“সোহিনী কি আর সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে না?” মেয়েকে নিয়ে বি’ষাক্ত ট্রো’লিংয়ে ফুঁসে উঠে মায়ের প্রশ্ন! তাপস পালের ২০১৪ সালের বিতর্কিত মন্তব্যের দায় লাগাতার মেয়ের উপর চাপানোয় নিলেন কড়া পদক্ষেপ, কী করলেন নন্দিনী পাল?

বিগ বস বাংলা ৩-এর ঘর থেকে বেরনোর পর থেকেই প্রয়াত অভিনেতা তাপস পাল ও নন্দিনী পালের মেয়ে সোহিনী পালকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে লাগাতার কটাক্ষ। বিভিন্ন ফেক এবং অ্যানোনিমাস অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ট্রোলিংয়ের মূল কারণ হিসেবে বারবার সামনে আনা হচ্ছে তাঁর বাবা তাপস পালের ২০১৪ সালের একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য। সেই সময় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মন্তব্য করতে গিয়ে তাপস পাল বলেছিলেন, ‘ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব’। বহু বছর পুরনো সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এবার বিগ বস থেকে বেরিয়ে আসা সোহিনীকে আক্রমণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও এবার মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন নন্দিনী পাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ এবং কষ্টের কথা জানিয়ে তিনি এই ধরনের আক্রমণ বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন।

নন্দিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাপস পালের সেই মন্তব্যকে তিনি বা তাঁর পরিবার কোনওভাবেই সমর্থন করেন না। তাঁর বক্তব্য, কথাটি ২০১৪ সালের হোক কিংবা আরও বহু বছরের পুরনো, সেটি অত্যন্ত নক্কারজনক এবং ঘৃণ্য। ওই মন্তব্যের জন্য পরিবার হিসেবে তাঁরা চরম লজ্জিত বলেও জানিয়েছেন নন্দিনী। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, যিনি কথাটি বলেছিলেন, তিনি নিজেও পরে একাধিকবার ক্ষমা চেয়েছেন এবং নিজের মন্তব্যের জন্য লজ্জিত হয়েছেন। পরবর্তীকালে তাপস পালের মৃত্যু হয়েছে। ফলে সেই পুরনো বক্তব্যকে সমর্থন বা তার সাফাই দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই বলেই জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। কিন্তু একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, একজন বাবার করা ভুলের দায় কেন তাঁর মেয়েকে বইতে হবে। সোহিনী সেই ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত ছিলেন না, তবুও কেন তাঁকে বারবার সেই প্রসঙ্গ টেনে অপমান করা হচ্ছে, সেটাই জানতে চেয়েছেন নন্দিনী।

মেয়ের হয়ে সরব হয়ে নন্দিনী আরও প্রশ্ন তুলেছেন, বাবার ভুলের জন্য কি সোহিনীকে সারাজীবন শাস্তি পেতে হবে? তাঁর বক্তব্য, তাপস পালের পুরনো মন্তব্যের জন্য তাঁরা দুঃখিত এবং সেটিকে কখনওই সমর্থন করবেন না। কিন্তু সেই কারণে সোহিনীকে সমাজের সামনে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করানোও মেনে নেওয়া যায় না। নন্দিনী জানতে চেয়েছেন, সোহিনী কি আর সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে না? তাঁর মতে, কারও বাবার অতীতের একটি ভুলের সঙ্গে সেই ব্যক্তির সন্তানকে জুড়ে দেওয়া ঠিক নয়। সোহিনীকে পছন্দ না করতেই পারেন দর্শকরা, তাঁর কাজ বা আচরণ নিয়ে সমালোচনাও করতে পারেন। কিন্তু সেই সমালোচনার সীমা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং চরিত্রহননে না পৌঁছয়, সেই আবেদনই করেছেন নন্দিনী।

