বিগ বস বাংলার তৃতীয় সিজন ঘিরে শুরু থেকেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (sourav Ganguly)। দীর্ঘদিন ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে সঞ্চালনার পর এবার সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের রিয়্যালিটি শোয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। তবে বিগ বসের মঞ্চে সৌরভের সঞ্চালনা শুরু হতেই দর্শকদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে গ্র্যান্ড লঞ্চের পর তাঁর সাজ, নাচ এবং সঞ্চালনার ধরন নিয়ে সমাজ মাধ্যমে কম কটাক্ষ হয়নি। যদিও সৌরভ নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি এই শোতে সবে কাজ শুরু করেছেন এবং সময়ের সঙ্গে তাঁর সঞ্চালনা আরও ভালো হবে। তাঁর কথায়, ‘দাদাগিরি’র মতো এই শোয়ের দশ বছরের অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। তবু কয়েক সপ্তাহ কাটার পরেও সঞ্চালক হিসেবে তাঁকে নিয়ে দর্শকদের একাংশের অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি।
বিগ বসের উইকেন্ড পর্বে ‘দাদার দরবার’ এখন শোয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সেখানে প্রতিযোগীদের কাজকর্ম নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করছেন সৌরভ এবং প্রয়োজন হলে বেশ কড়া ভাষাতেও তাঁদের সতর্ক করছেন। সম্প্রতি সৃজলা গুহকে ঘোড়া থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে নিরঞ্জন মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ হয়। নিরঞ্জন সৌরভের বক্তব্যের বিরোধিতা করতেই সঞ্চালক তাঁকে তর্ক না করার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে সৌরভ নিরঞ্জনকে সেখান থেকে চলে যেতে পর্যন্ত বলেন। এরপর তাঁর এই কড়া অবস্থান নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনই সঞ্চালক হিসেবে সৌরভের ভূমিকা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে নতুন করে মতভেদ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে বিগ বস বাংলার প্রথম সিজনের বিজয়ী অনীক ধর সৌরভের সঞ্চালনার সমালোচনার বিরোধিতা করে তাঁকে সময় দেওয়ার কথাও বলেছেন। তবে এতকিছুর পরেও সৌরভকে সঞ্চালক হিসেবে দর্শকদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেননি বলে নেটপাড়ার একাংশের মত। অনেকেরই বক্তব্য, ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে যে স্বচ্ছন্দ সৌরভকে তাঁরা বছরের পর বছর দেখে এসেছেন, বিগ বসের উত্তপ্ত পরিবেশে সেই একই ছন্দ এখনও তৈরি হয়নি। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, ঝগড়া এবং অভিযোগের মধ্যে সৌরভের কড়া হস্তক্ষেপই তাঁর সঞ্চালনার ধরনকে আলাদা করে তুলছে। এদিকে সৌরভের বদলে অন্য কাউকে সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখতে চেয়ে নেটমাধ্যমে পোস্টও ভাইরাল হয়েছে।
একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নেটিজেনদের একাংশ সৌরভের পরিবর্তে অন্য সঞ্চালকের নাম চাইছেন। অর্থাৎ সমালোচনা শুধু কোনও একটি পর্বে সীমাবদ্ধ নেই, তাঁর সামগ্রিক সঞ্চালনা নিয়েই আলোচনা চলছে। এই আবহেই এবার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে সামনে এল নতুন খবর, যা সঞ্চালক বদলের জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। আসলে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে খুব শীঘ্রই বিগ বস বাংলার মঞ্চে দেখা যাবে বলে খবর সামনে এসেছে। তিনি নিজের ছবি ‘ডাক্তার কাকু’র প্রচারের জন্য বিগ বসের সেটে উপস্থিত হচ্ছেন। টিভি নাইন বাংলার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সৌরভের পাশে দাঁড়াতে দেখা যাবে প্রসেনজিৎকে। বিগ বসের ঘরের প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁর কী কথোপকথন হয়, সেদিকেও নজর থাকবে দর্শকদের। টলিপাড়ায় ‘বুম্বাদা’ প্রসেনজিতের উপস্থিতি তাই এই পর্বে আলাদা মাত্রা যোগ করতে চলেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটপাড়ায় প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি সৌরভের জায়গায় এবার নতুন সঞ্চালক আসছেন?
আরও পড়ুনঃ “মাত্র ৫ মিনিটের মৃ’ত্যু য’ন্ত্রণা, আমার কোলেই সবটা শেষ” “বিকেলেই যে চিরতরে চলে যাবে জানতাম না, তাই দুপুরে…” মেয়ের হাতে মাথা রেখেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ, মৃ’ত্যুও যে সুখের হতে পারে তা নিজের মাকে দেখেই বুঝলেন চাঁদনী গঙ্গোপাধ্যায়! অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করতে শিখিয়েছিলেন মা, সেই সাহসের জেরেই আজও লড়ে চলেছেন তিনি! জীবনের সবচেয়ে ক’ষ্টের অধ্যায় ভাগ করে চোখে জল নৃত্যশিল্পীর!
নাকি সৌরভের সঙ্গে নতুন করে প্রসেনজিৎকেও এই শোয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে, সেটাই এখন মূল জল্পনা। তবে আপাতত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জায়গায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সম্পূর্ণভাবে সঞ্চালকের দায়িত্ব নিচ্ছেন, এমন কোনও নিশ্চিত ঘোষণা সামনে আসেনি। বরং যে খবরটি এখন পাওয়া যাচ্ছে, তাতে প্রসেনজিতের উপস্থিতি মূলত বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং তাঁর ছবি প্রচারের সূত্রে। তাই একেবারে সঞ্চালক পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে বলে ধরে নেওয়ার জায়গা এখনও তৈরি হয়নি। তবে টেলিভিশন মহলে আলোচনা চলছে, ভবিষ্যতে সৌরভের সঙ্গে প্রসেনজিৎকে যৌথভাবে সঞ্চালনার ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ পরিবর্তনের বদলে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাই এখন বেশি আলোচনায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিগ বস বাংলার সঞ্চালনার দায়িত্বে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা অবশ্য চ্যানেল বা নির্মাতাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে। এর মধ্যে সৌরভের সঞ্চালনা নিয়ে দর্শকদের বিতর্ক এবং প্রসেনজিতের আগমন, দুই ঘটনাই নতুন করে বিগ বস বাংলার চর্চা বাড়িয়ে দিয়েছে।






