“পাঁচ মাসেই বুঝে গেছে বাংলা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভালো ছিলেন, এই সরকারকে চাইছে না” “উনি মায়ের রূপ, মমতাময়ী বলে অনেক কিছু বোঝানো যায়, কিন্তু অভিষেক পাক্কা রাজনীতিবিদ…” মানুষ চায় ফের মমতার সরকার, দাবি ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের? সত্যিই কি মমতার তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন সম্ভব? ভেতরের কথা ফাঁস করে কী বললেন অভিনেত্রী?

অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ঘিরে উঠে এল রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা এবং দলবদল নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য। তিনি একদিকে যেমন বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করেছেন, তেমনই অন্যদিকে মমতা ও অভিষেকের প্রতি নিজের আস্থা এবং আনুগত্যের কথাও স্পষ্ট করেছেন। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় না থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের পাঁচ মাসের কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ময়না।

সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে ময়না বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আমার মনে হচ্ছে না শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় ঘুমোতে পারছেন, কারণ সর্বক্ষণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জপে বেড়াচ্ছেন।” তাঁর অভিযোগ, মমতাকে আক্রমণ করার বদলে শুভেন্দুর উচিত উন্নয়নমূলক কাজের দিকে নজর দেওয়া। ময়নার কথায়, “একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাইডে রেখে আপনি আপনার উন্নয়নমূলক কাজগুলো করে দেখান।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, জনসংযোগে গিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বর্তমান সরকারকে নিয়ে অসন্তোষ দেখতে পাচ্ছেন তাঁরা। তাঁর বক্তব্য, “পাঁচ মাসে বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো ছিলেন।” মহিলাদের ভাতা, হকার উচ্ছেদ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উপর কথিত অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের আবেগের কথা বলতে গিয়ে ময়না তাঁকে ‘মমতাময়ী মা’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মায়ের রূপ বলে তাঁকে অনেক কিছু বোঝানো যায়, কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝানো যাবে না, ও একদম পাক্কা রাজনীতিবিদ।” ময়নার দাবি, মমতা মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দলীয় কর্মীদের মনোবল জোগান। ভবানীপুরে প্রচারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, কর্মীরা ঠিকমতো বাড়ি ফিরছেন কি না, সেই খোঁজ রাখার নির্দেশও দিয়েছিলেন মমতা। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ বলে উল্লেখ করে ময়নার দাবি, দলের মধ্যে কারা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেন, তা অভিষেক আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং মমতাকে ঘিরে বিতর্ক রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই অংশ।

দলবদলু নেতাদের নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকাকালীন অনেকে তাঁর কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, অথচ ক্ষমতার পালাবদলের পর তাঁরাই বিরোধিতা করছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজকে যদি আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসতেন, তাহলেও কিন্তু আমরা থাকতাম না, ওরাই থাকত।” তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের প্রতি তাঁদের সমর্থন কোনও পদ বা ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার আশায় নয়, বরং মমতা ও অভিষেকের নীতি-আদর্শের প্রতি বিশ্বাস থেকেই তাঁরা দলের পাশে রয়েছেন। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল নিয়ে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গেও ময়না নীতিগত অবস্থানের প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, ক্ষমতার জন্য দল পরিবর্তন করলে মানুষের বিবেকের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।

আরও পড়ুনঃ “বাঙালি মায়েরা মুস*লিম মায়ের মতো বিরিয়ানি বানাতেই পারে না…ঈদে ওদের সঙ্গে বসে একই থালায় খাই”, “শুভেন্দু অধিকারী কে? এখনও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী!” দুর্গাপুজোর আবহে একের পর এক বড় মন্তব্য মৌসুমী ভট্টাচার্যের! ‘ওদের হাতের বিরিয়ানি তো স্বাদ হবেই থু*তু ছিটিয়ে রান্না করে’, ‘আসল কথা বলুন বি*ফ ভালো রান্না করে, ওটাই খেতে যান’ নেটপাড়ায় কটাক্ষবিদ্ধ অভিনেত্রী!

এদিকে, বিরোধী দলগুলিকে একজোট হওয়ার আহ্বান, কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সিপিএমকে নিয়ে বৃহত্তর জোট গঠনের প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন ময়না। অধীর রঞ্জন চৌধুরীর কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আহ্বান সম্পর্কে তিনি জানান, ইন্ডিয়া জোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তাই এই বক্তব্য থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্য কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কারণ নেই। পাশাপাশি, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর পদত্যাগের দাবি সমর্থন করে ময়না বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতেই হবে, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।” তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও মমতা-অভিষেকের পাশে থাকার অবস্থান থেকে সরতে নারাজ তিনি।

You cannot copy content of this page