বিনোদন জগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে। বড় পর্দা বা মঞ্চে যাঁদের দেখে মানুষ অভ্যস্ত, তাঁদের বাস্তব জীবনের ভালোবাসা, অভিমান, খুনসুটি—সবটাই যেন আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। সম্পর্ক কতটা গভীর, কে কাকে কতটা বোঝেন, কিংবা ঝগড়ার পর কীভাবে মিটমাট হয়—এসব জানার কৌতূহল কখনও কমে না।
২০২৪ সালে, ১৫ জুলাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি ফার্মহাউজে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সোহিনী সরকার ও শোভন গঙ্গোপাধ্যায়। এই তারকা দম্পতি এই বছর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ছ’টায় রবীন্দ্র সদন-এ অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘ভালোবাসাবাসি’-তে একসঙ্গে অংশ নেন তাঁরা। মঞ্চে গান, আড্ডা আর হাসির ফাঁকে উঠে আসে তাঁদের সম্পর্কের নানা অজানা দিক।
ভ্যালেন্টাইনস উইকের আবহে নিজেদের প্রেম আর বিবাহিত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই জুটি। সোহিনীর কথায়, ভালোবাসা কোনও একটি বিশেষ দিনের উদযাপন নয়—ভালো-মন্দ, আনন্দ-দুঃখ মিলিয়েই তৈরি হয় সম্পর্কের আসল রসদ। ২০২৪ সালে প্রথম আলাপের পর সরস্বতী পুজোর সময় তাঁরা নরওয়ে ও সুইডেনে ঘুরতে গিয়েছিলেন বলেও জানান অভিনেত্রী। বিদেশে বন্ধুর বাড়িতে সরস্বতী পুজো করার সেই স্মৃতি এখনও নাকি দু’জনের কাছেই বিশেষ।
কে কাকে আগে প্রস্তাব দিয়েছিলেন? এই প্রশ্ন উঠতেই সোহিনী হেসে জানান, বিয়ের কথা প্রথম শোভন-ই বলেছিলেন। তবে ভালোবাসার কথা সরাসরি কেউ কাউকে সেভাবে জানাননি। বিয়ের পর সংসারে ছোট ছোট দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যেও যে ভালোবাসা থাকে, সেটাই তাঁর বিশ্বাস। যেমন—স্নানের আগে চুপিসারে গিজার চালিয়ে দেওয়া এই দায়িত্বটার মধ্যেও একটা ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে। “ভালবাসি” কথাটা সবসময় বলতেই হবে এমন নয়, যত্নটাই আসল।
আরও পড়ুনঃ “ভ্যালেন্টাইনস ডে আমার কাছে ‘আদিখ্যেতা’র দিন…ন্যাকামি করে প্রেম দেখাতে পারি না!” ভালোবাসা থাকলে আলাদা করে প্রমাণের দরকার কী? প্রেমের দিনে ব্যতিক্রমী অবস্থান, চেনা ছকের বাইরে লোপামুদ্রা মিত্র!
এরপরে প্রশ্ন আসে শোভনের কাছে, রাগের সময় কী হয়? সোহিনী রেগে গেলে কি গান শুনিয়ে মান ভাঙান শোভন? জবাবে গায়ক মজার মন্তব্য করেন , “আমার বউ অনেক দামি, তার রাগ হলে গান বানিয়ে শোনাতে হয়, শুধু গাইলে হয় না।” এই খুনসুটি আর আন্তরিক কথাবার্তাই যেন প্রমাণ করে—তারকাদের ঝলমলে জীবনের আড়ালেও লুকিয়ে থাকে একেবারে সাধারণ, সহজ ভালোবাসা।






