বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjeet Chakraborty)। অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘ ১৫ বছর সক্রিয় রাজনীতিতেও ছিলেন তিনি এবং তিনবার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তবে বর্তমানে রাজনীতি থেকে নিজেকে অনেকটাই সরিয়ে নিয়েছেন এই অভিনেতা। তাঁর কথায়, সিনেমা কিংবা রাজনীতি, কোনও ক্ষেত্রেই বর্তমানে তাঁর আগের মতো আগ্রহ নেই। সম্প্রতি নিবেদিতা অনলাইন-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে উত্তম কুমারের (Uttam Kumar) জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ উঠতেই নিজের অভিজ্ঞতা, আক্ষেপ এবং একাধিক প্রশ্নের কথা প্রকাশ্যে আনেন চিরঞ্জিত।
উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান নিয়ে চিরঞ্জিতের প্রশংসা থাকলেও, একইসঙ্গে উঠে এসেছে বেশ কিছু বিতর্কিত প্রশ্ন। বিশেষ করে উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা একাধিক শিল্পী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। চিরঞ্জিত জানান, তাঁকে অনুষ্ঠানে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না। তাঁর কথায়, “যে যা ডিসাইড করে, যেভাবে করে, ওরাই করে ঠিক করে। আমার এখন আর কিছুতে কোন বক্তব্য নেই” একইসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তম কুমারকে ঘিরে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত বড় আকারে করার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানালেও, কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে না দেখতে পেয়ে তাঁর বিস্ময় হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলেছেন উত্তম কুমারের ভাই তরুণকুমারের পরিবারের অনুপস্থিতি নিয়ে। চিরঞ্জিতের কথায়, “তার থেকে বেশি অবাক হয়েছি যে তরুণ কুমারের ফ্যামিলিটাকে কেন ডাকেনি, এটা আমি বুঝলাম না। এটা একটা মিস্টেক হয়েছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তরুণকুমার তাঁদের পরিবারেরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং এই শতবর্ষের মতো অনুষ্ঠানে সেই পরিবারের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত ছিল। শুধু তাই নয়, সুচিত্রা সেনের কন্যা মুনমুন সেন, সুপ্রিয়া দেবীর কন্যা সোমা চক্রবর্তী-সহ উত্তম কুমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত পরিবারগুলির আরও উপস্থিতি আশা করেছিলেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছে, শতবর্ষের মতো আবেগঘন অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত দূরত্ব কি আদৌ জায়গা পাওয়া উচিত ছিল?
উত্তম কুমারের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন চিরঞ্জিত। তিনি জানান, উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর অভিনয় করা হয়নি ঠিকই, কিন্তু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, তাঁর বাড়িতে যাতায়াত ছিল, এমনকি লক্ষ্মীপুজোয় খাওয়াও হয়েছে। নিজের শেষ সাক্ষাতের স্মৃতিও ভাগ করে নেন তিনি “কে কেমন আছো বলল, লাস্ট কথা ‘ভালো আছি, আপনি ভালো আছেন তো?’ এই লাস্ট কথা চলে গেছে। আমি জানিও না, পরদিন সকালে শুনলাম নেই।” আক্ষেপের সুরে তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ তিনি অনুষ্ঠানে পাননি। তাঁর কথায়, “এই এক্সপেরিয়েন্সগুলো বলতে পারতাম, সেই স্কোপটা এখানে পাইনি আমি।” ফলে প্রশ্ন আরও জোরালো উত্তম কুমারের শতবর্ষ উদযাপনে কি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা গুরুত্ব পেল, নাকি কিংবদন্তি অভিনেতাকে ঘিরে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতিগুলিও যথেষ্ট জায়গা পেল?
আরও পড়ুনঃ বিরাট পাল্টি কোয়েলের! তৃণমূল ছেড়ে সোজা বিজেপির প্রার্থী! ছেড়ে যাওয়া আসনেই উপনির্বাচনে পদ্ম শিবিরের হয়ে লড়বেন টলি কুইন
তবে সমালোচনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানের প্রশংসাও করেছেন চিরঞ্জিত। তাঁর মতে, বিশাল কাটআউট, নানা আয়োজন এবং দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি মনে করেন, উত্তমকুমার কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন। অনুষ্ঠানকে ঘিরে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব থাকলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তাঁর কথায়, “উত্তম কুমার একটা অন্য ব্যাপার, মহানায়ক।” আর সেখানেই তৈরি হচ্ছে বিতর্ক একজন কিংবদন্তি শিল্পীর জন্মশতবর্ষ কি সব মত, সব গোষ্ঠী এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত সব পরিবারকে এক ছাতার নিচে আনার সুযোগ ছিল না? চিরঞ্জিতের বক্তব্য সেই প্রশ্নই ফের সামনে এনে দিল।






