বিনোদন জগতকে ঘিরে নানান সময়ে নানান ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা, পরিচিতি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত যোগাযোগ নিয়েও কথা বলেন অনেকে। কেউ কেউ আবার দাবি করেন, ইন্ডাস্ট্রিতে সুযোগ পাওয়ার পিছনে এমন কিছু কারণ থাকে, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তারকাদের পাশাপাশি প্রযোজক, পরিচালক এবং অন্যান্য পরিচিত ব্যক্তিত্বদের নিয়েও বিতর্ক নতুন কিছু নয়। সামাজিক মাধ্যমে কোনও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়েই মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয়ে যায় আলোচনা। তবে সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। সম্প্রতি বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতাকে ঘিরে এমনই একটি বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে।
শ্রীকান্ত মোহতা বাংলা চলচ্চিত্রের অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। মহেন্দ্র সোনির সঙ্গে তিনি SVF গড়ে তোলেন এবং সংস্থাটি বাংলা ছবির প্রযোজনা ও পরিবেশনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। SVF-এর হাত ধরে একাধিক পরিচিত পরিচালক ও অভিনেতার সঙ্গে কাজ হয়েছে। নতুন ধরনের গল্প এবং নতুন প্রতিভাকে নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও সংস্থাটির দীর্ঘ রেকর্ড রয়েছে। শ্রীকান্ত মোহতা নিজেও সংস্থার সৃজনশীল কাজ এবং নতুন প্রতিভা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই তাঁর মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বকে ঘিরে কোনও অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি হয়। এবারও তেমনই একটি পোস্ট এবং কথিত কথোপকথনের স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চর্চা।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে অকুলিনা রায় মিত্র নামের এক তরুণী নাট্যশিল্পীর একটি পোস্ট সামনে আসে। সেখানে তিনি একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন, যেখানে শ্রীকান্ত মোহতার নামে থাকা একটি প্রোফাইল থেকে তাঁকে কাজের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দেখা যায়। ওই স্ক্রিনশটে কথিত মেসেজে কাজের সঙ্গে বিছানা ভাগ করার শর্তের মতো গুরুতর বক্তব্য রয়েছে। পোস্টটি প্রকাশ করে তরুণী লেখেন, “এই হচ্ছে আসল সত্যি…হয়তো এটা পোস্ট করার পর কেউ আর কাজের জন্য বলবে না। তবুও এতো সাহস দেখে আমারো মনে হলো একটু সাহস দেখাই।” এরপর তিনি আরও লেখেন, “উত্তরে আমি কিছু বলিনি কারণ উত্তরটা আমি সকলের উপর ছাড়লাম।। আশা করি একটা যোগ্য জবাব পাবো আর সেটাই আপনার উত্তর।” তবে একই পোস্টে তিনি নিজেই প্রশ্ন তোলেন, প্রোফাইলটি যদি ভুয়ো হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ পোস্টে অভিযোগের পাশাপাশি প্রকাশিত অ্যাকাউন্টটির পরিচয় নিয়েও সন্দেহের কথা উল্লেখ করেছেন ওই তরুণী।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানান ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে অনেকে অভিযোগটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং প্রকাশিত স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে এমন গুরুতর অভিযোগে কারও নাম জড়িয়ে যাওয়ার আগে প্রোফাইলটি সত্যিই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কি না, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মত উঠেছে। কারণ কোনও ব্যক্তির নামে থাকা একটি সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বা স্ক্রিনশট দেখলেই সেটি তাঁর নিজের বলে ধরে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে পরিচিত কোনও ব্যক্তিত্বের নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই ক্ষেত্রেও প্রকাশিত স্ক্রিনশটটি নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ সামনে না আসা পর্যন্ত অভিযোগটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ফলে ঘটনাটি নিয়ে চর্চার পাশাপাশি স্ক্রিনশট ও প্রোফাইলের সত্যতা যাচাই করাটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবশেষে এই ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সামাজিক মাধ্যমে দেখা তথ্যকে যাচাই না করে সত্যি বলে ধরে নেওয়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে কোনও পরিচিত ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করে কোনও কথোপকথন ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রকাশিত স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে শ্রীকান্ত মোহতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, সংশ্লিষ্ট প্রোফাইলটি তাঁরই কি না এবং মেসেজগুলি সত্যিই তাঁর কাছ থেকে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন, প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে নয়। তরুণী নাট্যশিল্পী যে প্রশ্ন তুলেছেন, তার উত্তর পাওয়ার জন্যও প্রোফাইল ও স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই জরুরি। কারও সম্মান ও ভাবমূর্তির সঙ্গে এমন অভিযোগ সরাসরি জড়িত থাকায় যাচাই ছাড়া কোনও পোস্ট বিশ্বাস বা প্রচার করা মানহানির কারণ হতে পারে। আজকের সামাজিক মাধ্যমের যুগে তাই চোখে পড়া প্রতিটি স্ক্রিনশট বা পোস্টকে সত্যি ধরে নেওয়ার আগে তার উৎস এবং সত্যতা খতিয়ে দেখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ “ইশ মেয়েটা জানতেও পারবে না, শেষবার ঠাম্মিকে দেখতেও পারবে না, খুব প্যাথেটিক!” নন্দিনী বিগ বসের ঘরে, বাইরে প্রয়াত ঠাকুমা মীরা দও, খবর ছড়াতেই আবেগে ভাসল নেটপাড়া! এতদিনের ক্ষোভ ভুলে এবার সহানুভূতি দর্শকদের! কী হয়েছিল অভিনেত্রীর ঠাকুমার, নাতনির উদ্দেশ্যে রেখে গেলেন কি কোনও শেষ বার্তা?
Disclaimer: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত কোনও উক্তি আমাদের নিজস্ব নয়। সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেটিজেনদের মন্তব্য ও প্রকাশিত সংবাদসূত্রের ভিত্তিতে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, কাউকে আঘাত বা ছোট করাও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। উল্লেখিত ব্যক্তিত্বদের নামে উত্থাপিত অভিযোগ বা বক্তব্যগুলির স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়।






