বাংলার সঙ্গীত জগতে সমাজ ও মানুষের জীবনের বাস্তবতাকে সরাসরি তুলে ধরার জন্য পরিচিত নচিকেতা চক্রবর্তী (Nachiketa Chakraborty)। তার গানগুলো শুধু বিনোদন নয়, বরং মানুষের আবেগ ও সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন। সেই প্রেক্ষাপটে তার একটি কালজয়ী গান ‘বৃদ্ধাশ্রম’ বিশেষ স্থান অর্জন করেছে। গানটি মধ্যবিত্ত পরিবারের একাকী বাবা-মায়ের জীবনের দুঃখ ও ত্যাগকে আবেগঘনভাবে ফুটিয়ে তোলে। তবে এত জনপ্রিয়তা ও হৃদয়স্পর্শী কণ্ঠ সত্ত্বেও জাতীয় পুরস্কার না পাওয়াকে নচিকেতা আজও নিজের এক বড় আক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
নচিকেতা প্রকাশ করেছেন, ‘বৃদ্ধাশ্রম’ গানটি মানুষের মন ছুঁয়ে যায়, অথচ এই গানের জন্য তিনি কোনো জাতীয় স্বীকৃতি পাননি। তিনি তুলনা করেছেন অন্যান্য গায়ক-গায়িকার সঙ্গে, যারা রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছেন। বিশেষ করে রূপা গাঙ্গুলির নাম উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, একই ধরণের আবেগঘন গান হলেও তার মতো সঙ্গীতকর্মীকে সে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। নচিকেতা মনে করেন, গানটির বিষয়বস্তু সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে এবং এ কারণে এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
‘বৃদ্ধাশ্রম’ গানে তুলে ধরা হয়েছে বয়সে যাঁরা সন্তানদের জন্য সারাজীবন ত্যাগ করেছেন, শেষ বয়সে তাদের একাকীত্ব ও অবহেলার কষ্ট। এই বিষয়বস্তুর কারণে গানটি শুধুই বিনোদন নয়, সমাজের কষ্টের এক বাস্তব চিত্রও সামনে আনে। শ্রোতারা গানটি শুনলে বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সম্পর্কের গুরুত্ব আরও উপলব্ধি করেন। গানটির সরল ভাষা ও আবেগপ্রবণ সুর শুনতে সাধারণ মানুষও সহজেই সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।
যদিও জাতীয় স্বীকৃতি এলে না পেলেও নচিকেতার শিল্পীজীবন সম্পূর্ণ অমূল্য নয়। ২০২৪ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ‘মহানায়ক সম্মান’-এ ভূষিত হন। কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে উত্তম কুমারের ৪৪তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাতে সম্মাননা তুলে দেন। এই স্বীকৃতি শিল্পীর কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে, কিন্তু ‘বৃদ্ধাশ্রম’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার না পাওয়া এখনও তাঁর মনে আক্ষেপের কারণ।
আরও পড়ুনঃ “আমার কাছে জন্মগ্রহণ করেছে মানেই, পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত আমার সম্পত্তি না!” “বর্তমানে সন্তানদের ওপর অভিভাবকরা সম্পূর্ণ অধিকার দাবি করতে পারে না” স্পষ্ট বার্তা বিশ্বনাথ বসুর! অতীতের অভাব-সংকট বনাম আজকের প্রাচুর্য, তুলনা টেনে কী বললেন অভিনেতা? সত্যিই কি বদলাচ্ছে এই যুগে বাবা-মায়ের ভূমিকা?
নচিকেতা চক্রবর্তীর এই অভিমত নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সঙ্গীত ও সমাজের মধ্যে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রচুর আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, গানটি সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরায় এটি জাতীয় পুরস্কারের যোগ্য। নচিকেতার মতো শিল্পীরা যারা সমাজের আভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোকে গান ও সুরে ফুটিয়ে তুলেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের আরও মনোযোগী হওয়া উচিত। ‘বৃদ্ধাশ্রম’ গানটি আজও মানুষের মনে বিশেষ জায়গা করে রেখেছে।






