কলকাতার বেহালা থানায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘ননসেন’ ওরফে শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দায়ের হতেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শহরের অলিগলি—সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। এক ২২ বছরের যুবতীর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শমীককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে, সেখানেই গোপন জবানবন্দি দেন অভিযোগকারিণী। ঘটনার পর থেকেই একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য আরও বেড়েছে।
অভিযোগকারিণীর বক্তব্য অনুযায়ী, বন্ধুত্বপূর্ণ আমন্ত্রণে শমীকের ফ্ল্যাটে গিয়ে তিনি ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েন। মারধর, আটকে রাখা, হুমকি ও জোর করে শারীরিক সম্পর্কের মতো গুরুতর অভিযোগে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে জনপ্রিয় এই ইউটিউবারকে। তাঁর দাবি, শমীকের বাবা-মায়ের সামনেই তাঁকে মারধর করা হয় এবং চোখে আঘাতের ফলে সাময়িকভাবে তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন না। এমনকি কাউকে কিছু বললে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
তবে এই অভিযোগের পরই শমীকের পরিবার মুখ খুলেছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শমীকের বাবা-মা দাবি করেন, অভিযোগকারিণী তাঁদের কাছে অপরিচিত নন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শমীকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল এবং ইউটিউব ভিডিওতেও অংশ নিয়েছেন। এমনকি একাধিকবার বাইরে একসঙ্গে থাকা ও পাঁচতারা হোটেলে থাকার কথাও তুলে ধরেন শমীকের বাবা, যার সিসিটিভি ফুটেজ থাকার দাবি করেন তিনি।
ঘটনার দিন প্রসঙ্গে শমীকের বাবার বক্তব্য, সেদিন সত্যিই বাড়ি বদলের কাজ চলছিল এবং যুবতী ফুলের তোড়া নিয়ে তাঁদের বাড়িতে আসেন। শমীক ও ওই তরুণীর মধ্যে আলাদা ঘরে কথা হয় এবং সেখানেই তর্ক শুরু হয়। তাঁর দাবি, শমীক জানতে পারেন যুবতী নাকি মিথ্যে অজুহাতে অন্য এক বন্ধুর সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন, যা নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। রাগের মাথায় একটি চড় মারা হলেও, গুরুতর মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি পরিবারের।
আরও পড়ুনঃ “৩১ বছর ধরে ভুলের মাঝেই ঘটুক হঠাৎ খুঁজে পাওয়া সেই দুর্লভ সত্যের মুহূর্তগুলো, পাশাপাশিক থাকুক আমার দেখা শ্রেষ্ঠ দুজন শিল্পী!” ভুল হবে, তবুও নতুন করে শুরু করতে হবে! মা-বাবার বিবাহবার্ষিকীতে ঋদ্ধির হৃদয়ছোঁয়া বার্তা!
পরিবারের আরও দাবি, ওই রাতেই যুবতীর শুশ্রূষা করা হয়, স্যুপ ও ওষুধ দেওয়া হয় এবং তাঁকে আটকে রাখা হয়নি। পরদিন সকলে মিলে ট্যাক্সিতে তুলে তাঁকে বাড়ি পাঠানো হয়। বিদায়ের সময় তিনি স্বাভাবিকভাবেই হাত নেড়ে বিদায় জানান বলেও দাবি করা হয়েছে। শমীকের বাবার অভিযোগ, ঘটনার পরে অভিযোগকারিণীর এক বন্ধু ফোন করে হুমকি দেয় এবং সময়ের সঙ্গে অভিযোগের ভাষা ও দাবি বদলে যায়। রাজনৈতিক রং দেওয়ার অভিযোগও উড়িয়ে দিয়ে পরিবার জানায়, তদন্তে সমস্ত সত্য সামনে আসুক—এইটাই তাঁদের একমাত্র চাওয়া।






