা দেখতে পারেন না, সেই প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, মাধবী মুখোপাধ্যায় হিসেবে পরিচিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মতো প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে ঠাকুর দেখার সুযোগ তাঁর আর হয় না। বিভিন্ন প্যান্ডেলে তাঁর গান বাজলেও তিনি নিজে সেখানে গিয়ে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন না। মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি হলেও জনপ্রিয়তার এই দিকটি যে তাঁকে কষ্ট দেয়, তা তাঁর কথায় স্পষ্ট। তিনিও যে একজন সাধারণ মানুষ এবং তাঁরও ঠাকুর দেখার ইচ্ছে হয়, সেই কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

এরপর নিজের নতুন ছবি ‘দূরত্ব’-এর বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করেন মাধবী মুখোপাধ্যায়। তাঁর মতে, বর্তমানে সমাজে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে নানা কারণে দূরত্ব বাড়ছে। এমনকী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সম্পর্কের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। কেন এই দূরত্ব বাড়ছে, কীভাবে সেই ব্যবধান কমিয়ে মানুষ আবার কাছাকাছি আসতে পারে, সেই বিষয়টিই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, ছবিটি শুধু মানুষের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার কথা বলে না, বরং সম্পর্কের ফাটল মেরামত করে আবার এক হওয়ার সম্ভাবনাও সামনে আনে।

আরও পড়ুনঃ “নিজের বিপদে বন্ধু চাই, আর অন্যের বিপদে উধাও দুর্নিবার!” বন্ধুত্বের আড়ালে শুধুই স্বার্থের সমীকরণ, নাকি জয়ের কৌশল? বিগ বসের খেলায় কি সত্যিই বিজয়ী হওয়ার যোগ্য দুর্নিবার সাহা?

কোনও সম্পর্ক ভালো রাখার মন্ত্র কী, সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, ত্যাগের মধ্যেই সম্পর্ক ভালো রাখার চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে। তাঁর মতে, মানুষ যখন ত্যাগী হয়ে ওঠে, তখন অন্যদের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও ভালো হয়। সব মিলিয়ে মাধবী মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে জনপ্রিয়তার আড়ালে ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণ করতে না পারার আক্ষেপ, মানুষের সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান দূরত্ব এবং সেই দূরত্ব মেটাতে ত্যাগের গুরুত্ব। তাঁর এই উপলব্ধি কি আজকের ব্যস্ত জীবনে সম্পর্কের মূল্য নতুন করে বুঝতে সাহায্য করবে? সেই প্রশ্নই ভাবনার খোরাক জোগায়।

You cannot copy content of this page