“আমাদের সুবিধার জন্যই…ভুল করে হয়ে গিয়েছিল” জল্পনা কাটিয়ে ফের একসঙ্গে ঘর পাল্টাচ্ছেন পরিযায়ী পাখিরা? রচনা ও শতাব্দী সহ আরও এক তারকা সাংসদ, ছাড়ছেন এনসিপিআই? স্পিকারের দেওয়া সময়সীমা শেষ হতেই ২০ জন সাংসদদের মধ্যে কী নিয়ে অস’ন্তোষ?

এনসিপিআইয়ের ২০ জন সাংসদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কলকাতায় ভারত ব্রাজিল প্রদর্শনী ম্যাচের টিকিট পাওয়া নিয়ে সাংসদদের মধ্যে নাকি অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই কয়েকজন সাংসদ গ্রুপ ছেড়ে দিয়েছেন বলে খবর ছড়ায়। বৃহস্পতিবার বৈঠকের আগে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় এনসিপিআই সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রচনা অবশ্য এমন কোনও ঘটনা ঘটেছে বলে মানতে চাননি। তাঁর কথায়, “না না এরকম কিছু হয়নি। গ্রুপের নাম কখনও কখনও বদল হচ্ছে, আমাদের সুবিধার জন্য।” অর্থাৎ গ্রুপের নাম বদলানোর বিষয়টিকেই এই জল্পনার অন্যতম কারণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। অন্যদিকে, একই বিষয়ে শতাব্দী রায়ের বক্তব্যও যথেষ্ট স্পষ্ট।

বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়কেও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সত্যিই কি একাধিক সাংসদ পুরনো গ্রুপ ছেড়ে দিয়েছেন? শতাব্দী সেই জল্পনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি বলেন, “ছোট ছোট গল্পকে বড় করা হচ্ছে।” এরপর গ্রুপের বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, পুরনো গ্রুপটি ভুল কারণে ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। তাই পরে নতুন করে একটি গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে সকলেই রয়েছেন বলে জানান তিনি। শতাব্দীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০ জন সাংসদই এখনও একসঙ্গে রয়েছেন। ফলে ভারত ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট নিয়ে অসন্তোষের জেরে সাংসদদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, এই জল্পনা তাঁরা দুজনেই খারিজ করেছেন।

তবে এনসিপিআইকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এমনিতেই চলছে। দলটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। ২০ জন সাংসদের সাংসদপদ সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। অন্যদিকে স্পিকারের কাছে বারবার সময় চাইছেন ওই সাংসদরা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ভারত ব্রাজিল প্রদর্শনী ম্যাচের টিকিট নিয়ে অসন্তোষের খবর সেই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু রচনা এবং শতাব্দীর বক্তব্যে আপাতত সেই দাবির সঙ্গে তাঁদের অবস্থানের কোনও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। দুজনেরই বক্তব্য, গ্রুপে সাংসদদের মধ্যে এমন কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে অবশ্য সব সাংসদ উপস্থিত ছিলেন না। কাকলি ঘোষ দস্তিদার এদিনের বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কাকলির ছেলে অসুস্থ থাকার কারণেই তিনি বৈঠকে আসতে পারেননি। এদিন মোট ১০ জন সাংসদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবু তাহের, খলিলুর রহমান, শর্মিলা সরকার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জগদীশ বসুনিয়া। এছাড়াও ছিলেন শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ চক্রবর্তী। অর্থাৎ ২০ জনের দলীয় শিবিরের অর্ধেক সাংসদকে নিয়েই এদিনের বৈঠক হয়েছে। যদিও অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে কাকলির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পারিবারিক কারণের কথাই জানানো হয়েছে।

এদিকে সাংসদদের সামনে এখন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। স্পিকারকে জবাব দেওয়ার জন্য আরও দু’সপ্তাহ সময় চেয়েছেন এনসিপিআইয়ের সাংসদরা। এই সময় চেয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাতে সাংসদরা সইও করেছেন। অর্থাৎ সাংসদপদ সংক্রান্ত চলমান আইনি জটিলতার মধ্যেই তাঁরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য আরও সময় নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ নিয়ে ওঠা প্রশ্নও তাঁদের ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ভারত ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটকে কেন্দ্র করে গ্রুপ ছাড়ার যে খবর সামনে এসেছিল, তা নিয়ে রচনা এবং শতাব্দীর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রচনা সরাসরি বলেছেন এমন কিছু হয়নি, আর শতাব্দী বলেছেন ছোট ঘটনাকে বড় করে দেখা হচ্ছে। ফলে আপাতত তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী ২০ সাংসদের মধ্যে ঐক্য রয়েছে বলেই বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ “ওই মেয়েটার নামও মুখে আনতে চাই না, ওর সঙ্গে কোনদিনও দেখা বা কাজও করতে চাই না!” “ভরত বুড়ো, ম*রুক, পাঁচটা বিয়ে, জয়শ্রীকে ছেড়ে তনুশ্রীকে ধরেছে…কী অকথ্য ভাষা!” “ওঁকে আক্র*মণাত্মকভাবে খেলতে হবে!” ‘বিগ বসের বাংলা’য় অভিভাবকের মতো সবার কথা ভাবলেও বারবার অপদস্থ হচ্ছেন ভরত কল, মুখ খুললেন স্ত্রী জয়শ্রী মুখোপাধ্যায়! কাঁদের নোং*রা রূপ সামনে আনলেন?

সব মিলিয়ে এনসিপিআই সাংসদদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়। একদিকে রচনা গ্রুপের নাম বদলের বিষয়টি সামনে এনে টিকিট নিয়ে কোনও গোলমাল হয়নি বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে শতাব্দী জানিয়েছেন, ভুল কারণে পুরনো গ্রুপটি ডিলিট হয়ে যাওয়ার পর নতুন গ্রুপ তৈরি হয়েছে। সেই নতুন গ্রুপে ২০ জন সাংসদই রয়েছেন বলেই তাঁর দাবি। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে অবশ্য উপস্থিত ছিলেন ১০ জন সাংসদ। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অনুপস্থিতির কারণও রচনার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। এর পাশাপাশি স্পিকারকে জবাব দেওয়ার জন্য আরও দু’সপ্তাহ সময় চাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ঘিরে জল্পনার মধ্যেও রচনা ও শতাব্দীর বক্তব্যে সাংসদদের মধ্যে ভাঙনের কোনও ইঙ্গিত আপাতত মেলেনি।

You cannot copy content of this page