“আমি পদ্মশ্রী পাওয়ার যোগ্য, এটা আমার অধিকার!” “আমি ছাই চাপা আ’গুন, এবার আমার জলওয়া দেখানোর সময়” টলিউডকে হলিউড বানানোর প্রতিশ্রুতির পর, এবার নিজেকে নিয়ে চরম আত্মবিশ্বাসী বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী! রুপোলি দুনিয়ায় দাপট দেখানোর হুঁশি’য়ারি দিয়ে আর কী বললেন অভিনেত্রী?

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন আলোচনায় অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী (Papiya Adhikari) । দীর্ঘদিন টলিউড থেকে দূরে থাকার পর এবার তিনি বিজেপির বিধায়ক হিসেবে নতুন পরিচয়ে সামনে এসেছেন। এক সময় নেত্রী হওয়ার ইচ্ছে থেকেই তিনি রাজনৈতিক ময়দানে নামেন। নির্বাচনে জয়ের পর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জীবনের দুই বড় পরিবর্তন নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন তিনি। নায়িকা হওয়ার সময়ের অভিজ্ঞতা আর বিধায়ক হওয়ার বর্তমান অবস্থানকে তুলনা করে পাপিয়া বলেন, “দু’টো পরিবর্তন দু’রকমের।” তাঁর দাবি, সিনেমায় কাজ শুরুর সময় প্রযোজকেরা দেখতেন তিনি পারবেন কি না, কিন্তু এবার রাজনৈতিক দল সরাসরি তাঁর উপর ভরসা রেখেছে।

আরও বলেন, “দল আমাকে ভরসা করে এই জায়গাটা দিয়েছে।” টালিগঞ্জের মতো কঠিন কেন্দ্রে লড়াইয়ের দায়িত্ব পাওয়াকেই তিনি বড় স্বীকৃতি বলে মনে করছেন। পাপিয়ার মতে, এই নির্বাচনী লড়াই অভিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ছিল। তিনি বলেন, “নির্বাচনের এই পরীক্ষাটা সিনেমার চেয়ে অনেক বেশি শক্ত ছিল। পাশ না করলে হয়তো মরে যেতাম।” যদিও কথাটি তিনি রূপক অর্থে বলেছেন, তবু এই লড়াইয়ের চাপ কতটা ছিল তাই যেন বোঝাতে চেয়েছেন। নায়িকা হিসেবে ব্যর্থ হলেও জীবন নিয়ে ভয় ছিল না বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, বিধায়ক হওয়ার পর টলিউড তাঁকে নতুন করে গ্রহণ করবে কি না, এই প্রশ্নে হেসেই উত্তর দেন পাপিয়া।

তাঁর কথায়, “আপন করে তো নেবেই। আমার মতো একজন দাপুটে অভিনেত্রীকে আটকে রেখেছিল। সেটা ঈশ্বরও মানতে পারেননি।” এরপরই নিজের আত্মবিশ্বাসী অবস্থান জানিয়ে বলেন, “আমি হলাম ছাইচাপা আগুন। ছাই দিয়ে বেশি দিন আমার মতো আগুনকে আটকে রাখা যায় না।” অভিনয়জীবনের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন পাপিয়া অধিকারী। তিনি জানান, “আমি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছি। আমার বাড়িতে থরে-থরে অ্যাওয়ার্ড সাজানো।” তাঁর দাবি, বহু মানুষ তাঁকে জিজ্ঞেস করতেন কেন তাঁকে আর ছবিতে দেখা যায় না। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আরে কী করে দেখবে! এতদিন তো আমার কাছে কোনও অফার-ই আসত না। কেউ এসে বলেনি, ‘পাপিয়াদি এই রোলটা তুমি করো!'”

এখন পরিস্থিতি বদলাবে বলে তাঁর আশা। স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এবার কাজের অফার আসবে। আমার জলওয়া দেখানোর সময় এসেছে।” সিরিয়ালে কাজ বাধ্য হয়ে করেছেন কি না, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, কাজের কোনও ছোট-বড় ভাগ তিনি করেন না। মঞ্চ, টেলিভিশন, সিনেমা সব জায়গাতেই তিনি সমানভাবে কাজ করেছেন। এদিন থিয়েটার প্রসঙ্গে পাপিয়ার বক্তব্যও নজর কেড়েছে। তিনি বলেন, “মঞ্চে কতগুলো থিয়েটারের শো করলে গিনেস বুকে নামটা ওঠে জানি না, তবে মঞ্চ আমাকে বোধহয় সবচেয়ে বেশি পেয়েছে।” নিজের দীর্ঘ মঞ্চ অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “এত বেশি শো করেছি,পদ্মশ্রী পাওয়ার যোগ্য আমি।” এখানেই থামেননি, নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেন।

তাঁর কথায়, “আমার মধ্যে একটা স্মার্টনেস রয়েছে। একটা সপ্রতিভ ব্যাপার আছে। মানুষকে বোধহয় সেটাই মুগ্ধ করে।” পদ্মশ্রী পাওয়ার ইচ্ছে নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি স্পষ্ট বলেন, “কে চায় না স্বীকৃতি পেতে? আর পদ্মশ্রী তো একটা বিরাট অ্যাওয়ার্ড।” আরও যোগ করেন, “আমি মারা যাওয়ার পরে আমার মেয়েরা গর্ব করে বলতে পারবে, আমাদের মা শুধু বিধায়ক ছিলেন না। পদ্মশ্রী-প্রাপক তিনি।” শেষে দাবি করেন, “আমি বলছি না এটা লোভ। এটা আমার অধিকার।” বন্ধু রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন পাপিয়া। তিনি বলেন, “যদি মানসিক পরিবর্তন হয়, তা হলে তো সত্যিই ভালো। হয়তো ধীরে-ধীরে সকলে বদলে যাচ্ছেন।”

আরও পড়ুনঃ “যারা জামা বদলে নতুন দলে ঢুকবে, তাদের জন্য একটা বড় লাঠি সামনে রাখুন…. তৃণমূলের কোন শিল্পীকে যেন নতুন বিজেপি সরকার গ্রহণ না করে, তাহলে সব শেষ” সরকার বদলাতেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন লাবনী সরকার এবং কৌশিক ব্যানার্জী!

তবে বিজেপিতে এখন সবাইকে নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। টলিউডকে হলিউড করার মন্তব্য নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন পাপিয়া। বলেন, “অনেকেই আমার এই মন্তব্য নিয়ে ট্রোল করছেন। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। হলিউডের টেকনিশিয়ানরা আমাদের এখানে কাজ করেন। কেন হলিউড থেকে ধার করতে হবে? আমরা নিজেরাই তো শিখে নিতে পারি।” লিওনেল মেসিকে আনার প্রসঙ্গেও আত্মবিশ্বাসী তিনি। তাঁর কথায়, “মেসিকে আমি এনেই ছাড়ব। মেসির হাতে-পায়ে ধরে বলব, আপনার জন্য একটা বড় পরিবর্তন এসে গিয়েছে।”

You cannot copy content of this page