“হয়তো বিগ বসের ঘরে সততার দাম নেই, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মন ছুঁয়ে গেল!” “শিরদাঁড়া সোজা রেখে ঠিকটাকে ঠিক, ভুলকে ভুল বলতে পারাটাই প্রকৃত মানুষের পরিচয়!” জেতার জন্য পিঠে ছু’রি মা’রছে যখন অন্য সবাই, তখন ক্যাপ্টেন্সি পেয়েও ফিরিয়ে দিলেন সোনামণি সাহা! অন্যায়ভাবে পাওয়া জয় মানতে নারাজ অভিনেত্রী, সততায় মুগ্ধ দর্শক ভরালেন প্রশংসায়!

বিগ বসের ঘরে ক্যাপ্টেন্সি পাওয়া মানেই এক সপ্তাহের জন্য ইমিউনিটি বা নমিনেশন থেকে নিরাপদ থাকার সুযোগ। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য যেখানে প্রতিযোগীদের মধ্যে চলে নানা রকমের কৌশল, সেখানে ক্যাপ্টেন হওয়ার সুযোগ পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়ে নজির গড়লেন অভিনেত্রী সোনামণি সাহা (Sonamoni Saha)। বিগ বস বাংলার সাম্প্রতিক পর্বে ক্যাপ্টেন্সি টাস্ককে কেন্দ্র করে তৈরি হয় তুমুল উত্তেজনা। প্রতিযোগী নিরঞ্জন মণ্ডলের সঙ্গে লড়াইয়ের মাঝেই সঞ্চালক দুর্নিবার সাহার সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, নিরঞ্জনকে টাস্ক থেকে বাদ দিয়ে সোনামণিকে একতরফাভাবে নতুন ক্যাপ্টেন ঘোষণা করেন দুর্নিবার। কিন্তু সেই সুযোগকে নিজের জয় হিসেবে মেনে নিতে রাজি হননি অভিনেত্রী। বরং ক্যাপ্টেন্সি পাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠার বদলে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এভাবে পাওয়া জয় তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সোনামণির এই সিদ্ধান্তই এখন দর্শকদের একাংশের প্রশংসা কুড়োচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক চলাকালীন। বিগ বসের নির্দেশে গার্ডেন এরিয়ায় একটি রেসলিং রিং তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে নিরঞ্জন, তনুশ্রী, সৃজলা, সোনামণি এবং রাজবীর অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগীদের একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে রিংয়ের বাইরে ফেলে দিতে হত। তিনবার ক্র্যাশ ম্যাটের উপর পড়ে গেলে প্রতিযোগীকে বাদ পড়তে হত। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার আগেই সৃজলার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আপত্তি ওঠে। চিকিৎসকের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও সৃজলা খেলায় অংশ নিতে চাইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর সঞ্চালক দুর্নিবারের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিরঞ্জন আপত্তি জানান এবং উত্তেজিত হয়ে তাঁর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। সেই সময় দুর্নিবার নিরঞ্জনকে টাস্ক থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুধু তাই নয়, নিরঞ্জনকে সরিয়ে সোনামণিকেই ক্যাপ্টেন ঘোষণা করে দেন তিনি। এই সিদ্ধান্তে বিগ বসের ঘরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

দুর্নিবারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি ঘরের একাধিক প্রতিযোগী। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল সোনামণির প্রতিক্রিয়া। ক্যাপ্টেন্সির মতো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সামনে পেয়েও তিনি সেটিকে নিজের প্রাপ্য বলে মেনে নেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিরঞ্জনকে বাদ দিয়ে তাঁকে ক্যাপ্টেন করা হলে সেই জয়কে প্রকৃত জয় বলা যায় না। তাই একতরফাভাবে পাওয়া ক্যাপ্টেন্সি গ্রহণ করার বদলে নিরঞ্জনকে আবার খেলায় ফেরানোর আর্জি জানান অভিনেত্রী। তাঁর এই আচরণ দর্শকদের একাংশের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কারণ বিগ বসের ঘরে ক্যাপ্টেন হওয়া মানে শুধু দায়িত্ব পাওয়া নয়, বরং নমিনেশনের ঝুঁকি থেকে সাময়িকভাবে সুরক্ষিত থাকার সুযোগও পাওয়া। সেই সুবিধা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সোনামণি নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। প্রতিযোগিতায় জেতার চেয়ে স্বচ্ছভাবে খেলা তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এমনটাই মনে করছেন তাঁর অনুরাগীদের একাংশ।

