“বাঙালি মায়েরা মুস*লিম মায়ের মতো বিরিয়ানি বানাতেই পারে না…ঈদে ওদের সঙ্গে বসে একই থালায় খাই”, “শুভেন্দু অধিকারী কে? এখনও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী!” দুর্গাপুজোর আবহে একের পর এক বড় মন্তব্য মৌসুমী ভট্টাচার্যের! ‘ওদের হাতের বিরিয়ানি তো স্বাদ হবেই থু*তু ছিটিয়ে রান্না করে’, ‘আসল কথা বলুন বি*ফ ভালো রান্না করে, ওটাই খেতে যান’ নেটপাড়ায় কটাক্ষবিদ্ধ অভিনেত্রী!

বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী অভিনেত্রী মৌসুমী ভট্টাচার্য, অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতেও তাঁকে একাধিকবার দেখা গিয়েছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে দুর্গাপুজোয় তাঁর খাওয়াদাওয়া, ঈদে মুসলিম বন্ধুদের বাড়িতে যাওয়া থেকে শুরু করে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি একাধিক বিষয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা।

দুর্গাপুজোয় মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মৌসুমী। তিনি জানান, পুজোর প্রায় প্রতিটি দিনই তিনি মাছ-মাংস খাবেন। শুধু অষ্টমীর দিন নিরামিষ খাওয়ার নিয়ম থাকায় ওই দিনটিতে আমিষ খাবেন না। নিজের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “আমি নিজের পয়সায়, নিজের রোজগারে খাওয়াদাওয়া করি। কোনও সরকারের পয়সায়, কোনও সরকারের টাকায় খাই না। কোনও চোর-দালালের টাকায় খাই না। সুতরাং আমাকে কেউ আটকাতে পারবে না।” তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, ব্যক্তিগত উপার্জনের টাকায় নিজের পছন্দের খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সরকারি হস্তক্ষেপ তিনি মেনে নেবেন না।

দুর্গাপুজোর সময়ে মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর কথায়। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলেই উল্লেখ করে কার্যত সরকারের নীতির বিরোধিতা করেন তিনি। একইসঙ্গে ঈদের প্রসঙ্গ টেনে মৌসুমী জানান, মুসলিম বন্ধুদের বাড়িতেও তিনি যান এবং সেখানে মাটন বিরিয়ানি ও ফিরনি খান। অভিনেত্রীর কথায়, “আমাদের বাঙালি মায়েরা মুসলিমদের মতো বিরিয়ানি বানাতে পারে না।” তাঁর বক্তব্য, বিরিয়ানি ও ফিরনির স্বাদ উপভোগ করার পাশাপাশি দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সামাজিক মেলামেশার জায়গাটিও গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে আরও সরব হন মৌসুমী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সময়ে বিজেপির প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তিনি বামপন্থীদের এবং জেন জি-কে দেখছেন। তাঁর কথায়, “এই সরকারের বর্বরতা আমরা মানব না। বিশেষ করে গুন্ডামি মানব না।” অর্থাৎ বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে নিজের আপত্তির কথাই স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মন্তব্যে বামপন্থী রাজনীতির প্রতি তাঁর সমর্থনের বিষয়টিও আরও একবার প্রকাশ্যে আসে।

এরপর সাংবাদিকদের তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তাঁর কোনও ভয় রয়েছে কি না। সেই প্রশ্নের জবাবে মৌসুমীর সরাসরি মন্তব্য, “আমি তো তাঁকে দেখতেই পাচ্ছি না।” তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অভিনেত্রী কার্যত বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে স্বীকৃতি না দেওয়ার রাজনৈতিক অবস্থানই তুলে ধরেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তাঁর কথায় স্পষ্ট, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি এখনও প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকেই দেখেন। পুজোর খাবার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অবস্থান, এক সাক্ষাৎকারেই একাধিক মন্তব্য করে তাই ফের আলোচনার কেন্দ্রে মৌসুমী ভট্টাচার্য।

আরও পড়ুনঃ দীপেন্দু যেতেই ফুটেজ নিতে মরিয়া দুর্নিবার! এত হিং’সে আর রাগ নিরঞ্জনের উপর উগরে দিয়েও পু’ড়ল মুখ! ঝিলামের সঙ্গে মনোমালিন্য থেকে ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে নিরঞ্জনের সঙ্গে তুমুল ঝা’মেলা, দর্শকদের নিশানায় দুর্নিবার! অন্যদিকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে প্রশংসা কুড়োলেন ক্যাপ্টেন নিরঞ্জন!

Disclaimer: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত কোনও উক্তি আমাদের নিজস্ব নয়, বরং উক্ত ব্যক্তির। তাছাড়া সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেটিজেনদের মন্তব্য ও প্রকাশিত সংবাদসূত্রের ভিত্তিতে এই লেখা হয়েছে, কাউকে আঘাত বা ছোট করাও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। উল্লেখিত ব্যক্তিত্বদের নামে উত্থাপিত অভিযোগ বা বক্তব্যগুলির স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়।

You cannot copy content of this page