“গাড়িতে তেল নেই, হঠাৎ প্রচুর টাকা চায়, না দিতেই ব্যাগসহ আমাকে টেনে হিঁচড়ে…কাল বাঁচতাম না” “বিপদে সাহায্য চেয়েও যদি না পান, এই শহরে নিরাপত্তা কোথায়?” সেফটি হেল্পলাইনের অসহযোগিতা, বাধ্য হয়েই করলেন এফাইয়ার! মধ্যরাতের লাইভের পর, ফের ভিডিওতে র‍্যাপিডো চালকের ভয়ংকর পরিকল্পনা ফাঁস করে অ্যাপ ব্যানের দাবি সম্পিতা প্রামাণিকের! ঠিক কী হয়েছিল শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে?

দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনলাইন ক্যাব ও বাইক পরিষেবা এখন শহরবাসীর অন্যতম ভরসা। বিশেষ করে রাতের পথে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে অ্যাপনির্ভর যানবাহনের উপর নির্ভর করেন বহু মানুষ। তবে এই পরিষেবায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন ওঠে। এবার সেই প্রশ্নই আরও জোরালো করলেন নৃত্যশিল্পী তথা অভিনেত্রী সম্পিতা প্রামাণিক। র‍্যাপিডো চালকের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, মহানগরের ব্যস্ত রাস্তায় রাতের দিকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে তিনি কার্যত প্রাণে বেঁচেছেন। এমনকি অ্যাপের সেফটি হেল্পলাইনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সময়মতো কোনও সাহায্য পাননি বলেও অভিযোগ সম্পিতার।

অভিনেত্রীর বয়ান অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে হাজরা মোড়ের বসুশ্রী সিনেমার সামনে থেকে তিনি র‍্যাপিডো বুক করেছিলেন। প্রথমে তাঁর গন্তব্য ছিল পার্ক স্ট্রিট, যেখানে একজন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তাঁর সঙ্গে পার্টিতে কাজ করার কথা থাকা এক ব্যক্তি আসতে পারবেন না বলে জানান। সেই কারণে সম্পিতা অ্যাপেই গন্তব্য পরিবর্তন করে দমদম করে দেন। তাঁর দাবি, প্রথমে অ্যাপে ভাড়া দেখাচ্ছিল ২৭২ টাকা, পরে গন্তব্য বদলের পর তা বেড়ে ৪৩৪ টাকা হয়। কিন্তু গন্তব্য পরিবর্তন করতেই চালক তাঁর সঙ্গে খারাপভাবে কথা বলতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই চালকের আচরণে অস্বস্তি বোধ করছিলেন অভিনেত্রী। মাঝপথে চালক বারবার জানান, তিনি দমদম পর্যন্ত যেতে পারবেন না, তাঁর বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে এবং গাড়িতে তেলও নেই।

সম্পিতার দাবি, চালক এমন কথাও বলেন যে অ্যাপে অনেক কিছুই দেখায়, কিন্তু বাস্তবে তিনি সেখানে যেতে পারবেন না। পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিনেত্রী নিজে প্রয়োজনে তেলের টাকা দেওয়ার কথাও বলেন। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং চালক তাঁর কথায় কর্ণপাত না করে কানে হেডফোন দিয়ে গাড়ি চালাতে থাকেন বলে অভিযোগ। তখনই আতঙ্কিত হয়ে সম্পিতা র‍্যাপিডোর সেফটি পরিষেবায় বারবার মেসেজ করেন। তাঁর দাবি, এতবার সাহায্য চাওয়ার পরেও সংস্থার তরফে কোনও কার্যকর সহযোগিতা পাননি। শেষ পর্যন্ত তিনি চালককে বারবার অনুরোধ করতে থাকেন, দমদম পর্যন্ত না গিয়ে যেন তাঁকে কাছাকাছি কোনও মেট্রো স্টেশনের কাছে নামিয়ে দেওয়া হয়। বহু অনুরোধের পর রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনের কাছে গাড়ি থামাতে রাজি হন চালক।

কিন্তু সেখানেই পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ অভিনেত্রীর। সম্পিতার বক্তব্য, গাড়ি থামার পর তিনি নিজের দু’টি ফোন পকেটে ঢুকিয়ে ভারী ব্যাগ নিয়ে নামতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ব্যাগের একটি অংশ গাড়ির মধ্যে থাকা অবস্থাতেই চালক আচমকা গাড়ি চালিয়ে দেন বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে দমদম পর্যন্ত অ্যাপে দেখানো ভাড়া ৪৩৪ টাকা দেওয়ার জন্য চালক কিউআর কোড এগিয়ে দেন। সম্পিতা জানান, তিনি যতটা পথ এসেছেন, সেই অনুযায়ী ভাড়া দিতে রাজি ছিলেন। এই নিয়ে তর্ক শুরু হলে চালক মেজাজ হারান বলে অভিযোগ। এরপর গাড়ি চলতে শুরু করলে অভিনেত্রী ব্যাগটি নিয়ে নামার চেষ্টা করেন এবং গাড়ির সঙ্গে কিছুটা রাস্তা টেনে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি তাঁর। সম্পিতার আশঙ্কা, সেই মুহূর্তে তিনি পড়ে গেলে বড়সড় দুর্ঘটনা এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারত। কোনওরকমে নিজের ব্যাগ ও জিনিসপত্র সামলে গাড়ি থেকে সরে আসেন তিনি। রাস্তায় থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা ছুটে এসে তাঁকে সাহায্য করেন, জল খাইয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুনঃ “আমিই এখন দিদির অভিভাবক, বিপদে পড়লেই ও আবার খেতে শুরু করে…” “পুতুল থেকে সাজগোজ, সবকিছুর আবদার এখনও চলছে” ১১ বছর আগে স্বামী সুমিত সেনের মৃ’ত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন মালবিকা সেন, সেই থেকে তাঁকে কীভাবে আগলে রেখেছেন বোন শ্যামলিকা? দুই বোনের ভালোবাসা ও যত্নের অজানা গল্পে মন ভরবে আপনাদেরও!

ঘটনার পর গোটা অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সম্পিতা। তাঁর দাবি, রাত সাড়ে সাতটা থেকে আটটার মধ্যে কলকাতার মতো মহানগরের রাস্তায় একজন যাত্রী, তিনি মহিলা হন বা পুরুষ যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় তিনি প্রায় প্রাণ হারাতে পারতেন এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ তথা এফআইআর করেছেন। একইসঙ্গে র‍্যাপিডোর মতো পরিষেবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এমন অভিজ্ঞতার পর সংশ্লিষ্ট পরিষেবা বন্ধ বা ব্যান করার দাবিও জানিয়েছেন সম্পিতা। তাঁর অভিযোগ, একজন যাত্রী বিপদের মধ্যে পড়ে সেফটি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেও যদি দ্রুত সাহায্য না পান, তাহলে অ্যাপনির্ভর পরিবহণ ব্যবস্থায় যাত্রী সুরক্ষার দাবিই বা কতটা কার্যকর সেই প্রশ্নই এখন সামনে আনতে চাইছেন তিনি।

You cannot copy content of this page