“ছেলের কাছ থেকেই…ও আমাকে উল্টে বকে ‘তুমি কেন করোনি?’” মনোময় ভট্টাচার্যের এই স্বীকারোক্তির নেপথ্যে কি শুধুই বদলে যাওয়া প্রজন্মের গল্প? জেনারেশন গ্যাপ কি সত্যিই দূরত্ব তৈরি করেছে, নাকি সেই ফারাকই বন্ধুর মতো করে দিয়েছে বাবা-ছেলের সম্পর্ককে? চেনেন গায়কের ছেলেকে?

বাংলা গানের জগতে মনোময় ভট্টাচার্য এক পরিচিত নাম। রবীন্দ্রসংগীত থেকে আধুনিক বাংলা গান বিভিন্ন ধরনের গানেই তাঁর স্বতন্ত্র গায়কির পরিচয় রয়েছে। দীর্ঘ সংগীতজীবনের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও শ্রোতাদের আগ্রহ কম নয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছেলে আকাশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, প্রজন্মের পার্থক্য এবং নিজের জীবনের নানা অজানা অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে শোনা গেল তাঁকে।

ছেলেকে ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের গান শেখানোর চেষ্টা করেছেন মনোময়। তবে সময়ের সঙ্গে ছেলের কাছ থেকেও যে অনেক কিছু শিখেছেন, তা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। বিশেষ করে আকাশের স্মার্টনেস এবং দর্শকদের নিজের করে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে মুগ্ধ করে। একসঙ্গে বাবা-ছেলে গান করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন, কীভাবে আকাশ খুব সহজেই সামনের শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে নেয়। শুধু গান নয়, আকাশের ইংরেজি ও হিন্দি বলার দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাসও বাবার নজর কেড়েছে।

মনোময়ের কথায়, তাঁদের প্রজন্মের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাপনের পার্থক্য অনেকটাই। তিনি বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, যেখানে তাঁর ছেলে পড়েছে সেন্ট জেভিয়ার্সে এবং পরে অন্য প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা নিয়েছে। তাঁর মতে, ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করার পাশাপাশি কসমোপলিটান পরিবেশে মেলামেশার সুযোগও আকাশদের প্রজন্মকে অনেক বেশি ‘স্মার্ট’ করে তুলেছে। তবে নিজের স্কুলজীবনের কথাও মনে করেছেন তিনি। তাঁর সময়ে বাংলা মাধ্যমের স্কুলগুলির যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল, কিন্তু এখন বহু স্কুলেই ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে বলে আক্ষেপ করেছেন।

জেনারেশন গ্যাপের প্রসঙ্গেও বেশ মজার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন মনোময়। তাঁর সময় রাতে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে থাকা নিয়ে পরিবারের কড়া নিয়ম ছিল। সেখানে এখন আকাশ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে রাত জেগে আড্ডা দিলেও তিনি অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ। বরং এখন ছেলে তাঁকেই প্রশ্ন করে, কেন তিনি নিজের সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে বেশি মেলামেশা করেননি। মনোময়েরও মনে হয়, সেই সময় পার্টি বা বন্ধুদের সঙ্গে বেশি মিশলে হয়তো তাঁর যোগাযোগের পরিধি আরও বাড়তে পারত।

আরও পড়ুনঃ এক ছাদের তলায় আর থাকছেন না দু’জন! টলিউডের ‘পাওয়ার কাপল’-এর সংসারে হঠাৎ অশান্তির কালো মেঘ, স্ত্রীকে ছেড়ে পুরনো বাড়িতে গিয়ে উঠলেন পরিচালক স্বামী! বিলাসবহুল গগনচুম্বী আবাসনের বাসিন্দারাও নাকি টের পেয়েছেন তুমুল বাকবিতণ্ডা! কী নিয়ে এত ঝামেলা? তবে কি বিচ্ছেদের পথেই হাঁটছেন তাঁরা?

ছেলে এখন মুম্বইয়ে থাকেন, তাই তাঁকে ভীষণ মিস করেন মনোময়। ছেলে শুধু সন্তান নয়, অনেকটা বন্ধুর মতো এই সম্পর্কের কথাও জানিয়েছেন তিনি। আকাশের প্রথম আমেরিকা সফরের স্মৃতিও তাঁর মনে এখনও উজ্জ্বল। ২২ বছর বয়সে প্রথম একা গাড়ি নিয়ে হাইওয়েতে বেরিয়ে পড়ে বাবাকে ভিডিও পাঠিয়েছিল আকাশ। গাড়ি চালানোতেও ছেলে তাঁর থেকে অনেক এগিয়ে ১৮ বছরেই গাড়ি চালানো শিখে যায় সে। নিজের এই জায়গায় পিছিয়ে থাকার কথাও হাসতে হাসতে স্বীকার করেছেন মনোময়। কলকাতায় গাড়ি চালানোর সময় নিয়ম ভাঙা দেখলে তাঁর প্রচণ্ড রাগ হয়, আর সেই কারণেই নিজে গাড়ি চালানোর ব্যাপারে এখনও খুব একটা আগ্রহী নন তিনি।

You cannot copy content of this page