“তাঁর জন্যই বুম্বাদার কাছে বারবার সিনেমার ক্যাসেট চাইতাম!” ছোটবেলার গোপন ভালোলাগার কথা ফাঁস করলেন অঞ্জন চৌধুরীর কন্যা রীনা চৌধুরী! কোন তারকার সিনেমা দেখে প্রেমে পড়েছিলেন, কার জন্য এমন পাগল ছিলেন অভিনেত্রী?

বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর মেয়ে রীনা চৌধুরী। ছোটবেলা থেকেই সিনেমার পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা, বাবার শুটিং দেখা এবং টলিউডের একাধিক তারকার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পর্দায় কখনও দাপুটে, কখনও প্রতিবাদী মহিলা চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পুরনো দিনের নানা অজানা গল্প ভাগ করে নিতে গিয়ে রীনা ফিরে গেলেন ছোটবেলার স্মৃতিতে। বিশেষ করে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং বলিউডের কোন অভিনেতার সিনেমা দেখার জন্য তিনি এতটা উৎসাহী ছিলেন, সেই গল্পই আলোচনার কেন্দ্রে।

রীনার স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অর্থাৎ বুম্বাদাকে ঘিরে ছোটবেলার এক মজার অধ্যায়। শুটিংয়ের পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে বুম্বাদার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল বেশ ঘরোয়া। তবে বুম্বাদার সঙ্গে সিনেমা দেখা নিয়ে যে গল্প তিনি শুনিয়েছেন, তা বেশ মজার। ছোটবেলায় বুম্বাদার কাছে ভিডিও ক্যাসেটের ব্যবস্থা ছিল। আর সেই ক্যাসেটেই সিনেমা দেখার সুযোগ পেতেন তাঁরা। কিন্তু রীনার বিশেষ আগ্রহ ছিল অন্য এক তারকাকে ঘিরে। বুম্বাদার কাছে গিয়ে জিতেন্দ্রর সিনেমা দেখার জন্য আবদার করতেন তিনি। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও পছন্দের তারকার ছবি দেখার ইচ্ছা কিছুতেই দমিয়ে রাখতে পারতেন না। সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে হাসতে হাসতে জানান, বুম্বাদার কাছে জিতেন্দ্রর ছবি দেখার জন্য বারবার অনুরোধ করতেন তাঁরা। ভিডিও ক্যাসেট নিয়ে সেই টানাটানি, সিনেমা দেখার অপেক্ষা আর ছোটবেলার উচ্ছ্বাস আজও তাঁর কাছে মধুর স্মৃতি।

কিন্তু কেন জিতেন্দ্রর ছবি দেখার জন্য এতটা পাগল ছিলেন রীনা? সাক্ষাৎকারে তাঁর কথায় স্পষ্ট, ছোটবেলা থেকেই জিতেন্দ্রর প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোলাগা ছিল। জিতেন্দ্রর জনপ্রিয় ছবি দেখার জন্য ক্যাসেট জোগাড় করার ঘটনাও ছিল বেশ মজার। ‘মাওয়ালি’, ‘হিম্মতওয়ালা’র মতো ছবির নামও উঠে আসে সেই স্মৃতিচারণে। শুটিংয়ের কাজে বাইরে থাকলেও সিনেমা দেখার আগ্রহ কমত না। হোটেলে থাকার সময়ও কীভাবে জিতেন্দ্রর ছবি দেখা যায়, তা নিয়ে চলত নানা পরিকল্পনা। বুম্বাদার কাছে ক্যাসেট চাওয়া থেকে শুরু করে ছবি দেখার জন্য বারবার আবদার সব মিলিয়ে সেই সময়ের স্মৃতিতে রয়েছে শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিন পর সেই পছন্দের তারকার কথা বলতে গিয়ে রীনা যেন ফিরে গেলেন নিজের ছোটবেলায়।

রীনা শুধু বুম্বাদা বা জিতেন্দ্রকে ঘিরে স্মৃতিই ভাগ করেননি, বাংলা ছবির আরও কয়েকজন অভিনেতার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও শুনিয়েছেন। তাপস পালের সঙ্গে তাঁর কাজের স্মৃতি এবং পারিবারিক সুসম্পর্কের কথা উঠে আসে। রঞ্জিত মল্লিককে নিয়ে বলতে গিয়ে জানান, শুটিংয়ের সময় তাঁকে খুব একটা কঠোর বলে মনে হয়নি। অন্যদিকে, সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়, যাঁকে তাঁরা নানু নামে ডাকতেন, ছিলেন অত্যন্ত মজার মানুষ। তাঁর সঙ্গে কাজ করার সময় শুটিংয়ের ফাঁকে হাসি-ঠাট্টা চলত। ছোটবেলা থেকেই স্টুডিওর পরিবেশে বড় হওয়ায় এই অভিনেতাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলি তাঁর কাছে শুধুই কাজের স্মৃতি নয়, বরং জীবনের বিশেষ অভিজ্ঞতা।

আরও পড়ুনঃ “সোহিনী কি আর সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে না?” মেয়েকে নিয়ে বি’ষাক্ত ট্রো’লিংয়ে ফুঁসে উঠে মায়ের প্রশ্ন! তাপস পালের ২০১৪ সালের বিতর্কিত মন্তব্যের দায় লাগাতার মেয়ের উপর চাপানোয় নিলেন কড়া পদক্ষেপ, কী করলেন নন্দিনী পাল?

অঞ্জন চৌধুরীর কন্যা রীনার এই স্মৃতিচারণ তাই শুধুই তারকাদের গল্প নয়, বাংলা সিনেমার এক সময়ের কাজের পরিবেশ এবং শিল্পীদের পারস্পরিক সম্পর্কেরও ঝলক। একদিকে বাবার শুটিংয়ে বড় হয়ে ওঠা, অন্যদিকে বুম্বাদার কাছে জিতেন্দ্রর সিনেমা দেখার আবদার সব মিলিয়ে তাঁর ছোটবেলার গল্পে রয়েছে হাসি, ভালোলাগা এবং নস্টালজিয়া। পর্দার বাইরে তারকাদের সঙ্গে এমন ঘরোয়া মুহূর্তের কথা শুনে পুরনো বাংলা সিনেমার অনুরাগীদেরও নস্টালজিক করে তুলবে রীনার এই আড্ডা।

You cannot copy content of this page