বিগ বস বাংলার ঘরে ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে রাজবীর দে-র (Rajveer Dey) ভাগ্য যেন বারবারই ধাক্কা খাচ্ছে। গতকালের পর্বে নতুন করে ক্যাপ্টেন্সি টাস্কের জন্য প্রতিযোগীদের বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুতুল চুরির টাস্কে একের পর এক প্রতিযোগী বাদ পড়ার পর শেষ পর্যন্ত কয়েকজনকে ক্যাপ্টেন্সির দৌড়ে দেখা যায়। এর আগের ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক বাতিল হওয়ার পর এবার ফের নতুন করে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগের টাস্কেও রাজবীর ক্যাপ্টেন হওয়ার দৌড়ে ছিলেন এবং শারীরিক লড়াইয়ে যথেষ্ট সক্রিয় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই সুযোগ তাঁর হাতে আসেনি। এবারের নতুন টাস্কেও তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একই প্রশ্ন, ফের কি ক্যাপ্টেন্সির দরজা তাঁর জন্য বন্ধ হয়ে যাবে?
গতকালের পর্বের পর প্রকাশ্যে আসা প্রোমো ঘিরেও রাজবীরকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্যাপ্টেন্সির টাস্কে একাধিক প্রতিযোগীকে শারীরিক এবং কৌশলগতভাবে লড়াই করতে দেখা যাবে। সেই লড়াইয়ের মধ্যে রাজবীরকে ফের টাস্ক থেকে ছিটকে যেতে দেখা যাচ্ছে বলে দর্শকদের একাংশের দাবি। প্রোমো নিয়ে অনলাইন আলোচনায় উঠে এসেছে, শেষপর্যন্ত সোনামণি সাহা, নিরঞ্জন মণ্ডল এবং তনুশ্রী রায় দাসকে রিংয়ের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ রাজবীর যদি সত্যিই বাদ পড়ে থাকেন, তাহলে আবারও ক্যাপ্টেন হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে তাঁর। এর আগে ক্যাপ্টেন্সির লড়াইয়ে তনুশ্রী, সৃজলা, মনামী, জিতু এবং রাজবীরের মতো প্রতিযোগীদের দেখা গিয়েছিল। সেই টাস্কে রাজবীর তনুশ্রীকে সরানোর চেষ্টা করেও সফল হননি এবং শেষ পর্যন্ত দুই মহিলা প্রতিযোগী লড়াইয়ে টিকে ছিলেন।
এই জায়গা থেকেই দর্শকদের একাংশ এবার রাজবীরের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের বক্তব্য, ক্যাপ্টেন্সির টাস্ক যদি মূলত পেশিশক্তি এবং শারীরিক লড়াইয়ের উপর নির্ভর করে, তাহলে রাজবীরের মতো শক্তিশালী প্রতিযোগী বারবার কেন পিছিয়ে যাচ্ছেন? তবে এর সঙ্গে আরও একটি বিষয় জুড়ে দেখছেন তাঁরা। এবারের টাস্কে রাজবীরকে তিন মহিলা প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়তে হতে পারে বলেই প্রোমো দেখে মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের আশঙ্কা, রাজবীর যদি বেশি জোর প্রয়োগ করেন, তাহলে আবারও তাঁর বিরুদ্ধে ‘ব্যাড টাচ’-এর মতো অভিযোগ উঠতে পারে। এর আগেও একটি টাস্কে সোনামণি রাজবীরের বিরুদ্ধে অশালীন স্পর্শের অভিযোগ তুলেছিলেন, যদিও সেই অভিযোগ নিয়ে রাজবীরের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তাই এবার শারীরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও রাজবীর কতটা আক্রমণাত্মকভাবে খেলবেন, সেটিই হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
এই পরিস্থিতি থেকেই একজন দর্শকের প্রতিক্রিয়া, “ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক থেকে রাজবীর আবার বাদ গেল? অনেকেই ভাবছেন খেলাটা পেশি শক্তির, রাজবীর যথেষ্ট শক্তিশালী তবু কেন পারলো না?” ওই দর্শকের মতে, টাস্কে তিনজনই মহিলা থাকায় রাজবীর চাইলেও নিজের সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে হয়তো পারবেন না। তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, “নিরঞ্জন কি আপনারা জানেন, রাজবীর যদি বেশি জোর দেখায় তাহলে আবার ব্যাড টাচের অপবাদ পাবে।” অর্থাৎ রাজবীরের সামনে একদিকে রয়েছে ক্যাপ্টেন হওয়ার সুযোগ, অন্যদিকে রয়েছে আগের বিতর্কের ছায়া। তাঁর বক্তব্য, পুরুষ প্রতিযোগীর সঙ্গে শারীরিকভাবে লড়াই করা যতটা সহজ, মহিলাদের সঙ্গে একইভাবে লড়াই করা ততটা সহজ নয়। ফলে রাজবীর যদি সাবধানে খেলেন, তাহলে শারীরিক শক্তির সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে নাও পারেন। আবার বেশি জোর দেখালে পুরনো অভিযোগ নতুন করে সামনে আসার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে বলে ওই দর্শকের মত।
আরও পড়ুনঃ “আমাদের সুবিধার জন্যই…ভুল করে হয়ে গিয়েছিল” জল্পনা কাটিয়ে ফের একসঙ্গে ঘর পাল্টাচ্ছেন পরিযায়ী পাখিরা? রচনা ও শতাব্দী সহ আরও এক তারকা সাংসদ, ছাড়ছেন এনসিপিআই? স্পিকারের দেওয়া সময়সীমা শেষ হতেই ২০ জন সাংসদদের মধ্যে কী নিয়ে অস’ন্তোষ?
সবশেষে ওই দর্শক মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে চলতি সিজনে রাজবীরের ক্যাপ্টেন হওয়ার সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাঁর কথায়, “আমার মনে হয় না এই সিজনে রাজবীর আর ক্যাপ্টেন হতে পারবে।” তবে এটি দর্শকের ব্যক্তিগত অনুমান, আজকের পর্বে শেষ পর্যন্ত কী হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। একইসঙ্গে ওই দর্শক মনে করছেন, রাজবীরকে ক্যাপ্টেন করার পরিবর্তে জিতু কমলকে সেই সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। এদিকে জিতু এবং রাজবীরের সম্পর্ক নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে ঘরে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। রাজবীর ইতিমধ্যেই জিতুর গেম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁদের বন্ধুত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাই আজকের ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে রাজবীর সত্যিই বাদ পড়েন কি না, মহিলা প্রতিযোগীর বিরুদ্ধে তিনি কীভাবে খেলেন এবং শেষ পর্যন্ত কার হাতে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব যায়, এখন সেদিকেই নজর দর্শকদের।






