বঙ্গ নির্বাচন ২০২৬ আসন্ন, আর সেই প্রস্তুতি নিয়ে সব রাজনৈতিক দলই বাংলার সংস্কৃতিকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু, সেই বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক বার বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন তার উচ্চারণে। সোমবার বোলপুরে এক জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতকে ‘রবিশঙ্কর’ বলে ভুল উচ্চারণ করেন। বিষয়টি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই এতে হাসির রোল তুলেছেন।
শুধু তাই নয়, তিনি বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও ভুল উচ্চারণ করেন, যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এদিন বোলপুরে নিজের বক্তব্যে অমিত শাহ যখন রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রসঙ্গ তোলেন, তখন তিনি সাহানা বাজপেয়ীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন তার গায়কীর জন্য। তবে এই সময়েই তিনি ‘রবিশঙ্কর’ বলে ফেলেন, যা সবার নজর কাড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। এই ভুলের ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কি করে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এমন একটি ভুল করতে পারেন, যেখানে বাংলার সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এছাড়া, তিনি লেখক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও ভুল উচ্চারণ করেন। তারাশঙ্করকে ‘তারাচন্দ্র’ বলে উল্লেখ করে তিনি আরও একবার বিতর্কে জড়ান। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে এবং এক্স হ্যান্ডল-এ একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করে, অমিত শাহ যেহেতু বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত নন, তাই বাংলার মানুষের মন জয় করার কথা বলা তাঁর জন্য হাস্যকর। তাদের দাবি, এমন ভুল করে বাংলার মানুষের মন জয় করা সম্ভব নয়।
এই ধরনের ভুল উচ্চারণ নিয়ে টুইটারে এবং ফেসবুকে নানা ধরনের মজার পোস্ট ও মন্তব্য আসতে থাকে। সেলিব্রিটি থেকে সাধারণ নাগরিক, সকলেই এই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করতে থাকেন। অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তীও এই প্রসঙ্গে নিজের মন্তব্য করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়ে অমিত শাহকে তীব্র বিদ্রুপ করেন। ঋত্বিক লেখেন, “ভাই অমিত বলল, রবীন্দ্রনাথ, তারাশঙ্কর, সাহানা বাজপেয়ীকে নিয়ে কী একটা জোক বলতে গিয়েছিল, কিন্তু পুরো লেবড়ের মতো হয়ে গেছে।”
আরও পড়ুনঃ “মায়ের মৃ’ত্যুটা আমি ৬মাস পর…একজন লিখে পাঠিয়েছিল…” গত বছর মাকে হারিয়ে ৩ দিনের মাথায় কাজে ফিরতেই সমালোচনার শি’কার হন কনীনিকা! একইভাবে রাহুলের মৃ’ত্যুতেও কটাক্ষের মুখে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা! মায়ের কোন শিক্ষার কথা তুলে সমালোচকদের এক হাত নিলেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়?
এমনকি রাজনৈতিক মহলেও এই ভুল উচ্চারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে, বাংলায় নির্বাচনী প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের এই ধরনের ভুল বাঙালির আবেগকে আঘাত করছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কিছু মানুষের মতে, বাংলার সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা না দেখানো, বরং এমন ভুল উচ্চারণ রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষের বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং, এই ঘটনা ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারের প্রভাব নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।






