“গত দেড় বছর আমার গলা নিয়ে যে ভোগান্তি হয়েছে, কেউ কল্পনাও করতে পারবে না” “সেটাই আমার কাছে ফিরে এসেছে, আমি যা যা নেগেটিভ…” গলার অ’সুখে অসহনীয় যন্ত্র’ণা, সুস্থ হতেই জীবন নিয়ে কোন উপলব্ধি জয়তী চক্রবর্তীর? বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ফিরিয়ে দেয় সবকিছুর জবাব, কি জানালেন গায়িকা?

মানুষের জীবনে এমন সময় আসে, যখন সবকিছু ঠিকঠাক চলতে চলতেই হঠাৎ সমস্যা শুরু হয়। তখনই মানুষ নিজের ভুল, নিজের ভাবনা আর জীবনের দিকটা নতুন করে ভাবতে শুরু করে। অনেকেই বলেন, খারাপ সময়ই আসলে সবচেয়ে বেশি শিক্ষা পাওয়া যায়। সম্প্রতি তেমনই নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা আর সেই থেকে পাওয়া বড় শিক্ষার কথা সহজভাবে শেয়ার করেছেন গায়িকা জয়তী চক্রবর্তী, যা শুনে অনেকেই নিজের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন।

জয়তী চক্রবর্তী বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি গায়িকা, যিনি বিশেষ করে রবীন্দ্রসঙ্গীতের জন্য পরিচিত। তাঁর কণ্ঠের গভীরতা এবং আবেগ শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীতই নয়, আধুনিক বাংলা গান এবং নজরুলগীতিতেও তাঁর সমান দখল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবেও কাজ করছেন। সংগীত শিক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পীদের কাছে, যা তাঁর গানে আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে গায়িকা জানান, গত দেড় বছর তিনি গলার সমস্যায় ভীষণ ভুগেছেন। একজন গায়িকার কাছে গলা সবচেয়ে বড় সম্পদ, আর সেই জায়গাতেই সমস্যা তৈরি হওয়া তাঁর জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। তবে এই কঠিন সময়ই তাঁকে জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সত্য বুঝতে সাহায্য করেছে। তাঁর কথায়, এই অসুখ যেন চোখে আঙুল দিয়ে তাঁকে দেখিয়ে দিয়েছে কোথায় ভুল হচ্ছিল।

জয়তী স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অজান্তেই অনেক নেগেটিভ সিগন্যাল পাঠিয়েছেন এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে। তিনি বলেন, “আমি যা যা নেগেটিভ বলেছি, সেটাই আমার কাছে ফিরে এসেছে।” ছোটবেলায় তাঁর মা তাঁকে বারবার বলতেন, সকাল-বিকেল বা ভোরবেলায় কখনোই নেতিবাচক কথা বলা উচিত নয়। তাঁর মা বিশ্বাস করতেন, ঈশ্বর চারপাশে ঘুরে বেড়ান এবং ‘তথাস্তু’ বলে সেই কথাগুলিকে সত্যি করে দেন। তখন হয়তো তিনি বিষয়টি ততটা গুরুত্ব দেননি, কিন্তু আজ বুঝতে পারছেন সেই কথার গভীরতা।

আরও পড়ুনঃ দারুন সুখবর! অবশেষে মা হলেন সুস্মিতা রায়, কোলে এল সন্তান! বিয়ের এক মাস যেতেই জল্পনার অবসান, “এই শিশু আমার জীবনে নতুন সুখের সংজ্ঞা” চোখে জল নিয়ে, মাতৃত্বে পা রাখার আনন্দ করলেন ভাগ!

এখন জয়তী চক্রবর্তী জীবনের দিকে একেবারে অন্যভাবে তাকাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র নিজের জীবনের জন্য নয়, গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য যেমন ভাববেন, তেমনই ফল পাবেন। তিনি আরও বলেন, যদি মনে করা হয় যে কেউ কারও জীবনে প্রয়োজনের জন্য এসেছে, তাহলে সেটাও একধরনের কর্মফল। কেউ কাকে কীভাবে ব্যবহার করছে, সেটাও জীবনেরই অংশ। সব মিলিয়ে, কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়ে তিনি এখন অনেক বেশি ইতিবাচক এবং সচেতন হয়েছেন, যা তাঁর জীবন এবং ভাবনায় বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

You cannot copy content of this page