বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। ৭৫ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার গোয়ায় নিজের বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও অবশ্য নিজের কাজ এবং জীবন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছিলেন অভিনেতা। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর সেই পুরনো একটি ভিডিয়োই নতুন করে সামনে এসেছে। কারণ, ভিডিয়োটিতে মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে জীবনের শেষ পরিণতি নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে। সেই অনুষ্ঠানে থিয়েটার নিয়ে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি জীবন সম্পর্কে নিজের উপলব্ধির কথাও জানিয়েছিলেন নানা। এখন তাঁর প্রয়াণের পর সেই কথাগুলিই নেটদুনিয়ায় নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঘটনাটি গত ৪ অক্টোবরের, অর্থাৎ নানার মৃত্যুর ঠিক চার দিন আগের। গোয়ার ডোনা পাওলার একটি থিয়েটার ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা।
‘সম্রাট ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল’-এর সেই অনুষ্ঠানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। সাদা শার্ট এবং কপালে লাল তিলক পরে অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। থিয়েটারের প্রসঙ্গে নানা তরুণ প্রজন্ম এবং শিল্পীদের নতুন কিছু করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, দর্শকরাও সবসময় নতুন ধরনের বিষয় দেখতে চান। তবে নিজের নীতি না বদলে নিজস্ব স্টাইল বজায় রাখলে একসময় সেই কাজই মানুষকে শিল্পীর কথা মনে করিয়ে দেবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
এরপরই জীবনের উদ্দেশ্য এবং মৃত্যুর মতো বিষয় নিয়ে নিজের ভাবনার কথা বলতে শুরু করেন নানা পাটেকর। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রত্যেক মানুষকেই একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। এমনকি তিনি নিজেও জানেন না, আর কতদিন এই পৃথিবীতে থাকবেন। জীবনের শেষ পরিণতি যে সকলের ক্ষেত্রেই একদিন আসবে, সেই কথাও তুলে ধরেছিলেন অভিনেতা। তবে তাঁর কাছে শুধু মৃত্যু নিয়ে ভাবাই শেষ কথা ছিল না। বরং সেই চূড়ান্ত সময় আসার আগে মানুষ জীবনে কী করতে চেয়েছিল, তা কতটা করতে পেরেছে, সেই প্রশ্ন করাও জরুরি বলে মনে করেছিলেন তিনি। জীবনের উদ্দেশ্য কী এবং কেন মানুষ এই পৃথিবীতে এসেছে, সেই প্রশ্ন নিয়েও নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছিলেন নানা।
নানা আরও বলেছিলেন, শুধু নিজের জন্য বেঁচে থাকাই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। সমাজের জন্য প্রত্যেক মানুষের কিছু না কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে বলেও মনে করতেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে তাই অভিনয় বা থিয়েটারের পাশাপাশি জীবনের মূল্যবোধের কথাও উঠে এসেছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাত্র চার দিন পরেই তাঁর নিজের জীবনেই নেমে আসে সেই চূড়ান্ত পরিণতি। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাড়িতে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা। মধ্যরাতে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করার পর তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ডোনা পাওলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
সূত্রের খবর, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকরা CPR দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভোর ৫টা ২০ মিনিটে নানা পাটেকরকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে হৃদরোগকেই তাঁর মৃত্যুর কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই আকস্মিক প্রয়াণের পরই চার দিন আগের অনুষ্ঠানের ভিডিয়োটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে নেটমাধ্যমে। সেখানে মৃত্যুর কথা নিয়ে নানার বক্তব্য শুনে অনেকেই তাঁর কথাগুলিকে নতুন দৃষ্টিতে দেখছেন। অনেকেরই মনে হয়েছে, অভিনেতা কি কোনওভাবে নিজের আসন্ন পরিণতির আভাস পেয়েছিলেন? তবে সেই বক্তব্য যে তাঁর মৃত্যুর পূর্বাভাস ছিল, এমন কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
আরও পড়ুনঃ “১০ বছর হয়ে গেল তোমায় ছাড়া, আজও প্রতিমুহূর্তে তোমার কথা মনে পড়ে”, “আজও এমন আর একটা বন্ধু পেলাম না মা!” ছোটবেলায় বিয়ে, শাশুড়ি অজান্তেই হয়ে উঠেছিলেন বান্ধবী! মেয়ের থেকে বেশি বৌমাকে বিশ্বাস করতেন সব্যসাচীর মা! শাশুড়ি মায়ের মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতির পাতা উল্টে আবেগে ভাসলেন মিঠু চক্রবর্তী!
১৯৭৮ সালে মুজফফর আলির ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে সিনেমায় যাত্রা শুরু করেছিলেন নানা পাটেকর। এরপর হিন্দি এবং মারাঠি ছবিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন তিনি। তিনবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। ২০১৩ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানেও ভূষিত করা হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রেও নানা পাটেকরের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর অক্ষয় কুমার, কঙ্গনা রানাওয়াত, রীতেশ দেশমুখ, রবি কিষাণ এবং প্রকাশ রাজ-সহ বহু তারকা শোক প্রকাশ করেছেন। এখন মৃত্যুর চার দিন আগে দেওয়া তাঁর সেই বক্তব্যই আবার সামনে আসায় নানা পাটেকরের জীবন, দর্শন এবং শেষ কথাগুলি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।