সোনামণির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাজমাধ্যমে এক দর্শক নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “ক্যাপ্টেন্সি পাওয়া মানে এক সপ্তাহের জন্য ইমিউনিটি পাওয়া। ভোটাভুটির দাড়িপাল্লা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা। এ সব জেনেও ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে বিজয়ী হিসেবে নিজের নাম সঞ্চালকের মুখ থেকে ঘোষিত জেনেও যে নিজে স্বচ্ছভাবে খেলার দাবি জানাতে পারে। সেই মানুষটির সততাকে কুর্নিশ।” ওই দর্শকের মতে, বিগ বসের ঘরে ক্যাপ্টেন্সি পাওয়ার জন্য অনেকে নানা কৌশল অবলম্বন করেন। কেউ সামনে থেকে লড়াই করেন, আবার কেউ নিজেদের সুবিধা বজায় রাখতে অন্যদের সঙ্গে সমীকরণ তৈরি করেন। সেখানে সোনামণি নিজের হাতে পাওয়া সুযোগও ফিরিয়ে দিতে পিছপা হননি। তাঁর কাছে ক্যাপ্টেন্সি পাওয়ার চেয়ে নিয়ম মেনে লড়াই করে জয়ী হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে হয়েছে ওই দর্শকের। তাই সোনামণির এই সিদ্ধান্তকে শুধু একটি খেলার মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন না তিনি, বরং প্রতিযোগিতার মধ্যে সততা বজায় রাখার একটি উদাহরণ হিসেবেই তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুন: “পাঁচ মাসেই বুঝে গেছে বাংলা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভালো ছিলেন, এই সরকারকে চাইছে না” “উনি মায়ের রূপ, মমতাময়ী বলে অনেক কিছু বোঝানো যায়, কিন্তু অভিষেক পাক্কা রাজনীতিবিদ…” মানুষ চায় ফের মমতার সরকার, দাবি ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের? সত্যিই কি মমতার তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন সম্ভব? ভেতরের কথা ফাঁস করে কী বললেন অভিনেত্রী?

ওই দর্শক আরও লিখেছেন, “জেতার জন্য প্লটিং, পিছনে ছুঁড়ি মারছে যখন অন্য সবাই। এই মেয়েটির নির্মল সততা সবচেয়ে দামি মনে হল (আমার কাছে)। শিরদাঁড়া সোজা রেখে ঠিকটাকে ঠিক, ভুলকে ভুলবলতে পারাটাই প্রকৃত মানুষের পরিচয়। সোনামণিকে কুর্নিশ।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, সোনামণির ব্যক্তিত্বের যে দিকটি তাঁর সবচেয়ে ভালো লেগেছে, তা হল নিজের সুবিধার কথা না ভেবে ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার সাহস। দর্শকের মতে, প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার জন্য কৌশল করা স্বাভাবিক হলেও সেই কৌশলের আড়ালে অন্যায়কে সমর্থন করা উচিত নয়। এদিকে সোনামণির আপত্তির পর দুর্নিবার জানিয়ে দেন, নিরঞ্জন ক্ষমা চাইলে তাঁকে আবার খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত নিরঞ্জন ক্ষমা চাইলে পুনরায় শুরু হয় ক্যাপ্টেন্সির লড়াই। এরপর সোনামণিকে হারিয়ে নিরঞ্জনই নতুন ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হন। অর্থাৎ সোনামণি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতার ফলাফল নির্ধারিত হয় নতুন করে হওয়া লড়াইয়ের মাধ্যমে।

সবশেষে দর্শক নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে লেখেন, “হয়তো বিগবসের ঘরে সততার দাম নেই। কিন্তু গতকালের এপিসোডে মিথ্যেভাবে পাওয়া জয়কে সোনামণির পত্রপাঠ অস্বীকার করা মন ছুঁয়ে গেল।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই উঠে এসেছে সোনামণির সিদ্ধান্তের মূল তাৎপর্য। বিগ বসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে যেখানে প্রত্যেকেই নিজের জায়গা শক্ত করতে চান, সেখানে সাময়িক সুবিধা ছেড়ে দিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে জেতার দাবি জানানো সহজ নয়। সোনামণির এই আচরণকে তাই দর্শকদের একাংশ সততা, আত্মসম্মান এবং ন্যায্যতার পরিচয় হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ক্যাপ্টেন্সি হাতছাড়া হলেও অভিনেত্রী নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর নিরঞ্জন ও দুর্নিবারের সম্পর্ক এবং ঘরের প্রতিযোগীদের মধ্যে তৈরি হওয়া সমীকরণ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই পর্বে সোনামণির সিদ্ধান্ত যে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে, তা তাঁদের প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট। ক্যাপ্টেন হতে না পারলেও নিজের নীতিতে অটল থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছেন অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page