লেকটাউনে বসানো লিওনেল মেসির বিশাল মূর্তিকে ঘিরে সোমবার দুপুর থেকেই তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। স্থানীয়দের দাবি, প্রবল হাওয়ায় মূর্তিটি দুলতে দেখা গিয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। অনেকের আশঙ্কা, কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি আধিকারিক এবং লেকটাউন থানার পুলিশ। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু হয়। এর মাঝেই এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করে ফের চর্চার কেন্দ্রে অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। তাঁর পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকে আবার তাঁর মন্তব্যে মজাও পেয়েছেন।
সিনেমা জগতের নানা ঘটনা থেকে রাজনৈতিক ইস্যু, বিভিন্ন বিষয়েই কৌতুকের ছলে মন্তব্য করতে দেখা যায় ঋত্বিককে। কোনও বিতর্কিত বা আলোচিত ঘটনা নিয়ে রসিকতার মোড়কে খোঁচা দেওয়া তাঁর পুরনো অভ্যাস বলেই মনে করেন অনুরাগীরা। এবারের বিধানসভা ভোটের আবহেও একাধিকবার বিজেপি নেতৃত্ব ও নরেন্দ্র মোদির ‘বাংলা বিভ্রাট’ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন অভিনেতা। যদিও ভোটের ফল প্রকাশের পর তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষা কিছুটা নরম হয়েছিল বলে অনেকেই মনে করেছিলেন। কিন্তু এবার ফের লেকটাউনের মেসি মূর্তি নিয়ে তাঁর ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে তাঁকে। মেসির স্ট্যাচুকে কেন্দ্র করে তৈরি বিতর্কে তাঁর পোস্ট মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে শুরু হয় হাসাহাসিও।
লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের সময় ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয়েছিল প্রায় ৭০ ফুট উঁচু এই মূর্তির। উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা নিজেও। পাশে ছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। মূলত তাঁর উদ্যোগ এবং তত্ত্বাবধানেই এই প্রকল্প তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। শিল্পী মন্টি পাল গোটা কাজটির নেতৃত্ব দেন। তবে বর্তমানে স্থানীয়দের অভিযোগ, মূর্তিটি নিরাপদ অবস্থায় নেই। তাঁদের দাবি, হাওয়ায় সেটি স্পষ্টভাবে দুলছে। মূর্তির ঠিক নিচেই রয়েছে একটি জায়ান্ট স্ক্রিন, যেখানে নিয়মিত আইপিএল ম্যাচ দেখার জন্য ভিড় করেন এলাকার মানুষ। ফলে সেই সময় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে বড় বিপদ হতে পারে বলেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, মূর্তির নিচের অংশের মাটি ধসে যেতে শুরু করেছে। চারপাশে পাথর এবং মাটি বেরিয়ে এসেছে বলেও দাবি তাঁদের। সেই কারণেই অনেকের মনে আশঙ্কা, মূর্তিটি যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি নিয়েই কৌতুক করে ঋত্বিক লেখেন, “শুনলাম, লেকটাউনে হৃত্বিক রোশন না অজিত আগরকারের মূর্তিটা নাকি নচিকেতার দুলছে হাওয়ায়..গানটা গুনগুন করে গাইছে।” অভিনেতার এই মন্তব্য সামনে আসতেই নেটপাড়ায় হাসির রোল পড়ে যায়। অনেকে তাঁর পোস্ট শেয়ারও করতে শুরু করেন। আবার কেউ কেউ বিষয়টির গুরুত্বের দিকে নজর দেওয়ার কথাও বলেছেন। তবে ঋত্বিকের মন্তব্য যে মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে, তা বলাই যায়।
আরও পড়ুনঃ “বিনা প্রমাণে আমার মাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে, আমাদের সঙ্গে গু’ন্ডামি করেছে” রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুকাণ্ডে বন্ধ ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর কাজ, ফোরামকে নিশানা লীনা-পুত্র অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়ের, নিলেন আইনি পদক্ষেপ!
এদিকে এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, “এখানের কাউন্সিলর নিতাই দত্ত ও প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু তড়িঘড়ি মূর্তিটি তৈরি করেন। অত্যন্ত নিম্নমানের মালমশলা দিয়ে মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছে। বর্তমান বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নজরে বিষয়টি এসেছে।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন সুজিত বসু। ঘটনাস্থলে গিয়ে ইঞ্জিনিয়ার এবং সরকারি আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে, মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হতে পারে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। তবে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, নিরাপত্তার কথা ভেবেই খুব শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।