বিগ বস বাংলার ঘরে সোহিনীর যাত্রাও খুব দীর্ঘ ছিল না। মাত্র চার সপ্তাহের মতো সময় তিনি এই রিয়্যালিটি শোতে ছিলেন। সেই অল্প সময়ের উপস্থিতির জন্যই কেন তাঁর বিরুদ্ধে এতটা নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন নন্দিনী। তাঁর কথায়, কাউকে পছন্দ না হওয়া বা কোনও প্রতিযোগীর খেলা নিয়ে বিরূপ মত থাকা স্বাভাবিক। দর্শকদের সমালোচনা করার অধিকারও রয়েছে। কিন্তু সমালোচনা আর কাউকে অপমান করা এক বিষয় নয়। ফেক কিংবা অ্যানোনিমাস অ্যাকাউন্ট থেকে বিষাক্ত মন্তব্য করে কাউকে আক্রমণ করাকে কোনওভাবেই প্রকৃত ফ্যানডম বলা যায় না বলেই মনে করেন নন্দিনী। তাঁর মতে, এই ধরনের পরিচয়হীন আক্রমণ আসলে কাপুরুষতা এবং এর মাধ্যমে একজন মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মেয়েকে নিয়ে চলা এই লাগাতার কটাক্ষে এবার একজন মা হিসেবে চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন নন্দিনী। তিনি এতটাই ক্ষুব্ধ যে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁকে কি এবার রাস্তায় মেয়েকে দাঁড় করিয়ে বলতে হবে, যারা ট্রোল করছেন তাঁরা এসে সোহিনীকে মেরে যান, যাতে অন্তত তাঁর মেয়ে শান্তিতে থাকতে পারে? তাঁর এই মন্তব্য থেকেই পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মানসিক চাপ এবং অসহায়তার ছবি স্পষ্ট হয়েছে। নন্দিনীর বক্তব্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ কাউকে ইচ্ছেমতো গালিগালাজ বা মানসিকভাবে হেনস্থা করার অধিকার পাওয়া নয়। অনলাইন ট্রোলিংকে শুধুমাত্র মজা হিসেবে দেখারও বিরোধিতা করেছেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের লাগাতার আক্রমণ গুরুতর বিষয় এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কর্মকাণ্ডে সামিল হয়েছিলেন মহানায়ক! ১৯৪৬-এর দা*ঙ্গায় গু’ন্ডাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো থেকে অর্থ সংগ্রহ, অ*স্ত্র হাতে লড়াই না করেও দেশ ও বিপ্লবীদের কীভাবে সাহায্য করেছিলেন উত্তম কুমার? অনবদ্য অভিনয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা তাঁর এই দেশপ্রেমের কাহিনি জানতেন? আজও কেন আলোচনার বাইরেই থেকে গেল এই অধ্যায়?

শেষ পর্যন্ত নন্দিনী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মেয়ের জন্য কোনও বিশেষ সুবিধা চাইছেন না তাঁরা। একজন নাগরিক হিসেবে সোহিনীর স্বাভাবিক জীবনযাপন, মানসিক নিরাপত্তা এবং সম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকারটুকুই তিনি চান। তাপস পালের সেই পুরনো মন্তব্যকে নন্দিনী এখনও ঘৃণ্য বলেই মনে করেন এবং সেটিকে কোনওভাবেই যুক্তি দিয়ে সমর্থন করা হবে না। কিন্তু সেই বক্তব্যের দায় তাঁর মেয়ের উপর চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ হওয়া উচিত বলেই তাঁর দাবি। বিগ বস বাংলায় সোহিনীর চার সপ্তাহের যাত্রাকে কেন্দ্র করে দর্শকদের নানা মত থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মত যেন কুরুচিকর আক্রমণে পরিণত না হয়, সেটাই এখন নন্দিনীর মূল বক্তব্য। মেয়েকে ঘিরে চলা এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত তিনি কড়া বার্তা দিয়েছেন, ‘ENOUGH IS ENOUGH!’

You cannot copy content of this page